রকমারী বঙ্কিম » রকমারী বঙ্কিম

পাতা তৈরিজানুয়ারি ২৮, ২০১৫; ১৩:০০
সম্পাদনাজানুয়ারি ২৪, ২০২১, ১৬:০৯
দৃষ্টিপাত
বিরহিণীর দশ দশা ১ প্রথম দশা দিনে, বেরি বেরি রোওল শেজে পাড়ি কাঁদে ভূমি লুটি। দ্বিতীয় দশা দিনে, আঁখি মেলি হেরল, শেজ ছাড়ি গা ভাঙ্গিল উঠি৷৷ ২ তৃতীয় দশা দিনে, মৃদু মৃদু হাসিল, বলে কোথা গেলে প্রাণনাথ। চউঠ দশা দিনে, সিনান করি আওল, হাঁড়ি পাড়ি খাওল পান্তা ভাত৷৷ ৩ পঞ্চম ...

বিরহিণীর দশ দশা

প্রথম দশা দিনে,

বেরি বেরি রোওল

শেজে পাড়ি কাঁদে ভূমি লুটি।

দ্বিতীয় দশা দিনে,

আঁখি মেলি হেরল,

শেজ ছাড়ি গা ভাঙ্গিল উঠি৷৷

তৃতীয় দশা দিনে,

মৃদু মৃদু হাসিল,

বলে কোথা গেলে প্রাণনাথ।

চউঠ দশা দিনে,

সিনান করি আওল,

হাঁড়ি পাড়ি খাওল পান্তা ভাত৷৷

পঞ্চম দশা দিনে,

বান্ধি চারু কবরী,

ঢাকাই শাড়িতে দিল ফের।

ষষ্ঠম দশা দিনে,

পিঠা পুলি বানাওল,

কাঁদিতে ২ তার গিলিল তিন সের৷৷

 

সপ্তম দশা দিনে,

সজিনা খাড়া রাঁধিল

বলে প্রাণ বঁধূ কোথা গেলে।

যে খাঁড়া রেঁধেছি ভাই,

তুমি বঁধূ কাছে নাই,

যদি পেট ফাঁপে একা খেলে৷৷

অষ্টম দশা দিনে,

বিরহ বিষাদিনী,

মন দুঃখে কিনিল ইলিশ।

তিতিয়া নয়ন জলে,

ভাজায় ঝোল অম্বলে,

খায় ধনী খান বিশ ত্রিশ৷৷

নবম দশার দিনে,

পেট ফেঁপে ঢাক হলো,

আইল কানাই কবিরাজ।

সই বল কর্মভোগ,

এ ঘোর বিরহ রোগ,

কবিরাজের নাহি ইথে কাজ৷৷

দশম দশা দিনে,

বিরহিণী মরে নরে,

আই ঢাই বিছানায় পড়ি।

কাতরে কহিছে সতী,

কোথা পাব প্রাণপতি,

কোথা পাব পাচকের বড়ি৷৷

বিরহীর দশ দশা,

পন্ পন্ করে মশা,

মাছি উড়ে ছেলে কাঁদে কোলে।

চাকরাণীর চীৎকার,

সইসাঙ্গতির টিট্‌কার,

খেদে কবি ছন্দোবন্ধ ভোলে

 

—‘বঙ্গদর্শন’, ফাল্গুন, ১২৭৯

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান