রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র » অলৌকিক

পাতা তৈরিঅক্টোবর ২৫, ২০২০; ১৬:৪৮
সম্পাদনাঅক্টোবর ২৫, ২০২০, ১৬:৪৯
দৃষ্টিপাত
পাঁচ জয়ন্ত বললে, সুন্দরবাবু, প্রধান প্রধান সূত্রের কথা আগেই বলেছি, এখন সব কথা আবার নতুন করে বলবার দরকার নেই। কেবল দু-তিনটে ইঙ্গিত দিলেই যথেষ্ট হবে। গোড়া থেকেই আমার দৃঢ় ধারণা হয়েছিল, অপরাধী হরেনেরই পাড়ার লোক। সে পাড়ায়–এমনকী, সে শহরেও নয় ফুট উঁচু কোনও লোকই নেই। সুতরাং ধরে নিলুম সে উঁচু ...

পাঁচ

জয়ন্ত বললে, সুন্দরবাবু, প্রধান প্রধান সূত্রের কথা আগেই বলেছি, এখন সব কথা আবার নতুন করে বলবার দরকার নেই। কেবল দু-তিনটে ইঙ্গিত দিলেই যথেষ্ট হবে। গোড়া থেকেই আমার দৃঢ় ধারণা হয়েছিল, অপরাধী হরেনেরই পাড়ার লোক। সে পাড়ায়–এমনকী, সে শহরেও নয় ফুট উঁচু কোনও লোকই নেই। সুতরাং ধরে নিলুম সে উঁচু হয়েছিল কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করে। অপরাধের সময়ে সে আবছায়ায় অবস্থান করে–পাছে কেউ তার কৃত্রিম উপায়টা আবিষ্কার করে ফেলে; তাতেই আমার ধারণা হল দৃঢ়মূল। এখন সেই কৃত্রিম উপায়টা কি হতে পারে? শশীপদ শুনেছিল, খটাখট খটাখট করে কি একটা শব্দ ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে! এই নিয়ে ভাবতে-ভাবতে ধাঁ করে আমার মাথায় আসে রণ-পার কথা। রণ-পার ওপরে আরোহণ করলে মানুষ কেবল উঁচু হয়ে ওঠে না, খুব দ্রুতবেগে চলাচলও করতে পারে। সেকালে বাংলাদেশের ডাকাতরা এই রণ-পায় চড়ে এক এক রাতেই পঞ্চাশ-ষাট মাইল পার হয়ে যেতে পারত। পদক্ষেপের সময়ে রণ-পা যখন মাটির ওপরে পড়ে, তখন খটাখট করে শব্দ হয়, কিন্তু রণ-পা-এ উঠে কেউ স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, টাল সামলাবার জন্যে চলাফেরা করতে হয়। অপরাধী স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবার জন্যে একগাছা বাঁশের সাহায্য গ্রহণ করত। কার্য সিদ্ধির পর বাঁশটাকে সে ঘটনাস্থলেই পরিত্যাগ করে যেত, কারণ রণ-পা-এ চড়ে ছোটবার সময় এত বড় একটা বাঁশ হয়ে ওঠে উপসর্গ মতো।

সুন্দরবাবু বললেন, হুম এসব তো বুঝলুম, কিন্তু আসামি এমন বোকার মতো আমাদের হাতে ধরা দিলে কেন, সেটাতো বোঝা যাচ্ছে না।

জয়ন্ত হাসতে-হাসতে বললে, ওটা আবার কল্পনা শক্তির মহিমা। আগেই বলেছি তো, অপরাধীরা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজ করতে গিয়েই বিপদে পড়ে। অপরাধী সর্বদাই খবর রাখত, পাড়ার কোনও ব্যক্তি কবে কী করবে বা কী করবে না। আমার নির্দেশ অনুসারে হরেন রটিয়ে দিয়েছিল, কলকাতার ব্যাঙ্কের পর ব্যাঙ্ক ফেল হচ্ছে, সে ব্যাঙ্কে আর নিজের টাকা রাখবে না। অমুক তারিখে কলকাতায় গিয়ে সব টাকা তুলে নিয়ে আসবে। অপরাধী এ টোপ না গিলে পারেনি।

সুন্দরবাবু বললেন, একেই বলে, ফাঁকতালে কিস্তিমাত।

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান