রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র » কিং কং

পাতা তৈরিঅক্টোবর ২৬, ২০২০; ১৫:০০
সম্পাদনাঅক্টোবর ২৬, ২০২০, ১৫:৫৬
দৃষ্টিপাত

এক । চিন-সমুদ্রের টাইফুন

জাহাজের নাম ইন্ডিয়া। আমেরিকা থেকে জাপান হয়ে আসছিল ভারতবর্ষের দিকে। হঠাৎ চিনা সমুদ্রে টাইফুনজেগে উঠল। চিনা সমুদ্রে ভীষণ এক ঝড় ওঠে, তার নাম হচ্ছে টাইফুন। খুব সাহসী নাবিকরাও এই টাইফুন-কে ভয় করে যমের মতো। টাইফুন এর পাল্লায় পড়ে আজ পর্যন্ত কত হাজার হাজার জাহাজ যে অতল পাতালে তলিয়ে গিয়েছে, সে হিসাব কেউ রাখতে পারেনি।

ঝড় গোঁ গোঁ করে গর্জন করছে–চারিদিক অন্ধকার! ঝড়ের আঘাতে সমুদ্র প্রচণ্ড যাতনায় আর্তনাদ করতে লাগল–পৃথিবীতে এখন ঝড়ের হুঙ্কার আর সমুদ্রের কান্না ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না। যেন ঝড়ের কবল থেকে মুক্তিলাভ করবার জন্যেই বিরাট এক ভীত জন্তুর মতো সমুদ্র বারংবার আকাশে লাফ মারতে লাগল।

ঝড়ের তোড়ে ইন্ডিয়া জাহাজ অন্ধকারে কোথায় যে বেগে ছুটে চলেছে, কেউ তা জানে না! জাহাজের ইঞ্জিন যখন ইন্ডিয়াকে আর সামলাতে পারলে না, কাপ্তেন ঈঙ্গলহর্ন তখন হাল ছেড়ে দিয়ে হতাশভাবে বললেন, ভগবান আমাদের রক্ষা করুন!

আকাশে চাঁদ নেই, তারা নেই–পৃথিবীর কোথাও এতটুকু আলো আভাস নেই! জাহাজ ছুটে চলেছে যেন মৃত্যুর মুখে!

টাইফুন-এ প্রতি বৎসরে চিনা সমুদ্রে কত জাহাজই ডোবে, হয়তো ইন্ডিয়া জাহাজও আজ ডুববে, কিন্তু কেবল সেই কথা বলবার জন্যেই আজ আমরা এই গল্প লিখতে বসিনি।

ইন্ডিয়া জাহাজের দুটি যাত্রীর জন্যেই আমাদের যত দুর্ভাবনা।..কারণ তাঁরা বাঙালি। একজনের নাম শ্রীযুক্ত শোভনলাল সেন, আর একজন হচ্ছেন তারই ভগ্নী কুমারী মালবিকাঁদেবী। ভাই-বোনে আমেরিকা বেড়িয়ে দেশে ফিরছেন।

শেষ রাতে ঝড় থামল, সমুদ্রও শান্ত হল।

কাপ্তেন ঈঙ্গলহর্ন বললেন, ভগবানকে ধন্যবাদ! এ যাত্রা আমরা রক্ষা পেলুম!

তার সহকারী কর্মচারী বললেন, কিন্তু জাহাজ যে কোথায় এসে পড়েছে, সেটা তো কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।

কাপ্তেন বললেন, না। তবে আমরা যে এখনও পৃথিবীতেই টিকে আছি, এইটুকুই হচ্ছে ভাগ্যের কথা। বেঁচে যখন আছি, তখন জাহাজ নিয়ে আবার ডাঙায় গিয়ে উঠতে পারব।

কর্মচারী বললেন, ও কীসের শব্দ?

কাপ্তেন খানিকক্ষণ কান পেতে শুনে বললেন, অনেকগুলো জয়ঢাক বাজছে! বোধহয় আমরা কোনও দ্বীপের কাছে এসে পড়েছি। চারিদিকে যে অন্ধকার, কিছুই দেখা যাচ্ছে না। হয়তো ওখানে কোনও উৎসব হচ্ছে..আচ্ছা, আগে রাতটা পুইয়ে যাক, সকালে সবই বুঝতে পারব!

দুম দুম দুম, দুম দুম দুম, দুম দুম দুম! জয়ঢ়াকগুলো অশান্ত স্বরে বেজেই চলেছে। শোভনলাল আর মালবিকা ডেকে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে সেই রহস্যময় বাজনা শুনতে লাগল।

খানিক পরে মালবিকা বললে, দেখ দাদা, কেন জানি না, আমার মনে হচ্ছে যেন ও বাজনা আমাকেই ডাকছে।

শোভনলাল হেসে ঠাট্টা করে বললে, দূর পাগলি!

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান