সিরিজ: প্রোফেসর শঙ্কু
প্রথম প্রকাশ: ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দ
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা
ভাষা: বাংলা
দেশ: ভারত
স্বত্বাধিকারী: প্রকাশক
ইপাব, মুবি, পিডিএফ
সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু সত্যজিৎ রায় রচিত প্রোফেসর শঙ্কু সিরিজের তৃতীয় বই। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে। প্রকাশক আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা। এই গ্রন্থে সঙ্কলিত হয় পাঁচটি গল্প। এগুলো সত্যজিৎ রায় সম্পাদিত ‘সন্দেশ’ ও ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল।
সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু গ্রন্থের গল্পগুলি সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্যাদি নিচে দেওয়া হল:
প্রথম গল্প: স্বপ্নদ্বীপ।
প্রথম প্রকাশ: সন্দেশ পত্রিকা, মে-জুন ১৯৭১ সংখ্যায়।
গ্রন্থ: সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৭৪।
কাহিনী: প্রফেসর শঙ্কু স্বপ্নে এক দ্বীপের দেখা পান। সেই দ্বীপে যাওয়ার জন্য তিনি তার জনাকয়েক বন্ধু ও প্রতিবেশী অবিনাশ বাবুকে নিয়ে যাত্রা করেন। কিন্তু সে দ্বীপটি ছিল একটি জীবিত প্রাণী যা জ্ঞান ভক্ষণ করে বেঁচে থাকে ও জ্ঞানী মানুষদের কাছে আসতে প্ররোচিত করে। সে দ্বীপটি প্রফেসর শঙ্কু ও তার বন্ধুদের সারা জীবনের জ্ঞান ভক্ষণ করে শিশুর ন্যায় বানিয়ে দেয়। অবিনাশ বাবুর কল্যাণে তারা রক্ষা পান।
দ্বিতীয় গল্প: আশ্চর্য প্রাণী।
প্রথম প্রকাশ: শারদীয় সন্দেশ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৭১।
গ্রন্থ: সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৭৪।
কাহিনী: জার্মানীর পাগল বৈজ্ঞানিক হামবোল্টের ল্যাবরেটরিতে হামবোল্ট ও প্রফেসর শঙ্কু নতুন গবেষণা শুরু করে। তারা একটি ফ্লাক্সে একটি আশ্চার্য প্রাণীর সৃষ্টি করে। এই অভাবনীয় সৃষ্টির কৃতিত্ব এককভাবে নিতে চায় বৈজ্ঞানিক হামবোল্ট। কিন্তু প্রফেসর শঙ্কু বেঁচে থাকলে তা সম্ভব হবে না মনে করে হামবোল্ট প্রফেসর শঙ্কুকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। হামবোল্টের নির্দেশে তার চাকর প্রফেসর শঙ্কুকে গুলি করে হত্যা চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। এরপর ল্যাবরেটরিতে প্রফেসর শঙ্কুকে বন্দি করে ‘সাঙ্ঘাতিক কাবোডিমন গ্যাস’ দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করে হামবোল্ট। এবারও আশ্চার্যজনক ভাবে বেঁচে যান প্রফেসর শঙ্কু। সর্বশেষ নিজের পালিত কুকুর ‘নেপোলিয়ন’কে লেলিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে, এবার নিজের সৃষ্ট আশ্চার্য প্রাণী আশ্চার্য এক রশ্মি দিয়ে সেই কুকুর নেপোলিয়ন ও হামবোল্টকে অচেতন করে দেয়। বেঁচে যান প্রফেসর শঙ্কু।
তৃতীয় গল্প: মরুরহস্য।
প্রথম প্রকাশ: সন্দেশ, মে-জুন ১৯৭২ সংখ্যায়।
গ্রন্থ: সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৭৪।
কাহিনী: দক্ষিণ আমেরিকার বোলিভিয়ায় মার্কিন বিজ্ঞানী ডাম্‌বার্টনের সঙ্গে একটি সদ্য-আবিষ্কৃত প্রাগৈতিহাসিক গুহা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে শঙ্কু সেই গুহায় এক পঞ্চাশ হাজার বছর বয়সী গুহামানব এবং বেশ কিছু প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর সন্ধান পান। কিন্তু তাঁদের চোখের সামনেই একটি প্রচণ্ড ভূমিকম্পে সেগুলি মাটির তলায় বিলীন হয়ে যায়।
চতুর্থ গল্প: কর্ভাস।
প্রথম প্রকাশ: পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৭২ সংখ্যায়।
গ্রন্থ: সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৭৪।
কাহিনী: পাখি সম্পর্কে শঙ্কুর অগাধ কৌতূহল শঙ্কুকে প্ররোচিত করে একটি পাখি পড়াবার যন্ত্র(অরনিথন) আবিষ্কার করাতে। ঘটনাক্রমে সে সেই যন্ত্রে-র সাহায্যে একটি কাক (যার নামকরণ করেন শঙ্কু কর্ভাস রুপে) শিক্ষিত হয়ে ওঠার সুযোগ পায়। সেই পাখিটি আবার শঙ্কুর সাথে রওনা দেয় সানতিয়াগো-এর পক্ষী সম্মেলনে। সেখানে কর্ভাস লোভী যাদুকর আর্গাস এর লোভের শিকার আশ্চর্য শিক্ষিত কর্ভাস চুরিকৃত হয়ে নিজেই নিজের রক্ষা করে অসম সাহস ও বুদ্ধির পরিচয় দেয়।
পঞ্চম গল্প: ডক্টর শেরিং-এর স্মরণশক্তি।
প্রথম প্রকাশ: পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৭৪ সংখ্যায়।
গ্রন্থ: সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৭৪।
কাহিনী: প্রোফেসর শঙ্কু এবার তৈরী করলেন ‘রিমেমব্রেন’ নামক যন্ত্র যার দ্বারা মানুষের বিস্মৃত স্মৃতি ফিরিয়ে আনা যায়। অন্যদিকে ডক্টর শেরিং নামক একজন বৈজ্ঞানিক ও তার বন্ধু বৈজ্ঞানিক লুবিন মিলে আবিষ্কার করলেন মরণাস্ত্র। কিন্তু ডক্টর শেরিং ও লুবিন এক সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হলে লুবিন মারা যান, আর শেরিং হারান স্মৃতি শক্তি। বুশ নামক আরেকজন বৈজ্ঞানিক ডক্টর শেরিঙের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে প্রোফেসর শঙ্কুর সহযোগিতা কামনা করেন। শঙ্কুও সুযোগের হাতছাড়া করতে চান না। তিনি নিজের তৈরী ‘রিমেমব্রেন’ নিয়ে চলে গেলেন ডক্টর শেরিঙের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে। শঙ্কুর আবিষ্কৃত যন্ত্রের দ্বারা শেরিঙের স্মৃতি ফিরে আসে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, গাড়ির নিখোঁজ হওয়া চালক কোথায়? এটা কি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? অবশেষে চালকের লাশ পাওয়া যায় ঘটনাস্থল থেকে অনেক নিচে এক গাছের উপর। অবশেষে প্রোফেসর শঙ্কুই ঘটনার জট খুলে দেন। প্রমাণ করে দেন, গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েনি, পরিকল্পিতভাবেই প্রোফেসর শেরিং তার বন্ধু ও সহবৈজ্ঞানিক লুবিন ও গাড়ির চালককে হত্যা করে।
Read online or Download this book
বইটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে, লেখকের মৃত্যুর ষাট বছর পর স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত অথবা বেনামে বা ছদ্মনামে ও মরণোত্তর প্রকাশিত রচনা বা গ্রন্থসমূহ প্রথম প্রকাশের ষাট বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত বা পূর্বে মৃত লেখকের সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে৷
রচনাবলী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত বইসমূহ