বাংলার কৃষক-মেহনতি মানুষের দীর্ঘদিনের শোষণ-নিপীড়নের সংগ্রাম ও বিদ্রোহের ফল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা। আমাদের যত গৌরব আছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম অর্জন ও উজ্জ্বলতম ঘটনা হচ্ছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং পাকিস্তানি উপনিবেশিকতা তথা নব্য উপনেবিশিকতার মুক্তি। ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে নিজেদের শাসনক্ষমতা বজায় রাখার স্বার্থে এই ভূমির ইতিহাসকে তাদের মতো করে গড়ে তুলেছিল। ইতিহাস বিকৃতিতে ইংরেজদের দোষারোপ করলেও ১৯৪৭-পরবর্তী পাকিস্তানে কিংবা ‘৭১-পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে জাতি, সমাজ, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নতি, সংস্কৃতির সমৃদ্ধি, জনগণতান্ত্রিক রাজনীতি গড়ে তোলার প্রশ্নে যে বুনিয়াদই প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা ও তাকে কষ্টিপাথরে যাচাইবাছাই করে উন্নত সমাজ-রাষ্ট্র গঠনে দিকনির্দেশনার পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় আনার কথা ছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রেও তা হয়ে ওঠেনি। তার অন্যতম কারণ বলা যায় জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বশীল রাষ্ট্রশক্তির অভাব। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের শাসনভন্ন রচিত হয় লক্ষ প্রাণের রক্তের বিনিময়ে। রক্তের অক্ষরে লেখা সেই সংবিধানকে রাজনীতিবিদ্যার ইতিহাসে সমসাময়িক কালের সবচেয়ে আধুনিক শাসনতন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু তারপর বারবার সংবিধানে নিয়েছেন। পাশাপাশি বিভন্ন সময়ে ইতিহাস বদলানোর অপচেষ্টা হয়েছে। ফলে মানুষের প্রকৃত ইতিহাস এবং তথ্য জানার আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সংবিধান বদলালেও, ইতিহাস বিকৃত করা হলেও, বদলায়নি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা, বদলায়নি উন্নয়নের আকাজক্ষা এবং আগ্রহ। আর এই কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণায়, উন্নয়নের অনন্ত পথযাত্রায় রাজনীতি প্রত্যয়টি নাগরিক-জীবনে ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আতঙ্ক, সন্ত্রাস নাগরিক-জীবনের অবিভাজ্য অংশে পরিণত হওয়ায় ‘রাজনীতি’ ধারণাটির প্রতি নাগরিকদের একদিকে আকাজক্ষা বাড়ছে, অন্যদিকে এর প্রতি তাদের অনিহাও বেড়ে চলেছে। একদিকে আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে অনিহা- এমন উভয় বিপরীতমূখী দিককে বিবেচনায় রেখে নাগরিক রাজনীতি সচেতনতাও বেড়ে চলেছে।
Read online or Download this book
আপনার জন্য প্রস্তাবিত বইসমূহ