web analytics

ভ্রমণকাহিনী > পালামৌ

প্রতিক্রিয়া: ভ্রমণপ্রিয় মানুষ যারা পাহাড় আর সাগরের প্রেমে মজেছেন তারা সকলেই বলে থাকেন যে পাহাড় বা সাগর তাদের নীরবে আহবান করে তার বুকে বারে বারে। বিশেষ করে এই দুই জায়গার একঘেয়ে রুপ, স্থিরতা সত্ত্বেও এক অজানা মায়ার টান অনুভব করেন অনেক নাবিক, অনেক পর্বতারোহী। এই মায়ার খেলা যুগ থেকে যুগান্তরে চলে এসেছে। পালামৌ গল্পে লেখক সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এমনই মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়ার অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়েছেন। যদিও এই ভ্রমণ কাহিনী যতটা না ভ্রমণ কাহিনী, তার চেয়ে মানবিক উপাখ্যানের গল্প হিসেবেই ধরা দিবে পাঠকের হৃদয়ে। কিন্তু বাংলা ভ্রমণ সাহিত্যে “পালামৌ” এর নাম স্বগর্বে উচ্চারিত হয়ে এসেছে এর প্রকাশের পর থেকে। আর তাই এর পুরো কৃতিত্ব দিতে হবে লেখক সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি’র কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হুগলীর তৎকালীন ডেপুটি কালেক্টর যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ও হ্যাঁ, উনার আরেকটা পরিচয় হল উনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উনার মধ্যমানুজ অর্থাৎ আপন ভ্রাতা। মেদেনীপুর জেলা স্কুল এবং হুগলী কলেজে শিক্ষা জীবন শেষে তিনি “বর্ধমান কমিশনার অফিস” এ কেরানী হিসেবে কর্মজীবন আরম্ভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। বঙ্গাব্দ ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ সাল পর্যন্ত উনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রবর্তিত “বঙ্গদর্শন” পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৮৯৯ সালে এই অসীম প্রতিভাধর কিন্তু অনালোচিত লেখক মৃত্যুবরণ করেন। 
যে সকল বইয়ের উৎস দেশ ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে, লেখকের মৃত্যুর ষাট বছর পর স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত অথবা বেনামে বা ছদ্মনামে ও মরণোত্তর প্রকাশিত রচনা বা গ্রন্থসমূহ প্রথম প্রকাশের ষাট বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ, ১ জানুয়ারি 2019 সালে, 1959 সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।

Leave a Reply

WhatsApp chat