web analytics

লোকসাহিত্য > রূপকথা > ক্ষীরের পুতুল

এক রাজার দুই রানী। দুয়ো আর সুয়ো। রাজবাড়িতে সুয়োরানীর কত আদরযত্ন! সাতশো দাসী সেবা করে, পা ধোয়, আলতা পরায়, চুল বাঁধে, সাত সিন্ধুক ভরা সাত হাজার ধন-মানিকের গহনা। রাজার একেবারে প্রাণ সুয়োরানী। আর বড়রানী- দুয়োরানীর বড় অনাদর, অযত্ন, অবহেলা। রাজার দু’চক্ষের বিষ। থাকেন ভাঙ্গা ঘরে, পড়েন জীর্ণ শাড়ি, শুতে দিয়েছেন ছেঁড়া কাঁথায়।
রাজা একদিন রাজমন্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন জাহাজ সাজাতে, তিনি দেশ-বিদেশ ভ্রমনে বের হবেন। রাজা বিদেশ যাবার আগে সুয়োরানীর সাথে দেখা করলেন এবং জানতে চাইলেন কিছু আনবে কিনা। সুয়োরানী সাথে সাথে বললেন তাঁর জন্যে আট গাছা মানিকের চুড়ি, আগুন বরণ সোনার দশগাছা মল, পায়রার ডিমের মত মুক্তোর হার, জলের মত চিকন শাড়ি আনতে।
এদিকে দুয়োরানীর কাছে জানতে চাইলে সে বলে রাজা ভালোয় ভালোয় ফিরুক এই কামনা সে করে আর সাথে করে আনতে বলে একটা পোড়ামুখো বানর। দীর্ঘ ছ’মাস পর রাজা দেশ-বিদেশ ঘুরে এলেন। রাজা ছোটরানীকে তাঁর জন্যে আনা সকল উপহার দিলেন। কিন্তু দিলে কী হবে কিছুই যে মাপমতো হয়নি! রাগে-অভিমানে রানী ঘরের দরজায় খিল দিলেন। আর বড়রানী বানরকে পেয়ে সানন্দে গ্রহণ করলেন। লালন-পালন করতে লাগলেন বানরকে।
এভাবেই কাটছিল সবার দিন। সুয়োরানী সাতশো দাসীর মাঝে সুখ করে, ওদিকে দুয়োরানী শুধু ছোটরানীর সুখ দেখে হা-হুতাশ করে। এসবতো তারই প্রাপ্য ছিল। অথচ আজ সে পথের ভিখারী। চোখের জল ফেলতে ফেলতে সে পোড়ামুখো বানরকে নিজের দুঃখের কথা সব খুলে বলে। বানর প্রতিজ্ঞা করে সে যে করেই হোক দুয়োরানীর সবকিছু তাঁকে ফিরিয়ে দিবে।
কিন্তু বানর কিভাবে দূর করবে রানীর সব দুঃখ? পারবে কি সব ফিরিয়ে দিতে? কি করেই বা শাস্তি পাওয়ায় হিংসুটে সুয়োরানীকে? হ্যাঁ, রানী সবই ফিরে পায়। স্বামী-সন্তান, রাজবাড়ির আরাম-আয়েশ। কিন্তু কিভাবে তা জানতে হলে পড়তে হবে “ক্ষীরের পুতুল”। আর যিনি এ-গল্প লিখেছেন তিনি হলেন এক-অবাক করা জাদুকর। তাঁর হাতের ছবি কথা বলত, কথা হয়ে উঠত ছবির মতন। তিনি হলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
উপলভ্য সংস্করণ
যে সকল বইয়ের উৎস দেশ ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে, লেখকের মৃত্যুর ষাট বছর পর স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত অথবা বেনামে বা ছদ্মনামে ও মরণোত্তর প্রকাশিত রচনা বা গ্রন্থসমূহ প্রথম প্রকাশের ষাট বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ, ১ জানুয়ারি 2019 সালে, 1959 সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।

Leave a Reply

WhatsApp chat