বিভাগ: আলোচনা
বাংলা
লেখক
ইপাব, মুবি, পিডিএফ, টেক্সট
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলা সাহিত্যের একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক। বিশ শতকের ষাটের দশকের জাতীয়তাবাদী চেতনা ও স্বাধিকার আন্দোলনের পটভূমিকায় সাহিত্যের ক্ষেত্রে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের আবির্ভাব। জীবন ও সমাজ অনুসন্ধানের নিরীক্ষাধর্মী শৈল্পিক মনস্তত্ত্বে অবগাহন করে ঐ সময়ের ও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন প্রাবাহকে ধারণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন। কবি হিসেবে সাহিত্য অঙ্গনে তার পদচারণা হলেও মানুষের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় জীবন এবং সমাজের বিভাজিত মানুষের শক্তি, সাহস ও দুর্বলতাকে উপজীব্য করে প্রচলিত সাহিত্যের মৌলধারায় পরিবর্তন এনে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস গল্প-উপন্যাস প্রবন্ধ রচনা করেন। গভীর জীবনবোধ তার সাহিত্যের ভিত্তি। এই বাস্তববাদী কথাশিল্পীর গল্প-উপন্যাসের ভাবনা সমকাল। সমকালীন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনশীল বাস্ততাকে তিনি তার গল্পে উপস্থাপন করেছেন। তার কথাসাহিত্যের কাহিনী ও চরিত্রে আছে সুগভীর অন্তদৃষ্টি ও পর্যবেক্ষণ শক্তি। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চেতনা ও সৃষ্টিতে রয়েছে আধুনিক সমাজচিন্তা ও জীবনজিজ্ঞাসা। কোন বিষয়কে তিনি সমগ্রতায় দেখে নিজের বিশ্বাসকে সাহিত্যে তুলে ধরেছেন। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধে তিনি মধ্যবিত্ত বাঙালির জীবনাচরণ অন্বেষণ করেছেন। সমাজ-সংস্কৃতিতে বাঙালির অবস্থান, ইতিহাসে বাঙালির স্থান, মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান, শ্রমজীবী মানুষের সংযোজন করেছেন। গুরু-গম্ভীর বিষয়কে তিনি সহজ করে কথকতার ভঙ্গিতে বলেছেন, যা পাঠকের চিন্তা-ভাবনাকে আলোড়িত করে। রাজনীতি-অর্থনীতিসংস্কৃতি সব আলোচনাতেই ইলিয়াসের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে ব্যক্তি। কেননা ক্রমবিকাশ। তার মনের ক্ষোভ ও দ্রোহ কখনো সোজা কথায়, কখনোবা বাকা কথায় সাহিত্যে প্রকাশ পেয়েছে। আধুনিকতার সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, ব্যবহার ও তার প্রয়োজনীয়তাকে তিনি তার সৃষ্ট সাহিত্যে উপস্থাপন করেছেন। খুব কম সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেও শুধু মাত্র বিশিষ্টতার গুণে সাহিত্যে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস মর্যাদাপূর্ণ আসন লাভ করেছেন। তার রচিত সাহিত্য থেকে জানা যায় দেশের সমাজ, ঐতিহ্য ও ইতিহাস। প্রখর সমাজসচেতন এ লেখকের দুর্লভ কথাসাহিত্যের মূল্যায়ণের জন্য করে বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম এই ব্যতিক্রমী সাহিত্যিকের সাহিত্য, মানবসত্তার জটিল ও কুটিল স্বরূপকে উপলব্ধি করতে পারে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্যকর্ম নিয়ে দেশের অনেক বিশিষ্ট প্রথিতযশা সাহিত্যিক আলোচনা-সমালোচনামূলক প্রবন্ধ-গ্রন্থ লিখেছেন। এই সাহিত্যিকের এক গুণমুগ্ধ পাঠক হিসেবে তার স্বতন্ত্র্য, ব্যতিক্রমধর্মী ও জীবনধর্মী সাহিত্যকে জানার আকাজক্ষায় অধ্যয়ন করি তার গল্প-উপন্যাস ও প্রবন্ধ। মধ্যবিত্তের আত্মবিশ্লেষণ ও আত্মরূপান্তরের স্বরূপ অন্বেষণে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রবণতায় আকৃষ্ট হয়ে এই সমাজ-সচেতন বাস্তববাদী লেখকের জীবন ও সাহিত্য জানার আকাঙ্ক্ষায় এই গ্রন্থ রচনার প্রচেষ্টা। অনাহার, অভাব, দারিদ্র ও শোষণের শিকার হয়ে যারা সমাজে মানবেতর জীবন-যাপন করে তাদের প্রতি লেখকের সহানুভূতি তরুণ সমাজকে উদ্দীপ্ত করবে। নতুন প্রজন্ম জানবে- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন ও সমাজে তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, পঞ্চাশের মম্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, দেশভাগ, দেশ-ত্যাগ, উদ্বাস্তু সমস্যা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়াবহতা। বিশেষ সতর্কতা সত্ত্বেও এই বইয়ে যে ভুল ক্রুটি রয়ে গেল সে দায়ভার আমার। আমার এ উদ্যোগে যে সব গ্রন্থ ও পত্র-পত্রিকার সাহায্য নিয়েছি, সে সব গ্রন্থ ও প্রবন্ধের বিজ্ঞ, বিদগ্ধ সৃজনশীল লেখকদের আমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। আমার পরিবারের সবাই আমার সব কাজের সহযোগী, তাদের অনুপ্রেরণায় আমি লিখতে উৎসাহিত হই। বিভাস প্রকাশনার স্বত্ত্বাধিকারী রামশংকর দেবনাথকে ধন্যবাদ, আন্তরিক আগ্রহ নিয়ে তিনি বইটি প্রকাশ করায়। পাঠকের ভালো ও শিক্ষার্থীদের সামান্য কাজে লাগলে কৃতাৰ্থ হবো।
বিনীত
করুণা রানী সাহা
Read online or Download this book

যে সকল বইয়ের উৎসস্থল বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুসারে, লেখকের মৃত্যুর ষাট বছর পর স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত অথবা বেনামে বা ছদ্মনামে ও মরণোত্তর প্রকাশিত রচনা বা গ্রন্থসমূহ প্রথম প্রকাশের ষাট বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ, ২০১৮ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৫৮ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।

আপনার জন্য প্রস্তাবিত বইসমূহ