সিরিজ: প্রোফেসর শঙ্কু
প্রথম প্রকাশ: ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা
ভাষা: বাংলা
দেশ: ভারত
স্বত্বাধিকার: প্রকাশক
ইবুক ফরমেট: ইপাব, মুবি, পিডিএফ
মহাসঙ্কটে শঙ্কু সত্যজিৎ রায় রচিত প্রোফেসর শঙ্কু সিরিজের চতুর্থ বই৷ গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সালে৷ প্রকাশক আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা৷ এই গ্রন্থে সঙ্কলিত হয় তিনটি গল্প৷ এগুলো সত্যজিৎ রায় সম্পাদিত ‘সন্দেশ’ ও ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল৷
মহাসঙ্কটে শঙ্কু গ্রন্থের গল্পগুলি সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্যাদি নিচে দেওয়া হল:
প্রথম গল্প: গল্প: হিপনোজেন৷
প্রথম প্রকাশ: সন্দেশ, এপ্রিল-মে-জুন সংখ্যা, ১৯৭৬৷
গ্রন্থ: মহাসঙ্কটে শঙ্কু, ১৯৭৭৷
কাহিনী: নরওয়ের এক অজ্ঞাত ব্যক্তির দাওয়াত পেয়ে প্রফেসর শঙ্কু, প্রফেসর সামারভিল, গ্রীক বৈজ্ঞানিক পাপাডোপুলস নরওয়েতে আসেন বিশ্বের সেরা বৈজ্ঞানিকের সাথে দেখা করতে৷ তারা নরওয়েতে এসে বুঝতে পারেন তাদের ডেকে আনা ক্রাগ একজন বৈজ্ঞানিক, যে দীর্ঘায়ু ও মৃত মানুষকে জীবিত করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে৷ এক শ’ পঞ্চাশ বছর বয়সী ক্রাগের মৃত্যু হলে প্রফেসর শঙ্কু ও প্রফেসর সামারভিল ক্রাগ নির্দেশিত পদ্ধতিতে মৃত ক্রাগকে জীবিত করতে গিয়ে জানতে পারেন পাপাডোপুলস নামে যে লোক বৈজ্ঞানিক হিসেবে তাদের সাথে এসেছেন তিনি আসলে বৈজ্ঞানিক পাপাডোপুলস নয়৷ তিনি বৈজ্ঞানিক পাপাডোপুলসের ভাই এবং একজন বিখ্যাত চোর৷ বৈজ্ঞানিক ক্রাগ হিপনোজেন নামক একটা গ্যাস আবিষ্কার করেছেন, যার দ্বারা যেকোন প্রাণীকে সম্মোহিত করে রাখা যায়৷ ক্রাগ কিছু একটা ব্ল্যাক প্যান্থারকে সম্মোহিত করে বন্দি করে রাখেন, তার বন্দি খানায় আরও অনেক হিংস্র প্রাণী বন্দি দশায় রয়েছে৷ মৃত ক্রাগ জীবিত হয়ে প্রফেসর শঙ্কু ও প্রফেসর সামারভিলকে সম্মোহিত করে রাখার ঘোষণা দেয়৷ এদিকে বৈজ্ঞানিক দায়িত্ব পালন না করায় পাপাডোপুলসকে কঠিন শাস্তির ঘোষণা দেয়৷ কিন্তু ইতোমধ্যে খবর আসে, পাপাডোপুলস পালিয়ে গেছে৷ পরে পলাতক পাপাডোপুলসের বুদ্ধিতেই রক্ষা পান প্রফেসর শঙ্কু ও সামারভিল৷ আর সম্মোহিত ব্ল্যাকপ্যান্থার তার ফিরে পায় স্বাভাবিক জীবন৷ ব্ল্যাকপ্যান্থারের আক্রমণে নিহত হয় বৈজ্ঞানিক ক্রাগ৷
দ্বিতীয় গল্প: শঙ্কুর শনির দশা৷
প্রথম প্রকাশ: আনন্দমেলা, শারদীয়া সংখ্যা, ১৯৭৬৷
গ্রন্থ: মহাসঙ্কটে শঙ্কু, ১৯৭৭৷
কাহিনী: গ্রোপিয়াস নামক একজন বৈজ্ঞানিক প্রফেসর শঙ্কুর সাথে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে পাল্লা দিয়ে না পেরে প্রফেসর শঙ্কুকে বিনাশ করার লক্ষ্যে এক নকল শঙ্কু তৈরী করেন৷ এই নকল শঙ্কু ইন্‌সব্রুকের এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে আরেক বৈজ্ঞানিক ফিংকেলস্টাইনের গবেষণাকে তাচ্ছিল্য করে বাজে বক্তৃতা দেয়৷ বৈজ্ঞানিক মহলে বিষয়টা নিয়ে সাড়া পড়ে যায়৷ বৈজ্ঞানিক গ্রোপিয়াস শঙ্কুকে বলে তুমি মানসিকভাবে অসুস্থ, তোমার চিকিৎসার দরকার৷ তুমি ইন্‌সব্রুকে এসো, আমার পরিচিত ভালো ডাক্তার দেখাবো তোমাকে৷ প্রোফেসর শঙ্কু নকল-শঙ্কুকে ধরার জন্য ইন্‌সব্রুকে চলে আসেন৷ তার বন্ধু বৈজ্ঞানিক সামারভিলকেও আসার জন্য টেলিগ্রাফ পাঠান৷ এদিকে বৈজ্ঞানিক ফিংকেলস্টাইন ঘটনার দিনই বুঝতে পারেন এই সম্মেলেনে বক্তৃতা প্রদানকারী শঙ্কু আসল শঙ্কু নয়৷ ঘটনা জানতে পারে গ্রোফিয়াস, তিনি নকল শঙ্কুকে পাঠিয়ে ফিংকেলস্টাইনকে হত্যা করেন৷ এরপর সামারভিল ও প্রফেসর শঙ্কুর প্রচেষ্টায় ধরা পড়ে নকল শঙ্কু৷ পুলিশ ষড়যন্ত্রকারী গ্রোপিয়াসকে গ্রেফতার করে, আর প্রফেসর শঙ্কু তার নিজের আবিষ্কৃত অ্যানাইহিলিন পিস্তল দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেন নকল শঙ্কুকে৷
তৃতীয় গল্প: শঙ্কুর সুবর্ণ সুযোগ৷
প্রথম প্রকাশ: সন্দেশ, এপ্রিল-মে-জুন সংখ্যা, ১৯৭৭৷
গ্রন্থ: মহাসঙ্কটে শঙ্কু, ১৯৭৭৷
কাহিনী: প্রফেসর শঙ্কু ও তার দুই বন্ধু ক্রোল ও সন্ডার্স মিলে স্পেন যায় প্রাচীন এলকেমী পদ্ধতির প্রয়োগের মাধ্যমে সোনা তৈরী করতে৷ এক জীপসি মহিলা ও প্লানচ্যাটে আরবীয় বৈজ্ঞানিক জীবর আল হাইয়ান জানিয়েছে, সোনা তৈরী পরীক্ষায় তারা সফল হবে, তবে সোনার মূল্য হবে জীবন৷ মৃত্যুর আশঙ্কা সামনে নিয়েই তারা পরীক্ষা শুরু করে৷ সফলতার দ্বারপ্রান্তে এসে তারা বুঝতে পারেন, সফল ভাবে সোনা তৈরী হয়তো সম্ভব হবে না৷ কেননা, সোনা তৈরীর জন্য প্রস্তুত বিশেষ দ্রবণে হাতের কাছে থাকা যাবতীয় ধাতব পদার্থ ডুবিয়েও কোন সফলতা তারা দেখেননি৷ কিন্তু আমেরিকান যাদুকর ‘রিউফাস ব্ল্যাকমোর’ চুড়ান্ত সময়ে এসে তাদের আক্রমণ করে বসে৷ এই সময় বৈজ্ঞানিক সন্ডার্সের গৃহপালিত বিড়ালের আক্রমণে ব্ল্যাকমোর পড়ে যান সোনা তৈরী করা জন্য প্রস্তুতকৃত বিশেষ দ্রবণে৷ চোখের সামনেই ব্ল্যাকমোর সোনায় পরিণত হয়৷ শঙ্কুরা বুঝতে পারে, এই সোনা কোন ধাতু থেকে নয়, প্রাণী থেকেই তৈরী হয়৷
Read online or Download this book
বইটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে, লেখকের মৃত্যুর ষাট বছর পর স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত অথবা বেনামে বা ছদ্মনামে ও মরণোত্তর প্রকাশিত রচনা বা গ্রন্থসমূহ প্রথম প্রকাশের ষাট বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত বা পূর্বে মৃত লেখকের সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে৷
রচনাবলী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত বইসমূহ