সর্বহারা » সর্বহারা

পাতা তৈরিঅক্টোবর ১০, ২০২০; ০২:৪২
সম্পাদনাঅক্টোবর ১০, ২০২০, ০২:৫৬
দৃষ্টিপাত

সর্বহারা ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ) মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। প্রকাশক ব্রজবিহারী বর্মণ রায়, বর্মণ পাবলিশিং হাউস, ১৯৩ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট, কলিকাতা। পৃষ্ঠা সংখ্যা ২+৬৪, মূল্য এক টাকা ছয় আনা। এতে সর্বহারা, কৃষাণের গান, শ্রমিকের গান, ধীবরের গান, ছাত্রদলের গান, কাণ্ডারী হুঁশিয়ার, সাম্যবাদী, ফরিয়াদ, আমার কৈফিয়ৎ, প্রার্থনা ও গোকুল নাগ—এই এগারোটি কবিতা অন্তভূক্ত হয়।

১৩৫৯ বঙ্গাব্দে কলকাতার নলেজ হোম থেকে সর্বহারার দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এতে সাম্যবাদী ও সর্বহারার কিছু কবিতা এবং গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত কিছু কবিতা সংগৃহীত হয়। এই সংস্করণের মুখবন্ধ রচনা করেন রবীউদ্দীন আহমদ। এই সংস্করণে সর্বহারা থেকে কৃষাণের গান, শ্রমিকের গান, ধীবরের গান এই তিনটি কবিতা; সাম্যবাদী থেকে চোর-ডাকাত, মিথ্যাবাদী, রাজা-প্রজা, সাম্য এই চারটি কবিতা; সর্বহারা থেকে প্রার্থনা, এবং গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত চাষার গান, ছাদপেটার গান, চীন ও ভারত, নারী, চাষীর গান, এই দেশ কার, বিদায় মাভৈ, জাকাত লইতে এসেছে ডাকাত চাঁদ ও শ্রীমান আবদুল মুহিত চৌধুরী স্নেহভাজনেষু সঙ্কলিত হয়। শেষোক্ত কবিতাগুলোর বেশির ভাগই সর্বহারা প্রথম প্রকাশের অনেক পরে লিখিত। এই সংস্করণের অন্তর্ভুক্ত নারী ও সাম্যবাদীর নারী স্বতন্ত্র কবিতা। সর্বহারা গ্রন্থের উৎসর্গপত্র বদলে দিয়ে এই সংস্করণে ‘উৎসর্গ—মুজফ্ফর আহমদ-কে’ মুদ্রিত হয়। বাংলা একাডেমি নজরুল রচনাবলী জন্মশতবর্ষ সংস্করণে সর্বহারা প্রথম সংস্করণের পাঠ ও ক্রম অনুসরণ করেছে।

উৎসর্গ-কবিতাটি ‘সর্বহারা’ শিরোনামে ১৩৩৩ আশ্বিনের সওগাতে প্রকাশিত হয়েছিল।

সর্বহারা কবিতাটি ২৫শে চৈত্র ১৩৩২; কৃষাণের গান ৮ই পৌষ ১৩৩২; এবং শ্রমিকের গান ৬ই ফাল্গুন ১৩৩২ তারিখের ‘লাঙলে’ বের হয়েছিল। ২৩শে মাঘ ১৩৩২ মুতাবিক ৬ই ফেব্রুয়ারি ১৯২৬ তারিখে কৃষ্ণনগরে নিখিল বঙ্গীয় প্রজা সম্মিলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের উদ্বোধনী সঙ্গীত-রূপে কাজী নজরুল ইসলাম ‘শ্রমিকের গান’ গেয়েছিলেন।

ধীবরের গান ৪ঠা চৈত্র ১৩৩২ মুতাবিক ১৮ই মার্চ ১৯২৬ তারিখে লাঙলে জেলেদের গান শিরোনামে ছাপা হয়েছিল; তার পাদটীকায় মুদ্রিত ছিল—”মাদারীপুরে নিখিল বঙ্গীয় ও আসাম প্রদেশীয় সৎজীবী সম্মিলনীর তৃতীয় অধিবেশনের উদ্বোধন-সঙ্গীত।” উক্ত সম্মিলনী সম্পর্কে সে সংখ্যার লাঙলে বলা হয়—”গত ১১ই ও ১২ই মার্চ (২৭শে ও ২৮শে ফাল্গুন) তারিখে ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর শহরে সৎসজীবী সম্মিলনীর তৃতীয় অধিবেশন হয়। ১০ই মার্চ সন্ধ্যায় সভাপতি শ্রীযুক্ত হেমন্তকুমার সরকার মহাশয় ষ্টিমার-যোগে আসেন। তাঁর সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম, শ্রীযুক্ত বসন্তকুমার মজুমদার ও শ্রীমতি হেমপ্রভা মজুমদার ছিলেন।”

ছাত্রদলের গান ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে কৃষ্ণনগরে ছাত্র ও যুব-সম্মেলনের উদ্বোধন-সঙ্গীত রূপে কবি কর্তৃক গীত হয়েছিল।

কাণ্ডারী হুঁশিয়ার ১৩৩৩ জ্যৈষ্ঠের ‘বঙ্গবাণী’তে বের হয়েছিল। পাদটীকায় লেখা ছিল—”কৃষ্ণনগর প্রাদেশিক সম্মিলনীতে গীত।” ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে মে কৃষ্ণনগরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন-সঙ্গীত রূপে কবি কর্তৃক গীত হয়েছিল। ১৩৩৩ আশ্বিনের ‘কালি-কলমে’ এই গানটি কবিকৃত স্বরলিপিসহ প্রকাশিত হয়।

আমার কৈফিয়ৎ ১৩৩২ আশ্বিনে ৫ম বর্ষের ৪১শ সংখ্যক ‘বিজলী’তে বের হয়েছিল।

গোকুল নাগ ১৩৩২ অগ্রহায়ণের কল্লোলে ছাপা হয়েছিল। গোকুলচন্দ্র নাগ ১৯২২ হতে ১৯২৫ পর্যন্ত কল্লোল পত্রিকায় সহসম্পাদক ছিলেন। তার গল্পগ্রন্থ সোনার ফুল ও উপন্যাস পথিক সুপরিচিত। তিনি ১৩৩২ সালের ৮ই আশ্বিন একত্রিশ বৎসর বয়সে দার্জিলিঙে পরলোকগমন করেন।

সূচিপত্র

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান