বাল্যরচনা » চন্দ্রদূত

পাতা তৈরিজানুয়ারি ২৮, ২০১৫; ১২:১০
সম্পাদনাজানুয়ারি ২৪, ২০২১, ১৫:৫৬
দৃষ্টিপাত
(রূপক) ত্রিপদী দ্বিযাম যামিনী যায়, আ মরি কি শোভা তায়, নিরখি নির্ম্মল নদী তীরে। নিরমল নীলাকাশ, সীমা বিনা সুপ্রকাশ, মাঝে হেরি মধুর শশিরে।। যেন কোন নব বালা, পাইয়া বিরহ জ্বালা, মলিনতা মধুর বদনে। গগন গহন বনে, মনোদুখে মরি মনে, ভ্রমিতেছে গজেশ গমনে।। সেই রূপ মনোহর, রূপ ধরি শশধর আলো করে ...

(রূপক)

ত্রিপদী

দ্বিযাম যামিনী যায়,

আ মরি কি শোভা তায়,

নিরখি নির্ম্মল নদী তীরে।

নিরমল নীলাকাশ,

সীমা বিনা সুপ্রকাশ,

মাঝে হেরি মধুর শশিরে।।

যেন কোন নব বালা,

পাইয়া বিরহ জ্বালা,

মলিনতা মধুর বদনে।

গগন গহন বনে,

মনোদুখে মরি মনে,

ভ্রমিতেছে গজেশ গমনে।।

সেই রূপ মনোহর,

রূপ ধরি শশধর

আলো করে ধরণী আকাশ।

গগনের যত তারা,

হইয়াছে কর হারা,

অল্প তারা আকাশ প্রকাশ।।

মাঝে মাঝে শশধরে

ঢাকে ক্ষীণ জলধরে,

মরি যেন নাথ দরশনে।

রহি গুরুজন মাঝে,

মোহিনী মহিলা লাজে,

ঢাকা দেয় বদন বসনে।।

চন্দ্রিকা বসন পরা,

গভীর নিশীথে ধরা,

মোহ মন্ত্রে যেন নিদ্রা যায়।

ঘোর স্তব্ধ ত্রিভুবন,

দেখিয়া চাহিছে মন,

আরাধিতে অচিন্ত্য স্রষ্টায়।।

শুধু হয় শব্দ তায়,

পরশি নিকুঞ্জ গায়,

চলিছে সমীর মৃদু স্বরে।

পূর্ণ নদী স্থির নীরে,

শুধু শব্দ ধীরে ধীরে,

মধুর মলয় মন্দ করে।।

আহা মরি মরি কি রে,

এমন নদীর তীরে,

কে রে শত শোভা ধরি বসি।

বুঝি এ বিরহ লাগি,

প্রণয়িনী অনুরাগী

যুবক জনেক যেন শশী।।

তৃণের কুসুম কুঞ্জ,

ললিতা লতিকা পুঞ্জ,

ঘেরি তারে বারি ধারে রয়।

যেমন মলিন শশী,

মলিন বদনে বসি,

দীর্ঘশ্বাসে বিদরে হৃদয়।।

আঁখি হতে বারে বারে,

ধারা বহে ধারে ধারে,

তাহাতে কতই শোভা ধরে।

যেন সে নয়ন জলে,

শশী পশি ছায়া ছলে,

চুম্বন গণ্ডেতে তার করে।।

নিরখি নয়ন ভরি,

মধুর চন্দ্রমাপরি,

শেষে শশী সম্বোধিয়া কয়।

আরে মনোহর শশী,

গগন মণ্ডলে পশি

পার যেতে ত্রিভুবন ময়।।

তাই বলি শশধর,

আমার বচন ধর,

যাও সেই মোহিনীর কাছে।

যার তরে আশা পথে

আরোহিয়া মনোরথে,

আগে মোর পরাণ গিয়াছে।।

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান