সিরিজ: প্রোফেসর শঙ্কু
প্রথম প্রকাশ: ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দ
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা
ভাষা: বাংলা
দেশ: ভারত
স্বত্বাধিকার: প্রকাশক
ইবুক ফরমেট: ইপাব, মুবি, পিডিএফ
প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় চরিত্র৷ ১৯৬১ সালে, বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদা-রও আগে, সত্যজিৎ রায় এই চরিত্রটি সৃষ্টি করেন৷ প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু প্রোফেসর শঙ্কু নামেই সমধিক পরিচিত৷ তিনি একজন বৈজ্ঞানিক ও আবিষ্কারক৷ তাঁর বিশেষত্ব হলো, মূলত পদার্থবিজ্ঞানী হলেও বিজ্ঞানের সকল শাখায় তাঁর অবাধ গতি; তিনি ৬৯টি ভাষা জানেন ও হায়ারোগ্লিফিক পড়তে পারেন; এবং বিশ্বের সকল দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি ও বিশ্বসাহিত্য বিষয়ে তাঁর সম্যক ধারণা আছে৷ প্রোফেসর শঙ্কু তীক্ষ্ণবুদ্ধি, নির্লোভ, সৎ ও স্বদেশপ্রেমিক; ভারতের সনাতন ঐতিহ্য সম্পর্কে তিনি শ্রদ্ধাবান এবং একই সঙ্গে শ্রদ্ধা করেন সমগ্র বিশ্বের প্রাচীন সাহিত্য ও শিল্পকেও৷
সত্যজিৎ রায় প্রোফেসর শঙ্কু সিরিজে মোট ৩৮টি সম্পূর্ণ ও ২টি অসম্পূর্ণ গল্প লিখেছেন৷ এই সিরিজের প্রথম গল্প ব্যোমযাত্রীর ডায়রি ১৯৬১ সালে সন্দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়৷ এই গল্পটি হালকা চালে লেখা এবং এটি লেখার সময় লেখক প্রোফেসর শঙ্কু চরিত্রটি নিয়ে সিরিজ করার কথা ভাবেননি৷ ১৯৬৪ সালে সন্দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত দ্বিতীয় শঙ্কু-কাহিনী প্রোফেসর শঙ্কু ও হাড় থেকে যথাযথভাবে শঙ্কু সিরিজের সূচনা হয়৷ ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত ‘প্রোফেসর শঙ্কু’ শঙ্কু সিরিজের প্রথম গল্পগ্রন্থ৷ ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে শঙ্কু সিরিজের মোট আটটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়৷ পরবর্তীকালে শঙ্কুসমগ্র গ্রন্থে এই সিরিজের সকল গল্প সঙ্কলিত হয়৷
প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা সত্যজিৎ রায় রচিত প্রোফেসর শঙ্কু সিরিজের দ্বিতীয় বই। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে। প্রকাশক আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা। এই গ্রন্থে সঙ্কলিত হয় পাঁচটি গল্প। এগুলো সন্দেশ ও আনন্দমেলা ম্যাগাজিনে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা গ্রন্থের গল্পগুলি সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্যাদি নিচে দেওয়া হল:
প্রথম গল্প: প্রোফেসর শঙ্কু ও রোবু।
প্রথম প্রকাশ: সন্দেশ পত্রিকা, ফেব্রুয়ারি-মার্চ ১৯৬৮ সংখ্যায়।
গ্রন্থ: প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা, ১৯৭০।
কাহিনী: প্রফেসর শঙ্কু এ গল্পে একটি অত্যাধুনিক রোবট উদ্ভাবন করেন যার মাধ্যমে তিনি জার্মান বিজ্ঞানীর শয়তান রোবট ধ্বংস করেন।
দ্বিতীয় গল্প: প্রোফেসর শঙ্কু ও রক্তমৎস্য রহস্য।
প্রথম প্রকাশ: সন্দেশ, মে-জুন ১৯৬৪।
গ্রন্থ: প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা, ১৯৭০।
কাহিনী: জাপানি বিজ্ঞানী হামাকুরা ও তানাকার সঙ্গে শঙ্কু ও অবিনাশবাবু সমুদ্রের তলদেশে অদ্ভুত এক লাল মাছের সন্ধানে অভিযান চালান। জানতে পারেন এই লাল মাছ আসলে ভিন গ্রহের প্রাণী, যারা স্থলের তুলনায় জলেই বেশি স্বচ্ছন্দ। কিন্তু পৃথিবীর পরিমণ্ডল সুবিধাজনক না হওয়ায় তারা আবার মহাশূন্যে ফিরে যায়। শঙ্কুরা এই ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকেন।
তৃতীয় গল্প: প্রোফেসর শঙ্কু ও কোচাম্বার গুহা।
প্রথম প্রকাশ: সন্দেশ, মে ১৯৬৯ সংখ্যায়।
গ্রন্থ: প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা, ১৯৭০।
কাহিনী: দক্ষিণ আমেরিকার বোলিভিয়ায় মার্কিন বিজ্ঞানী ডাম্‌বার্টনের সঙ্গে একটি সদ্য-আবিষ্কৃত প্রাগৈতিহাসিক গুহা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে শঙ্কু সেই গুহায় এক পঞ্চাশ হাজার বছর বয়সী গুহামানব এবং বেশ কিছু প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর সন্ধান পান। কিন্তু তাঁদের চোখের সামনেই একটি প্রচণ্ড ভূমিকম্পে সেগুলি মাটির তলায় বিলীন হয়ে যায়।
চতুর্থ গল্প: প্রোফেসর শঙ্কু ও গোরিলা।
প্রথম প্রকাশ: শারদীয় সন্দেশ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৬৯ সংখ্যায়।
গ্রন্থ: প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা, ১৯৭০।
কাহিনী: ইংলন্ডের বিখ্যাত প্ৰাণীতত্ত্ববিদ অধ্যাপক জেমস ম্যাসিংহ্যাম আফ্রিকার জঙ্গলে হারিয়ে গেছেন। তাকে উদ্ধার করা জন্য প্রোফেসর শঙ্কু তার বিজ্ঞানী বন্ধু গ্রেগরিকে নিয়ে আফ্রিকার জঙ্গলে চলে যান, সাথে নেন তাঁর প্রতিবেশি অবিনাশকে। সেখানে গিয়ে প্রোফেসর গ্রেগরি ও প্রোফসর শঙ্কু নিখোঁজ হন। তাদের খুঁজে বের করেন তাদের আফ্রিকান রক্ষী ক্যাবলা ও অবিনাশ। প্রোফেসর জেমস ম্যাসিংহাম তার বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন দিয়ে গোরিলাদের নিজের আনুগত করে নেয়। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি প্রোফেসর গ্রেগরি ও প্রোফেসর শঙ্কুকে বন্দি করেন, তার ইচ্ছে এই দুই বিজ্ঞানী তার বশ্যতা স্বীকার করে তার গবেষণায় সহযোগিতা করবে। কিন্তু ক্যাবলা ও অবিনাশের সাহসী পদক্ষেপের কারণে তারা প্রোফেসর ম্যাসিংহামকে বন্দি করে প্রোফেসর গ্রেগরি ও প্রোফেসর শঙ্কুকে উদ্ধার করেন।
পঞ্চম গল্প: প্রোফেসর শঙ্কু ও বাগদাদের বাক্স।
প্রথম প্রকাশ: সন্দেশ, মার্চ-এপ্রিল ১৯৭০ সংখ্যায়।
গ্রন্থ: প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা, ১৯৭০।
কাহিনী: বাগদাদের স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিক হাসান আল হাব্বাস্‌ শঙ্কুকে আলিবাবার গুহা আর একটি আশ্চর্য বাক্সের সন্ধান দেন। বাক্সটি পরীক্ষা করে শঙ্কু দেখেন, এটি আসলে চার হাজার বছর আগে তোলা এক চলচ্চিত্র, যার স্রষ্ঠা জাদুকর-বিজ্ঞানী গেলাম নিশাহি অল্‌ হারারিৎ। নিজের আবিষ্কৃত চলচ্চিত্র নির্মাণ পদ্ধতিতে উর দেশের এক তৎকালীন রাজার শবযাত্রার চলচ্চিত্রায়ণ করেছিলেন তিনি।
Read online or Download this book
বইটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে, লেখকের মৃত্যুর ষাট বছর পর স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত অথবা বেনামে বা ছদ্মনামে ও মরণোত্তর প্রকাশিত রচনা বা গ্রন্থসমূহ প্রথম প্রকাশের ষাট বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত বা পূর্বে মৃত লেখকের সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে৷
রচনাবলী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত বইসমূহ