রায়নন্দিনী » একবিংশ পরিচ্ছেদ : মিলন

উপনাম মিলন
পাতা তৈরিঅক্টোবর ২৫, ২০২০; ০০:৪৫
সম্পাদনাঅক্টোবর ২৫, ২০২০, ০০:৪৫
দৃষ্টিপাত
মাসাধিক কাল পরে বীরবর ঈসা খাঁ সম্পূর্ণ সুস্থ ও পূর্ববৎ বলিষ্ঠ হইলেন। সোলতান নিজাম শাহ উৎফুল্লচিত্তে এক দরবার আহবাস করিয়া ঈসা খাঁর স্বার্থত্যাগ, স্বজাতি-প্রেম এবং প্রখর বীরত্বের জন্য মুক্তকণ্ঠে প্রশংসা করিয়া সোলতান চতুষ্টয়ের পক্ষ হইতে হীরকের মুষ্টিযুক্ত একখানি বণ্ডমূল্য তরবারি, বণ্ডমূল্য রাজকীয় পরিচ্ছেদ, একটি অত্যদ্‌ভুদ ঘটিকা-যন্ত্র, একছড়া বৃহদাকারের মুক্তার মালাসহ ...

মাসাধিক কাল পরে বীরবর ঈসা খাঁ সম্পূর্ণ সুস্থ ও পূর্ববৎ বলিষ্ঠ হইলেন। সোলতান নিজাম শাহ উৎফুল্লচিত্তে এক দরবার আহবাস করিয়া ঈসা খাঁর স্বার্থত্যাগ, স্বজাতি-প্রেম এবং প্রখর বীরত্বের জন্য মুক্তকণ্ঠে প্রশংসা করিয়া সোলতান চতুষ্টয়ের পক্ষ হইতে হীরকের মুষ্টিযুক্ত একখানি বণ্ডমূল্য তরবারি, বণ্ডমূল্য রাজকীয় পরিচ্ছেদ, একটি অত্যদ্‌ভুদ ঘটিকা-যন্ত্র, একছড়া বৃহদাকারের মুক্তার মালাসহ “বাবর-জঙ্গ” উপাধি প্রদান করিলেন।

অতঃপর নিজাম শাহের বেগম জান্নাত মহলের আগ্রহ এবং উদযোগে বিজয়নগরেই ঈসা খাঁ এবং স্বর্ণময়ীর বিবাহ-ব্যাপার সম্পন্ন হওয়া স্থিরীকৃত হইল। সোলতান নিজাম শাহ বিপুল উদ্যোগে বিবাহের আয়োজন করিতে লাগিলেন। উদ্বাহ-ক্রিয়ার জন্য বিরাট মহফেল সংগঠিত হইল। রাজ্যময় ধূমধান হৈচৈ পড়িয়া গেল। দশ হাজার লোক বসিতে পারে, এমন বিরাট সভামণ্ডপ নির্মিত হইল। নানা শ্রেণীর দর্পণ, ময়ূরপুচ্ছ, পতাকা, ফুল ও পাতা দ্বারা মজলিস দ্বারা মসলিস আরস্তা করা হইল। দশ সহস্র বেলওয়ার ও স্বর্ণ-রৌপ্য নির্মিত বিচিত্র-দর্শন ঝাড় ও ফানুসের দ্বারা মসলিস রওশন করা হইল। অতিসূক্ষ্ম ‘জড়বফত’ ও ‘শবনম’ দ্বারা দ্বারসমূহের যবনিকা প্রস্তুত করা হইল। কিঙ্খাপ দ্বারা চতুর্দিকের কানাৎ রচিত হইল। বহুসংখ্যক মূল্যবান ‘ক্কালিন’ বিছাইয়া তদুপরি নানাশ্রেণীর চিত্র-বিচিত্র কুর্সী, সোফা ও তখত স্থাপন করা হইল। নির্দিষ্ট দিনে বিপুল আড়ম্বরে শত তোপধ্বনি এবং অযুতকণ্ঠে মঙ্গল-কামনার মধ্যে ঈসা খাঁ এবং শামসুন্নেসার (স্বর্ণময়ীর ইসলামী নাম) শুভ উদ্বাহ ক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া গেল। অতঃপর দুই দিন ধরিয়া নগরে সমস্ত হিন্দু ও মোসলেম অধিবাসী এবং সমাগত সমস্ত ব্যক্তিকে রাজ-ভোজে পরিতৃপ্ত করা হইল। বেগম জান্নাত মহল নব-দম্পতিকে মূল্যবান পরিচ্ছদ, মণিমুক্তাখচিত অলঙ্কার এবং বহু জিনিসপত্র দান করিলেন। সোলতান চতুষ্টয় প্রত্যেকে একশত করিয়া পারস্যসাগরজাত মুক্তা এবং নিজ নিজ রাজ্যের এক সহস্র করিয়া সুবর্ণ মুদ্রা, একটি করিয়া আরব্য অশ্ব এবং একটি করিয়া হস্তী দান করিলেন। আমীর ও সম্ভান্ত ব্যক্তিগণ কেহ মৃগনাভি, কেহ মুক্তা, কেহ সুবর্ণমুদ্রা প্রভৃতি উপহার দান করিলেন। ঈসা খাঁ এবং স্বর্ণময়ী যে পরিমাণ সুজা উপহার পাইয়াছিলেন, তাহার ওজন ৩০২ তোলা হইয়াছিল।

বিবাহের পরে ঈসা খাঁ এবং স্বর্ণময়ী দীন-দুঃখী এবং পান্থ ও বিপন্ন ব্যক্তিদিগকে তিনদিন পর্যন্ত অর্থ বিতরণ করিলেন। এই বিতরণে এক লক্ষ সতর হাজার টাকা ব্যয়িত হয়। অতঃপর সোলতান, বেগম এবং আমীর ওমরাহ ও আলেমদিগকে তিন লক্ষ টাকা মূল্যের টুপি, পাগড়ী, ছড়ি, তরবারি, পরিচ্ছদ, অঙ্গুরী প্রভৃতি উপহার প্রদান করেন।

অতঃপর ঈসা খাঁ বিজয়নগরে স্মৃতি-চিহৃস্বরূপ একটি করিয়া অনাথ আশ্রম এবং শামসুন্নেসা ল মুদ্রা ব্যয়ে একটি রমণীয় মসজিদ প্রতিষ্ঠা করিয়া মাঘ মাসের শেষে স্বদেশ প্রত্যাগমনে উদ্যোগী হইলেন।

সোলতানগর আমীর ও সম্ভান্ত ব্যক্তিবর্গ সহানুভূতি, ভ্রাতৃভাব এবং প্রগাঢ় প্রেমের সহিত সাশ্রুনেত্রে বিদায় প্রদান করিলেন। সহস্র সহস্র কণ্ঠের মঙ্গলধ্বনির মধ্যে মধ্যে বিজায় গ্রহণ করিয়া ঈসা খাঁ তিন দিবস অশ্বারোহণে যাইবার পরে কৃষ্ণা-নদীর কূলে জাহাজে যাইয়া আরোহণ করিলেন। জাহাজ ছুটিবার সঙ্গে সঙ্গেই তীরস্থ জনগণ রুমাল উড়াইয়া “জাজাকাল্লাহু‌” “জাজাকাল্লাহু” বলিয়া উচ্চকণ্ঠে মঙ্গলধ্বনি করিতে লাগিলেন। যতক্ষণ দেখা যাইতে লাগিল, ততক্ষণ পর্যন্ত জাহাজ ও তীরস্থ ব্যীক্তবৃন্দ রুমাল উড়াইতে লাগিলেন।

একদা প্রাতঃকালে উড়িষ্যার উপকূলে চিল্কাহ্রদের তীরে শিকার করিবার মানসে বীরপুরুষ ঈসা খাঁ কতিপয় শিকারী যোদ্ধাসহ ক্ষুদ্র তরণীযোগে জাহাজ হইতে তটে আসিয়া অবতরণ করিলেন। তাঁহারা যখন চিল্কার তট-প্রদেশে নানা জাতীয় হংস, সারস ও চক্রবাক শ্রেণীর পক্ষী শিকার করিয়া হরিণ শিকারের জন্য চিল্কার পশ্চিমাদিকস্থ কাননাভিমুখে অগ্রসর হইতেছিলেন, সেই সময় পথিমধ্যে একস্থান চিল্কার তীরে বহু লোকসমাগম এবং বাদ্যধ্বনি ঈসা খাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করিল। ঈসা খাঁ অচিরেই বুঝিতে পারিলেন যে, একটি হিন্দু-রমণীকে তাহার মৃতপতির চিতায় একসঙ্গে পোড়াইবার জন্য সমারোহ ব্যাপারের সূচনা। ঈসা খাঁ নিজ রাজ্যের সহমরণ প্রথা কঠোর রাজাদেশ প্রচার করিয়া একেবারেই বন্ধ করিয়া দিয়াছিলেন। তজ্জন্য সহমরণ প্রথা যে কিরূপ নিষ্ঠুর ও পৈশাচিক কাণ্ড, তাহা নিজে কখনও প্রত্যক্ষ করিবার সুযোগ পান নাই। ঈসা খাঁ এক্ষণে সুযোগ পাইয়া অশ্ব ছুটাইয়া যাইয়া জনতার নিতান্ত সন্নিকটবর্তী হইয়া দেখিতে পাইলেন যে, একটি পরমাসুন্দরী যুবতী রমণীকে হস্তপদ বন্ধাবস্থায় তাহার স্বামীর চিতায় তুলিয়া দিয়া আগুন ধরাইয়া দিবার আয়োজন করা হইতেছে। নারীটি অতি করুণকণ্ঠে আর্তধ্বনি করিতেছে! একদিকে নারীহত্যার উদ্যোগী পাষণ্ডগণ সেই করুণ ক্রন্দনরোলকে কোলাহলে ডুবাইয়া দিবার জন্য বিপুল উদ্যামে বাজনা বাজাইতেছে।

দেখিতে দেখিতে চিতার আগুণ জ্বলিয়া উঠিল। রমণী ভীষণ চিৎকার করিয়া প্রাণরক্ষা সঙ্কল্পে অন্তিম চেষ্টায় চরম বল-প্রয়োগে চিতা হইতে মাটিতে পড়িবার চেষ্টা করা মাত্র একটি পাষণ্ড হিন্দু ভীমবংশদণ্ড দ্বারা নারীর কটিদেশে আঘাত করিল! ঈসা খাঁ মুহুর্ত মধ্যে ব্যাপার বুঝিয়া অত্যন্ত বিস্মিত এবং যার-পর-নাই শোকসন্তপ্ত কণ্ঠে চীৎকার বলিলেন, “কি কর! কি কর!!” ঈসা খাঁর সঙ্গীয় যোদ্ধাগণও মুহুর্তমধ্যে ঈসা খাঁর নিকটে আসিয়া দাঁড়াইলেন। হিন্দুগণ ঈসা খাঁকে মুসলমান, সুতরাং সহমরণের নিষ্ঠুর প্রথার তীব্র বিরোধী আসিয়া করিয়া বংশদণ্ড, কুঠার, দা, লগুড় ও পাথর হস্তে তাঁহাকে আক্রমণ করিবার জন্য ছুটিয়া আসিল। ইহাতে ঈসা খাঁ নিতান্ত উত্তেজিত এবং ক্রুদ্ধ হইয়া ভীমবেগে তরবারি হস্তে তাহাদিগকে আক্রমণ করিলেন। কয়েকজন আহত হইয়া ভূপতিত হইবার পরেই সকলে বৃকতাড়িত মেষবৎ ঊর্ধ্বশ্বাসে পলায়ন করিতে লাগিল। ঈসা খাঁ বিদ্যুদ্বেগে যাইয়া চিতার উপর হইতে নারীকে স্বহস্তে উঠাইয়া লইলেন। তৎপর তাহার হস্তপদের বন্ধন খুলিয়া দিলেন।

রমণী বন্ধনমুক্ত হইয়া ভক্তিভরে জীবনদাতা ঈসা খাঁর পাদস্পর্শ করিতে করিতে বাম্পাবরুদ্ধকণ্ঠে বলিল, “আমি অরুণাবতী।” বহুদিনের মৃতব্যক্তিকে সহসা জীবিতাবস্থায় দর্শন করিলে যে-পরিমাণ বিস্ময় ও কৌতূহল জন্মিতে পারে, সেই প্রকার বিপুল বিস্ময় ও কৌতূহলে উদ্দীপ্ত হইয়া ঈসা খাঁ বলিলেন যে, “কি অরুণাবতী! আশ্চর্য! সেকি কথা!! তুমি ত অনেক দিন হ’ল বসন্তরোগে মারা গিয়াছে! তুমি এখানে কিরূপে? তুমি কোন্‌ অরুণাবতী? আমি তোমাকে মহারাজ প্রতাপাদিত্যের কন্যা রূপেই দেখতে পাচ্ছি বটে, কিন্তু মনে হচ্ছে তুমি অন্য কোনও অরুণাবতী! শীঘ্র তোমার পরিচয় দাও।”

অরুণাবতী বলিল, “জাঁহাপনা, আমি যশোহরের অধিপতি মহারাজ প্রতাপাদিত্যের কন্যা অরুণাবতীই বটে; আমি মাহতাব খাঁর বাগদত্তা ভার্ষা। আমি বসন্তরোগে মারা যাই নাই। আমার বসন্ত হবার কথাটাই সম্পূর্ণ মিথ্যা! পিতা আমাকে খাঁর সাথে পূর্বে বিয়ে দিতে স্বীকৃত হলেও পরে যুদ্ধে পরাস্ত হওয়ায় জন্য এবং স্বর্ণময়ীকে হস্তগত করতে না পারায় আপনাদের প্রতি যার-পর-নাই জাতক্রোধ হন। মাহতাব খাঁর প্রতি তিনি যার-পর-নাই রুষ্ট এবং বিরক্ত। তাঁহার প্রাণ বধের জন্য তিনি নিতান্তই অধীর ও উন্মক্ত। শুধু দায়ে পড়েই তিনি মাহতাব খাঁর হস্তে আমাকে সমর্পণ করতে চেয়ে ছিলেন। আমাকে বাটীতে লয়ে যাবার কয়েক দিন পরেই আমাকে একটি বিশেষ ঘরে আবদ্ধ করে, চতুর্দিকে রাষ্ট্র করে দিলেন যে, আমি বসন্তরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছি। পরে অন্য একটি রমণীকে বাটী হতে রাজ-আড়ম্বরে শ্মাশানে লয়ে দাহ করা হয়! তা’তেই আপনি ভ্রমে পড়েছেন। বস্তুত;, আমি মারা যাই না। পিতৃদেব আপনাদের হস্ত হতে অব্যাহতি পাবার জন্য আমাকে মেরে ফেলবার জন্যই সংকল্প করেছিলেন; কিন্তু আমার জননী এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের অনুরোধে অবশেষে বীরেন্দ্রকিশোর দত্ত নামক জনৈক নিরাশ্রমে ভদ্রসন্তানের সহিত আমাকে বলপূর্বক বিবাহ দিয়া লোকজনসহ জগন্নাথধামে অতি সঙ্গোপনে পাঠিয়ে দেন। আমাদের জন্য বার্ষিক পাঁচ সহস্র মুদ্রার বৃত্তি বন্দোবস্ত করে দেন। নগদ দশ হাজার টাকা আমাদিগের বাটী ও সরঞ্জামী খরচের জন্য সঙ্গে দিয়েছিলেন। আমি সমস্ত পথই অশ্রুপাত করতে করতে জগন্নাথক্ষেত্রে এসে উপস্থিত হই। স্থলপথে এবং জলপথে ২০ দিনে আমরা পুরীতে এসে হাজির হই।

পুরী যাবার পঞ্চম দিবসে বীরেন্দ্র দত্ত অশ্বারোহণে নির্বিঘ্নে যেতে ছিলেন। সন্ধ্যার প্রাক্কালে এক অরণ্যের অন্তবর্তী পস্থায় সহসা ব্যাঘ্র-দর্শনে অশ্বটি উধাও হ’য়ে তাঁকে পৃষ্ঠ হ’তে ফেলে দিয়ে ছুটে পলায়ন করে। একখণ্ড প্রস্তরের উপর মস্তক ও কটিদেশ পতিত হওয়ায় তিনি অতি সাংঘাতিক রূপে আহত হন। সেই আঘাতে তিনি যার-পর-নাই দুর্বল এবং পীড়িত হয়ে পড়েন। অনবরত কয়েক দিন রক্তবমন করেন। পুরীতে এসে হাকিম ইকবাল খাঁর চিকিৎসায় অনেকটা আরোগ্য লাভ করেন। তৎপর হাকিমের উপদেশে চিল্কাহ্রদের তীরবতী মুণ্ডী নামক স্থানে জলবায়ু উৎকৃষ্টতর বলে সেইখানেই আমরা বাস পরিত্যাগপূর্বক ময়ূরভঞ্জের জনৈক অবধূত সন্ন্যাসীর ঔষধ সেবন করতে থাকেন। তা’তে প্রথমতঃ একটু ভালো ফল দেখা যায়। কিন্তু কয়েক দিন পরেই অবস্থা নিতান্ত শোচনীয় হয়ে দাঁড়ায়।

তারপর, ঠিক নয় দিবস পরেই গত রাত্রিতে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তাঁর মৃত্যুতে আমি পলায়ন করে কোনওরূপে আমার একমাত্র স্বামী যাঁকে আমি এক মুণ্ডর্তের জন্যও ভুলি নাই, যাঁকে স্বেচ্ছায় আমি হৃদয়-মন্দিরের সিংহাসনে প্রেমরাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতিরূপে বরণ করে নিয়েছি-সেই মাহতাব খাঁর শ্রীচরণে আশ্রয় ও শান্তি লাভের সুবিধা হবে মনে করে উৎফুল্ল হয়েছিলাম। কিন্তু আমার সঙ্গের লোকজন আমার গহনাপত্র, মণিমুক্তা এবং অর্থলাভের জন্য বলপূর্বক সহমরণে বাধ্য করে। আমার অনুনয়-বিনয় এবং কাতর ক্রন্দন কিছুতেই তাদের পাষাণ হৃদয়ে করুণার সঞ্চার হয় না। আমি যখন স্বেচ্ছায় স্বীকৃত হলাম না, তখন বলপূর্বক হস্তপদ বন্ধন করে আমাকে চিতায় তুলে দিল। আমি যখন করুণকণ্ঠে আর্তনাদ করতে লাগলাম, তখন পাষণ্ডগণ বিকট শব্দ ঢাকঢোল করতাল বাজাতে এবং উচ্চৈঃস্বরে হরিধ্বনি করতে লাগল। তারপর সর্ববিপদ্‌ হন্তা মঙ্গলময় আল্লার কৃপায় আপনি এসে উদ্ধার করলেন।

ঈসা খাঁ অরুণাবতীর মুখে স্বপ্নরাজ্যের অগোচর এবং চিন্তার অতীত অপূর্বকাহিনী শ্রবণ করিয়অ আনন্দে আত্মহারা হইয়া মুক্তকণ্ঠে “ছোবহান আল্লাহ!” “ছোবহান আল্লাহ!” বলিয়া উঠিলেন। তাঁহার আনন্দাশ্রুর উন্মেষ হইল। অরুণার দিকে চাহিয়া বলিলেন, “দেখছি করুণাময় বিধাতা একনিষ্ঠ প্রেমিক-প্রেমিকাদিগকে কদাপি বঞ্চিত করেন না।

এণে চল, আমার সঙ্গে চল। আমি দাক্ষিণাত্য হতে দেশে ফিরছি। মাহতাব খাঁ তোমার মিথ্যা-প্রচারিত মৃত্যু-সংবাদে মরমে মরে আছে। সে আবার তোমার অপ্রত্যাশিত দর্শনে রাণ্ডমুক্ত মাহতাবের (চন্দ্রের) ন্যায় নবজীবন লাভ করবে। তোমার বাসনাও সিদ্ধ হবে। চল, আর বিলম্ব না করে জাহাজে চল। এথায় কালবিলম্বে অনেক বিপদ ঘটতে পারে।”

অতঃপর অরুণাবতীকে লইয়া ঈসা খাঁ ‘বাবরজঙ্গ’ জাহাজে প্রত্যাগমন করিলেন।

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান