রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র » অমৃত-দ্বীপ

পাতা তৈরিঅক্টোবর ২৫, ২০২০; ১৬:৪১
সম্পাদনাঅক্টোবর ২৫, ২০২০, ১৬:৪৩
দৃষ্টিপাত

গোড়াপত্তন

গোড়ায় একটুখানি গৌরচন্দ্রিকার দরকার। যদিও অমৃত-দ্বীপ নতুন উপন্যাস, তবু এর কাহিনি আরম্ভ হয়েছে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত ড্রাগনের দুঃস্বপ্ন নামে উপন্যাস থেকে। বিমল, কুমার, জয়ন্ত, মানিক ও ইনস্পেকটর সুন্দরবাবু কয়েকটি রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের তদ্বিরে নিযুক্ত হয়ে তাও ধর্মমতের প্রবর্তক প্রাচীন চিনা সাধক লাউ-জুর জেড পাথরে গড়া একটি ছোট প্রতিমূর্তি এবং অমৃত-দ্বীপে যাওয়ার একখানি ম্যাপ হস্তগত করে। খ্রিস্ট জন্মাবার ছয়শত চার বৎসর আগে চিনদেশে লাউ-জুর আবির্ভাব হয়।

চিনদেশের প্রাচীন পুথিপত্রে প্রকাশ, তাও সাধুদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দ্বীপ আছে, তার নাম অমৃত-দ্বীপ। সেখানে সিয়েন অর্থাৎ অমররা বাস করে। সেখানে অমর লতা জন্মায়, তার অমৃত-ফল ভক্ষণ করলে মানুষও অমর হয়। যারা তাও ধর্ম গ্রহণ করে তাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, অমৃত-দ্বীপে যাওয়া। আর, সেখানে গেলে লাউ-জুর মন্ত্রপূত প্রতিমূর্তি সঙ্গে থাকা চাই।

বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের মতন তাও-ধর্মও পরের যুগে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। তার মধ্যে ক্রমেই ভূত-প্রেত, মন্ত্র-তন্ত্র, ঝাড়-ফুক আর হরেক রকম ম্যাজিকের আবির্ভাব হয়। তাও সাধকরা বলে, তাদের সিদ্ধপুরুষরা কেবল অমরই হয় না, জলে-স্থলে-শূন্যে তাদের গতি হয় অবাধ।

আধুনিক যুগে এ-সব কথা বিশ্বাসযোগ্য নয় বটে, কিন্তু চিনাদের পবিত্র পাহাড় থাইসানে-র তলদেশে অবস্থিত থাইআনফু মন্দিরে গিয়ে এক সমাধিমগ্ন তাও সিদ্ধপুরুষকে দেখে রিচার্ড উইলহেলম্ নামে এক জার্মান সাহেব সবিস্ময়ে লিখেছেন, এই সমাধিস্থ তাও সাধক মৌনব্রতী। তিনি কতকাল খাদ্য আর পানীয় গ্রহণ করেননি। বাইরের কোনও কিছুই তার ধ্যান ভঙ্গ করতে পারে না। তার দেহ শুকিয়ে শীর্ণ হয়ে গেছে, দেখতেও তাকে মড়ার মতো, কিন্তু তার দেহ সম্পূর্ণ তাজা, একটুও পচে যায়নি। (The Soul of China নামক গ্রন্থ দ্রষ্টব্য)।

অমৃত দ্বীপের পাঠকদের পক্ষে এইটুকু তথ্যই যথেষ্ট। যাঁদের আরও কিছু জানবার আগ্রহ আছে তারা ড্রাগনের দুঃস্বপ্ন পড়ে দেখবেন।

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান