রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র » অলৌকিক

পাতা তৈরিঅক্টোবর ২৫, ২০২০; ১৬:৪৮
সম্পাদনাঅক্টোবর ২৫, ২০২০, ১৬:৪৯
দৃষ্টিপাত

এক

ইনস্পেকটর সুন্দরবাবু। নতুন নতুন খাবরের দিকে বরাবরই তাঁর প্রচণ্ড লোভ। আজ বৈকালি চায়ের আসরে পদার্পণ করেই বলে উঠলেন, জয়ন্ত ওবেলা কি বলেছিলে, মনে আছে তো?

জয়ন্ত হেসে বললে, মনে না থাকে, মনে করিয়ে দিন।

নতুন খাবার খাওয়াবে বলেছিলে।

–ও, এই কথা? খাবার তো প্রস্তুত।

খাবারের নাম শুনতে পাই না?

–মাছের প্যাটি আর অ্যাসপ্যারাগাস ওমলেট।

–রেঁধেছে কে?

–আমাদের মধু।

–মধু একটি জিনিয়াস। আনতে বলো, আনতে বলো।

চা পর্ব শেষ হল যথাসময়ে। অনেকগুলো প্যাটি আর ওমলেট উড়িয়ে সুন্দরবাবুর আনন্দ আর ধরে না।

পরিতৃপ্ত ভুঁড়ির ওপরে সস্নেহে হাত বুলোতে বুলোতে তিনি বললেন, মনের মতো পানাহারের মতো সুখ দুনিয়ায় আর কিছু নেই, কি বলো মানিক?

মানিক বললে, কিন্তু অত সুখের ভিতরেও কি একটি ট্রাজেডি নেই?

কীরকম?

–খেলেই খাবার ফুরিয়ে যায়।

–তা যা বলেছ।

–আবার অনেক সময় খাবার ফুরোবার আগে পেটই ভরে যায়।

–হ্যাঁ ভায়া, ওটা আবার খাবার ফুরোনোর চেয়েও দুঃখজনক ব্যাপার। খাবার আছে, পেট কিন্তু গ্রহণ করতে নারাজ। অসহনীয় দুঃখ।

ঠিক এমন সময়ে একটি লোক ঘরের ভিতর প্রবেশ করল।

তাকে দেখেই জয়ন্ত বলে উঠল, আরে, আরে হরেন যে। বোসো ভাই, বোসো। সুন্দরবাবু, হরেন হচ্ছে আমার আর মানিকের বাল্যবন্ধু।

মানিক বললে, হরেন, ইনি হচ্ছেন সুন্দরবাবু, বিখ্যাত পুলিশ ইনস্পেকটর আর প্রখ্যাত ঔদারিক।

–হুম, ঔদারিক মানে কি মানিক? শুধোলেন সুন্দরবাবু।

–ঔদারিক, অর্থাৎ উদরপরায়ণ।

–অর্থাৎ পেটুক। বেশ ভাই, বেশ, যা খুশি বলো, তোমার কথায় রাগ করে আজকের এমন খাওয়ার আনন্দটা মাটি করব না।

জয়ন্ত বললে, তারপর হরেন, তুমি কি এখন কলকাতাতেই আছ?

না, কাল এসেছি। আজই দেশে ফিরব। কিন্তু যাবার আগে তোমাদের একটা খবর দিয়ে যেতে চাই।

কীরকম খবর?

–যেরকম খবর তোমরা ভালোবাসো।

–কোনও অসাধারণ ঘটনা।

–তাই।

–তাহলে আমরা শুনতে প্রস্তুত। সম্প্রতি অসাধারণ ঘটনার অভাবে আমরা কিঞ্চিৎ স্রিয়মান হয়ে আছি। ঝাড়ো তোমার খবরের ঝুলি।

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান