জননী » দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

পাতা তৈরিজানুয়ারি ১১, ২০২১; ১৩:৫৮
সম্পাদনাজানুয়ারি ১১, ২০২১, ১৩:৫৮
দৃষ্টিপাত
এক পশলা বৃষ্টি হইয়াছিল রাত্রে। আজহার সকালেই লাঙল কাঁধে মাঠে চলিয়া গিয়াছে। এক মাইল দূরে তার জমি। দুপুরের রৌদ্রে বাড়ি ফিরিয়া খাওয়াদাওয়া করা যায়; কিন্তু আবার মাঠে ফিরিয়া আসা পণ্ডশ্রম। এইজন্যে আমজাদ দুপুরের ভাত মাঠে লইয়া যায়। দরিয়াবিবি তা পছন্দ করে না। আমজাদের মখতব যাওয়া হওয়া না। লেখা-পড়া নষ্ট। অন্য ...

এক পশলা বৃষ্টি হইয়াছিল রাত্রে। আজহার সকালেই লাঙল কাঁধে মাঠে চলিয়া গিয়াছে। এক মাইল দূরে তার জমি। দুপুরের রৌদ্রে বাড়ি ফিরিয়া খাওয়াদাওয়া করা যায়; কিন্তু আবার মাঠে ফিরিয়া আসা পণ্ডশ্রম। এইজন্যে আমজাদ দুপুরের ভাত মাঠে লইয়া যায়। দরিয়াবিবি তা পছন্দ করে না। আমজাদের মখতব যাওয়া হওয়া না। লেখা-পড়া নষ্ট। অন্য উপায়ও নাই। দরিয়াবিবি গৃহস্থালির কাজ করিতে পারে। পর্দানশীনা মেয়েদের মাঠে যাওয়া সাজে না।

আমজাদের কিন্তু এই কাজ খুব ভালো লাগে। দহলিজের একটেরে বসিয়া থাকা ভারি কষ্টকর। মাধা ধরে, হাই ওঠে, তবু মৌলবী সাহেব ছুটির নাম করেন না। এখানে ইচ্ছামতো দেদার মাঠে ঘুরিয়া বেড়ানো, তার চেয়ে আনন্দের আর কি আছে পৃথিবীতে!

ঠিক মাঝামাঝি দুপুরে আমজাদ নিজে খাইতে বসে। ছেলেমানুষের বিশ্রাম প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো দিন দুপুর ঢলিয়া যায়।

আজহার অবশ্য তার জন্য রাগ করে না। আমজাদ মাঠে পৌঁছাইলে হাসিমুখেই সে বলে : আমু, এত দেরি কেন, ব্যাটা?

রাঁধতে দেরি। আর আমি জোরে হাঁটতে পারি না।

আজহার গামছায় ঘর্মাক্ত কচিমুখ মুছাইয়া বলে, থাক, তার জন্যে কী হয়েছে! আমার ভারি পিয়াস পেয়েছে, একটু পানি আনো তো নদী থেকে।

জমির পাশেই নদী। দরিয়াবিবি আমুর হাতে একটা ছোট বদনা দিতে ভোলে না। অন্য সময় আজহার আঁজলা করিয়া পানি পায়। খাওয়ার সময় এই হাঙ্গামা পোষায় না।

আমজাদ পিতার আদেশ পালন করে। দুপুরের চড়া রোদ। সেও কম ক্লান্ত হয় না। মখতবের জেলখানা হইতে সে রেহাই পাইয়াছে, এই আনন্দে নিজের শ্রান্তির কথা ভুলিয়া যায়।

কয়েত-বেলের গাছের ছায়ায় আজহার খাইতে বসে।

বন্যার সময় দুইটি কয়েত-চারা ভাসিয়া আসিয়াছিল পাঁচবছর আগে। আজহার নিজের হাতেই বানভাসি চারা দুইটি রোপণ করিয়াছিল। ঝাঁকড়া গাছের ছায়ায় অন্যান্য বিশ্রান্ত কিষাণদের গুলজার মজলিশ বসে। জমির আর এক কোণে কলার গাছ। ভালো কলার গাছ রোপণ বৃথা। রাত্রে চুরি হইয়া যায়। এইজন্যে মাঠে কেউ ভালো কলার গাছ লাগায় না। পূর্বে কলাপাতার ছায়ায় আজহার মধ্যাহ্নভোজন করিত। গাঁয়ের আরো কিষাণ মাঠে আসিয়া বাস করিতেছে। তারা সকলেই বাগদী, তিওর শ্ৰেণীর। আজহারও মাঠে বসবাস করিতে চায়। ফসলের খবরদারি ভালো হয়, ইচ্ছামতো পরিশ্রম করা যায়। দরিয়াবিবি রাজি হয় না। বেপর্দা জায়গায় ইজ্জত রাখা দায়। তার উপর পুষ্করিণী নাই। নদীর তট এই দিকে উঁচু। গ্রীষ্মকালে পানি ঢালু তটের দিকে সরিয়া যায়। মুমিনের ঘরের মেয়ে এতুটুক বেপর্দা হইতে পারে না। বাগদী তিওরেরা কোনো অসুবিধা ভোগ করে না। মার সঙ্গে উলঙ্গ কুঁচো ছেলের দল দুপুরের স্নান করিতে যায়। রসিক বাদীর দুইটি ছেলে কয়েক বছর আগে বন্যার সময় ভিটার উপর হইতে স্রোতে পড়িয়া গিয়াছিল। তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া গেল না। ভিটে-ত্যাগের কথা উঠিলে দরিয়াবিবি এই কাহিনী খুব ফলাও করিয়া বলে, আজহার খাঁর উৎসাহ থাকে না আর।

আমজাদ এক বদনা পানি পিতার সম্মুখে রাখিয়া বলে : পানি তেতে উঠেছে, কাল থেকে সকালে বা এনে রেখো।

আজহার খাঁ এক লুকমা ভাত গালে তুলিয়াছে, চোয়াল নাড়িতে নাড়িতে জবাব দিল : হোক, ক্ষতি নেই বাপ। আজ ভুক লেগেছে জোর।

এক আঁটি খড়ের উপর বসিয়া আমজাদ বাবার আহার-পদ্ধতি নিরীক্ষণ করে। তরকারি ভালো নয় আজ। সামান্য ডাল আর চুনোমাছের শুরুয়া।

আমজাদ মাঠের চারিদিকে তাকায়। ধু ধু করিতেছে দূরের মাঠগুলি। নদীর দুই পাশে সবুজ রবি-ফসলের ক্ষেত। সেখানেও রঙ বিবর্ণ। চৈত্রের বাতাস ঝামাল তোলে। বালু ধূলিকণা অন্য গাঁয়ের দিকে উড়িয়া যায়। পাতলা একখণ্ড রঙিন ধোঁয়া যেন পাড়ি জমাইতেছে গ্রামান্তরে।

এই বছর আজহারের লাউ ছাড়া অন্য রবি-ফসল নাই। কুমড়ার লম্বা ডগা সাপের মতো জড়াজড়ি করিয়া রৌদ্রে ঝিমাইতেছে। মাটির ঢেলার উপর একটি কুমড়া দেখা যায়। সবেমাত্র পাক ধরিয়াছে। হলুদ-ধূসর একরকমের রং চোখ-ঝলসানো আলোয় আরো স্পষ্ট হইয়া উঠে। আমজাদের চোখ বারবার সেই দিকে আকৃষ্ট হয়।

আব্বা!

আজহার খাঁ মুখ তোলে। রৌদ্রে মুখ শুকাইয়া এতটুকু হইয়া গিয়াছে। তার উপর কালো একগোছা দাড়ি! কয়েকটা ভাত লাগিয়া রহিয়াছে ঠোঁটের এক কোণে। সেদিকে চাহিয়া আমজাদের হাসি আসে।

ঐ কুমড়াটা পেকেছে।

খুব পাকেনি।

তুমি সেবার বললে, ঘরে তুলে রাখলে পেকে যায়।

আজহার খাঁ মুখে একগাল ভাত তুলিল। একটু থামিয়া সে বলে, পাকবে না কেন?

পুত্রের জিজ্ঞাসার হেতু আজহার খাঁ উপলব্ধি করে।

কুমড়াটা ঘরে নিয়ে যেতে চাও?

হ্যাঁ। খুব লজ্জিত হয় আমজাদ, যেন সে কত অপরাধ করিয়া ফেলিয়াছে।

না, এখন থাক, বাবা। সামনে হপ্তায় একশ কুমড়া গঞ্জে দেওয়ার কথা আছে। কিছু বায়না নিয়েছি।

পুত্রের মুখের দিকে চায় এবার আজহার খাঁ। কচি শিশুর মুখের উজ্জ্বলতা নিভিয়া গিয়াছে।

আরো কয়েক মুঠি ভাত থালায় পড়িয়া রহিল। আজহার খাঁ বিষণ্ণ হইয়া যায়। একশ কুমড়া এই সপ্তাহে জমি হইতে উঠিবে কিনা সন্দেহ, হয়ত অন্য চাষীর নিকট হইতে কেনা ছাড়া উপায় থাকিবে না। ছেলেদের সামান্য আবদার রক্ষা করাও তার ক্ষমতার বাহিরে। পাইকের আসিয়াছিল গত সপ্তাহে। অগ্রিম বায়না লইয়াছে সে। ওয়াদা-খেলাফ খাঁ পছন্দ করে না। নচেৎ খুব ক্ষতি হইবে তার। অন্য সময় মাঠে কুমড়া পচিতে থাকিবে, পাইকের চুঁইয়া দেখিবে না পর্যন্ত।

আজহার ছেলের মুখের দিকে তাকাইতে সাহস করে না। মুখ নিচু করিয়া বলে, ওদিকের মাঠে তরমুজ হয়েছে খুব। তরমুজ খাবে?

হাসিমুখে আমজাদ পিতার মুখের দিকে চায়। তরমুজের নামে তার ঠোঁটে-মুখে আনন্দ রেখায়িত হয়।

আমি হাত-মুখ ধুয়ে আসি নদী থেকে। বসো, বাবাজি।

নদীর পাড়ের নিচে আজহার ক্রমশ অদৃশ্য হইয়া গেল। পিতার বলীয়ান ছায়া মূর্তির দিকে আমজাদ চাহিয়াছিল, সেইদিকেই দৃষ্টি মেলিয়া দিল। মাঠে বাতাস আছে, তাই দারুণ গ্রীষ্মে কোনোরকমে সহ্য করা যায়। গাভীদল নির্বিবাদে মাঠে চরিতেছে। দূরে একটি কুঁড়ের পাশে পাকুড় গাছের তলায় কতগুলি ছেলে খেলা করিতেছিল। তাহাদের হল্লা আমজাদের কানে গেল। আবার চোখ ফেরায় সে। একটু পরে সে শুনিতে পাইল, কে যেন শিস দিতেছে। কোনো পাখির ডাক বোধহয়। আমজাদের চেনা পাখি নয়। অদ্ভুত ধরনের শিস। আমজাদ এদিক-ওদিক ইতস্তত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে।

হঠাৎ শিস থামিয়া গেল।

কাদের ছেলে রে?

চমকিয়া ওঠে আমজাদ। কলাগাছের আড়াল হইতে হঠাৎ একটা লোক বাহির হইয়াছে। যাক্, ভয়ের কিছু নাই। লোকটির মাথায় ঝাঁকড়া চুল। কালো কুচকুচে গা। হাতে একটি কাস্তে ও নিড়েন-দেওয়া দাউলী।

আবার শিসের জোয়ার ছোটে। এই লোকটি শিস দিতেছিল তা-হলে! ডাগর চোখ তার ঘন-কালো। লম্বা-চওড়া জোয়ান। ভয় করে আমজাদের।

তার দিকে চাহিয়া সে বলে, কাদের ছেলে? তরমুজ চুরি করতে বেরিয়েছ, না?

ভয়ে জড়সড় হইয়া যায় আমজাদ। আজহার কাছে নাই। নদীতে বৃথা বিলম্ব করিতেছে সে।

চুরি করতে বেরিয়েছ?

না। আমি ভাত এনেছি।

লোকটা অকারণ হাসিয়া উঠিল, আবার শিস দিতে দিতে সে গান গায় :

সর্ষে ক্ষেতের আড়াল হল চাঁদ,

চোখে তার মানুষ-ধরা ফাঁদ

ও উদাসিনী লো–

মাথার বাবুরি চুল গায়কের বাতাসে উড়িতেছিল। গান থামিল কয়েক কলি দোহারের পর।

ভাত এনেছ?

আমজাদ ম্রিয়মাণ বালকের মতো উত্তর দিল : আব্বা সব খেয়ে ফেলেছে।

তাহলে আমার জন্যে রাখোনি কিছু। বাহ্।

মুখ সামান্য নিচু করিয়া আমজাদের দিকে সে দুষ্টুমির হাসি হাসে আর তাকায়। ঠোঁট বাঁকাইয়া সে চোঁ চোঁ শব্দ করে।

একটুও ভাত রাখলে না বাপ-ব্যাটা মিলে! হি-হি।

সর্ষে ক্ষেতের আড়াল হল চাঁদ,

চোখে তার মানুষ-ধরা ফাঁদ

ও উদাসিনী লো–

আমজাদের ভ্যাবাচ্যাকা লাগে। হয়তো লোকটা পাগল। এইবার সে কোমরের উপর বাম হাত রাখিয়া একটু বক্রভাবে দাঁড়াইল। তারপর ঠোঁটের একপাশে অন্য হাত চাপিয়া লোকটা জোরে চিৎকার করিয়া উঠিল : এই, তরমুজ ক্ষেতে কে?

আমজাদ নদীর আশেপাশে জমির দিকে তাকায়। সেই ছেলেগুলি খেলা করিতেছে। মাঠে জনপ্রাণীর আভাস নাই। গরুগুলি জাবর কাটিতে ছায়ার আশ্রয় সন্ধান করিতেছে।

তবু লোকটা চিৎকার করে। অদৃশ্য উদাসিনীর উদ্দেশ্যে বোধহয়। একটা চুমকুড়ি দিয়া সে ছায়ায় বসিয়া পড়িল। একদম আমজাদের পাশে। তাড়ির গন্ধ উঠিতেছে মুখে। আমজাদ একটু সরিয়া বসে।

আরে লক্ষ্মী, সব ভাত খেলে, আর চাচার জন্যে–তারপর সে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ উঁচু করিল।

আজহারকে নদীর পাড়ের উপর দেখা গেল। হাত-মুখ, থালা ধোওয়া শেষ হইয়াছে।

নূতন উৎসাহ পায় লোকটা। আরো জোরে গান ধরে সে। কুমড়াক্ষেতের ওপাশে আজহারকে দেখিয়া সে জোরে ডাকে : ও ভাই খাঁ।

নিকটে আসিল আজহার : কে চন্দর?

লোকটা মহেশডাঙার চন্দ্র কোটাল। মাঠেই বসবাস করে সে। ভাড়-নাচের দল আছে তার। ভিন-গাঁ হইতে পর্যন্ত ডাক আসে পূজা-পার্বণের সময়। গাঁয়ের লোকের সঙ্গে তার সম্পর্ক কম। জ্ঞাতিদের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করিয়া কয়েক বছর আগে সে পল্লী পরিত্যাগ করিয়াছিল। প্রতিবেশীর নিঃশ্বাস তার ভালো লাগে না। কিন্তু মাঠে সকলের সঙ্গে তার সদ্ভাব খুব। কয়েক বিঘা জমি দূরে তার কুঁড়ে। স্ত্রী এলোকেশী আর একটি মেয়ে সংসারের সম্বল। বহু ঝড়-আপদ গিয়াছে তার উপর দিয়া। বসন্তে একই মাসে দুটি মেয়ে মারা গেল পাঁচবছর পূর্বে। চন্দ্র কোটাল স্ফুর্তিবাজ দিলখোলা লোক। কুঁড়ের পাশে কয়েকটি তালগাছ। আজহারের জমির প্রাঙ্গণ হইতেও তালসারি দেখা যায়। বাঁশ আর তাড়ির ভাঁড় সারাবছর এই গাছে লাগিয়া থাকে। গ্রীষ্মের দিনে চন্দ্র কোটালের মরশুম পড়ে।

ও খাঁ, শিগগির এসো।

চন্দ্র আমজাদের দিকে ফিরিয়া বলে, বুড়ো দাড়িওয়ালা কে?

আমার আব্বা।

কী করে জানো?

চন্দ্র গোঁফে আঙুল চালায় আর মুচকি হাসে।

আমার আব্বা তো। আমি জানিনে!

দূর হইতে সংলাপ কানে যায় আজহার খাঁর। নিকটে আসিয়া বলে, চন্দর, আজ কষে হারাম গিলেছ। খুব-যে গান ধরেছিলে। তৌবা!

এই তো খাঁ–ভাই, তুমিও গাল দেবে?

আজহার খাঁকে চন্দ্র সমীহ করে। সজ্জন ব্যক্তি। তাছাড়া খাঁয়েদের প্রাচীন বংশ মহিমার কাহিনী এই গাঁয়ের সকলের পরিচিত। তার দাম চন্দ্রও দিতে জানে।

মাছ কেমন ধরছ?

চন্দ্রের কুঁড়ের সম্মুখে দুইটি খালের মোহনা। বারোমাস পানি থাকে। বর্ষাকালে চন্দ্র চাষের দিকে ভালো মন দেয় না। মাছে খুব রোজগার হয় তখন। কাঠি-বাড় দিয়া খালের মোহনা ঘিরিয়া রাখে সে।

না ভাই, দিন-কাল ভালো নয়। একটু তামাক দাও।

আজহার খাঁ বাসন-লোটা নিচে রাখিল। কয়েত-বেলের গাছে ঠেস দিয়া সে নারিকেলি হুঁকা রাখিয়াছিল। হাতে তুলিয়া লইল।

আচ্ছা, তামাক খাওয়াচ্ছি, ছেলেটাকে একটা তরমুজ দাও। এ বছর আমার ক্ষেতে নাদারাৎ।

চন্দ্র কোটাল আমজাদের কচি থুতনি হাতের তালুর উপর রাখিয়া জবাব দিল, আরে ব্যাটা, এতক্ষণ আমাকে বলিনি কেন?

উঠিয়া পড়িল চন্দ্র। বিঘে দুই জমির পাড়ি। আবার শিস দিতে লাগিল সে। আনুষঙ্গিক গানও রেহাই পায় না।

জমি বেচে দুয়োর বেচে

গড়িয়ে দেব গয়না।

ডুমুর তলার হলুদ পাড়

আমারে হায় চায় না।

আজহার খাঁ আমজাদকে বলে, পাগল চন্দর।

পুত্র পিতার মন্তব্যে হাসে।

আমাকে এতক্ষণ বলছিল, সব ভাত শেষ করলে, আমার জন্যে রাখলে না?

তুমি কী জবাব দিলে?

কিছু না। চুপচাপ বসেছিলাম। ভয় পেয়েছিল।

আজহার খাঁ হাসে।

পাগল চন্দরকে ভয়ের কিছু নেই। আচ্ছা আসুক।

ফিরিয়া আসিল চন্দ্র কোটাল। শিস দিতে দিতে দুটি বড় তরমুজ মাটির উপর রাখিল। আমজাদের দুই চোখ আনন্দে উজ্জ্বল হইয়া ওঠে।

আজহার খাঁ বলে, দুটো বড় তরমুজ আনলে কেন?

তাতে কী।

আজ বাদ কাল গঞ্জ। এবার চালান দেবে না?

চন্দ্র ঘাম মুছিতেছিল।

না, এবার চোরে চোরে শেষ। এই হাট ফাঁক গেল।

দুইটি তরমুজ বেশ বড়। একটির রঙ ঘন সবুজ। অপরটি সাদা। মাঝে মাঝে কালো ডোর-টানা, যেন চিতাবাঘের গা।

চন্দ্র কোটাল আঙুলের টোকা দিয়া তরমুজ দুটি পরীক্ষা করিল।

এই সবজে রঙের তরমুজটা খুব পেকেছে। এখনই কাজ চলবে।

চন্দ্র কাস্তের নখ তরমুজের উপর বসাইতে গিয়া থামিয়া গেল। তোমার নাম কী, চাচা?

আমজাদ।

রাগ করো না। আর একটু দাঁড়াও, চাচা।

চন্দ্র আবার উঠিয়া পড়িল। নদীপথের দিকে তার মুখ। বাধা দিল আজহার। সে জিজ্ঞাসা করে, কী হলো চন্দর?

সারাদিন রোদ পেয়েছে, তরমুজ খুব গরম। ছেলেটার খেয়ে আবার শরীর খারাপ করবে।

আজহার ঈষৎ বিরক্ত হয়।

এখন তবে কী করবে?

নদীর হাঁটুজলে বালির তলায় পাঁচ মিনিট রাখলেই, ব্যাস।

একদম বরফ। ব-র-ফ।

আজহার দ্বিরুক্তি করে না। চন্দ্র জমির আল ধরিয়া নদীর দিকে চলিয়া গেল।

আজহার পুত্রের দিকে তাকায়।

দেখলে? চন্দরটা পাগল।

এবার পিতার কথায় আমজাদ সায় দিতে পারে না। সে নদীর দিকে চাহিয়া থাকে।

বড় ভালো লাগে চন্দ্র কোটালকে তার। শাদা ডোর-টানা তরমুজের দিকে সে আর একবার লোভাতুর দৃষ্টি নিক্ষেপ করিল।

দুই বছর কয়েত-বেল ধরে না। রোজগারের এই একটি পথ বন্ধ হইয়া গিয়াছে। আজহার খাঁ আফসোস করে।

মাঠে এলে, বাবা দুটো বেলও গাছে হয়নি।

আমজাদ এই কথায় কোনো সাড়া দেয় না। সে চন্দ্র কোটালের প্রতীক্ষা করিতেছে। সময় যেন আর শেষ হয় না।

সূর্যের কিরণে দহনসম্ভার নাই। পড়ন্ত বেলার সূচনা আরম্ভ হইয়াছে। ঈষৎশীতল বায়ু কয়েত-বেলের বনে মর্মর তোলে। গাভীদল দোদুল কোকুদে আবার ঘাসের সন্ধানে বাহির হইয়াছে।

এই, তরমুজ ক্ষেতে কে?

নদীর পাড়ে দণ্ডায়মান চন্দ্র। হাতে নদীস্নাত তরমুজ। টপটপ পানি পড়িতেছে।

আমজাদ আশ্বস্ত হয়।

আজহার তামাক সাজিতেছিল। চন্দ্র নিকটে আসিয়া দাঁড়াইল।

এইবার শুরু করা যাক। ফিকফিক হাসে চন্দ্র।

অমন হাঁকছিলে খামাখা। তোমার ক্ষেতে তো লোক নেই।

রাত্রেও মাঝে মাঝে হাঁকতে হয়। লোক নেই, চোর জুটতে কতক্ষণ।

হুঁকার মাথা হইতে কল্কে লইয়া চন্দ্র এলোপাথাড়ি টান আরম্ভ করিল।

তুমি তরমুজটা কেটে দাও ছেলেকে।

আমজাদ বিছানো খড়ের উপর বসিয়াছিল। তার পাশে বসিল চন্দ্র। ভকভক গন্ধ বাহির হয় মুখ হইতে। আমজাদ অসোয়াস্তি বোধ করে। একটু সরিয়া বসে।

চন্দ্র বলে, ভয় পেয়েছ বাবা?

না।

আজহার অভয় প্রদান করে।

ভয় কী। তোর চন্দর কাকা, আমু।

আমু চাচা, শুরু করো।

আজহার তরমুজ কাটিয়া দিল। লাল-দানা শাদা শাঁসের ভিতর দিয়ে উঁকি মারে। তরমুজ খুব পাকা।

তুমি একটু নাও, চন্দর।

না, না। আমি একটু রসটস গিলেছি। আর না। চন্দ্র ধোঁয়া ছাড়ে।

আমু চাচা, খেতে পারবে সব?

পারব, চন্দ্র কাকা।

বেশ কথা বলতে পারে তো।

চন্দ্র আমজাদের মুখের দিকে চাহিয়া রহিল।

বড় কষ্ট হয় আজের-ভাই। বড় মায়া দেয় মুখগুলো। কিন্তু খামখা।

আজহার কোটালের কথা সম্পূর্ণ বুঝিতে পারে না। বলে, কী বলছ?

এই ছেলেপুলের কথা। বড় মায়া দেয়। কিন্তু সারাজীবন তো খেটেখেটে বিনি আহার বিনি-কাপড়ে যাবে আমাদের মতো। চাষীর ছেলে!

কেন?

এখনও বুঝলে না, আজের-ভাই! মানুষ করা সাধ্যিতে কুলাবে?

কথাটা আজহারের মনঃপূত হয় না। পুত্রের জীবন সম্বন্ধে সে এত নৈরাশ্য পোষণ করে না।

খোদা নসিবে লিখে থাকলে মানুষ হবে!

ফের কপালের কথা তুলেছ। এই দ্যাখো, আমার সঙ্গে পাঠশালে সেই যে হরি চক্কোত্তির ছেলেটা ছিল, একদম হাবা, কত কান মলে দিয়েছি, মানসাঙ্ক পারত না, সেটা হাকিম হয়েছে। গায়ে তোর আর আসে না। সেটা হল হাকিম! আর আমি? পাঠশালার সেরা ছেলে মজাই তাড়ি আর নেশা, মাঠে মাথার ঘাম পায়ে–।

শঙ্কার ছায়া জাগে আজহার খাঁর মনে। আমজাদের কানে এইসব কথা যায় না। সে আনন্দে তরমুজ খাইতে ব্যস্ত।

ওর বাবা শহরে ছেলেকে নিয়ে গেল। পেটানো গাধা একদম মানুষ। হাকিম!

চোখের তারা উপরে তুলিয়া কল্কে হাতে চন্দ্র ভঙ্গি করে।

তুমি বলল নসীব—কপাল! ছো-ছো। হরি চক্কোত্তি বছর বছর জমির খাজনা সাধতে আসে। আমার বাবাকে না খাজনা দিতে হত, আমাকে না খাজনা দিতে হয়, আয়-উপায় বাড়ে, দেখি কোন্ দিকের জল কোন দিকে গড়ায়। কার কপাল কত চওড়া হয়, দেখা যাক।

আজহার চন্দ্রের কথা মন দিয়া শোনে। কোনো উত্তর দিতে পারে না। এই ধরনের কথা বলে দরিয়াবিবি। কারো সঙ্গে আজহারের মিল নেই। এদিকে আমজাদের তরমুজ খাওয়া পুরোদমে চলিতেছে। পুত্রের ভবিষ্যৎ একবার মাত্র উঁকি দিয়া গেল আজহারের মনে। চকিত ছোঁয়াচ মাত্র। উল্টোপাল্টা কথা তার ভালো লাগে না। উঠিয়া পড়িল আজহার।

চন্দর, এবার কল্কেটা দাও। এখনও বিঘেখানেক জমি মই দিতে বাকি।

দুইবার টান দিয়া কল্কে ফিরাইয়া দিল আজহার।

কয়েত-বেলের গাছের গুঁড়ির সঙ্গে বাঁধা বলদ দুইটি চোখ বুজিয়া রোমন্থন করিতেছিল। আজহারের আগমনে উঠিয়া দাঁড়াইল। কর্তব্য সম্বন্ধে পশু দুটি যেন সর্বদা সচেতন!

মই জুড়িয়া আজহার জমির উপর নামিল। জমিতে শকরগঞ্জ আলু দিবে এইবার আজহার খাঁ।

আমজাদের তরমুজ খাওয়া সমাপ্ত। সে হাতমুখ গামছায় মুছিয়া ধন্যবাদ জানাইল, তোমার তরমুজ খুব ভালো, চন্দ্র কাকা।

ওই তরমুজটা নিয়ে যেয়ো তোমার মায়ের জন্য। ভাবী আজ কী বেঁধেছিল।

আমজাদের বয়স সাত বছর। সাধারণ দীন ব্যঞ্জন। লোকের কাছে তা প্রকাশ করতে নাই। বালক সে-বিষয়ে সচেতন। কোনো জবাব দিল না সে।

বেশ, আমায় একদিন নেমন্তন্ন করো।

অস্ফুট আচ্ছা শব্দে জবাব দিল আমজাদ।

আজের-ভাই, ছেলে আমার তরমুজ-ক্ষেত দেখে আসুক, তোমার তো বাড়ি যেতে দেরি আছে?

আচ্ছা, যাক। দেরি করো না, আমু।

দেরি করব না, বাবাজি।

চৈত্রের বৈকাল। আকাশে খণ্ড মেঘেরা মন্ত্রণারত। সমগ্র প্রান্তর আবার কর্মকলরবে জাগিয়া উঠিতেছে। ঝড় না উঠিলে সন্ধ্যা পর্যন্ত রবি-ফসলের ক্ষেতে কাজের কামাই নাই। শুক্লা সপ্তমী। চাঁদের আলোয় খরা-ভীত কিষাণেরা বহুক্ষণ মাঠ গুজার করিয়া রাখিবে আজ।

অবাক হইয়া চারিদিকে তাকায় আমজাদ। মাঠের নিবিড়ে সে কোনোদিন প্রবেশপথ পায় নাই চেনাশোনা সড়ক ছাড়া। আজ চন্দ্ৰকাকার সঙ্গে জলা-জাঙালের পথ ভাঙিতে লাগিল সে।

পটল-বাড়ির মাঝখানে তামাকের গাছ উঠিয়াছে। হাত দুই দীর্ঘ। শাদা ফুল ফুটিয়াছে তামাক গাছে। আমজাদ সেদিকে চায় না। পটলক্ষেতের ধারে ধারে লঙ্কাগাছ অনেক। একটা গাছের কাছে আসিয়া থমকিয়া দাঁড়াইল।

এমন লঙ্কা সে আগে দেখে নাই। লাল রঙের লঙ্কা আকাশের দিকে পা তুলিয়া দাঁড়াইয়া রহিয়াছে। তারই মতো ডিগবাজি দিতেছে যেন। চন্দ্র আগে-আগে ছিল। পেছনে তাকায় সে।

আরে আমু চাচা, দেখছ কী?

এগুলো কী লঙ্কা, চন্দ্র কাকা?

অবাক হয় কোটাল।

চাষীর ছেলে হয়ে এই লঙ্কা চেনে না? সুজজু-মুখী লঙ্কা। তুলে নাও কতগুলো। আমজাদ ইতস্তত করে। পরের জমি।

চন্দ্র নিজেই কতগুলো লঙ্কা আমজাদের হাতে তুলিয়া দিল। নীল পাতা ভেদ করিয়া লাল রঙের ফুটকি সূর্যমুখী ছাড়া আর অমন কী গাছ আছে? অবাক হইবারই কথা। আমজাদ লঙ্কাগুলি লুঙির একদিকে বাঁধিয়া রাখিল। কিন্তু ফসলের উপর হইতে চোখ সে সহজে ফিরাইতে পারে না। পরদিন মাঠে আসিলে সে এই ক্ষেতের কথা বিস্মৃত হইবে না।

ঝিঙে-বাড়ির চারপাশে চাষীরা বাবলা কাঁটা দিয়াছে। ইতঃক্ষিপ্ত কাঁটারও অভাব নাই। আমজাদ চন্দ্র কোটালের পেছনে সন্তর্পণে হাঁটিতেছিল। চন্দ্র ফিরিয়া দাঁড়াইল।

দাঁড়াও, আমু।

দুইজনের মধ্যে একফালি জমির ব্যবধান। এখানে তামাকে ক্ষেত খুব ঘন। আমজাদ চন্দ্র কাকার সমগ্র অবয়ব দেখিতে পায় না। কোটালের কথামতো সে থামিয়া দাঁড়াইল।। আমজাদের কানে যায়, চন্দ্র বলিতেছে : জমিটা হারান মাইতির, তাই এত কাটা, যেমনি প্যাঁচালের লোক। দূর করে দিতে ইচ্ছা করে।

এক মুহূর্তে চন্দ্রকে আমজাদের পাশে দেখা গেল।

বেশ করেছ। তোমাকে আর হাঁটতে হবে না।

আমজাদকে আর কোনো কথা বলিতে দিল না চন্দ্র, তাকে কাঁধে তুলিয়া লইল সটান।

আমজাদ প্রথমে অসোয়াস্তি বোধ করিতেছিল, এখন ভালো লাগে তার। চন্দ্ৰকাকাকে ভয় নাই কিছু। কাঁধে চড়িয়া দূরের গ্রাম আর কিষাণপল্লী অপরূপ দেখায়।

ক্ষেত পার হইবার পর বুনোঘাসের পথ। ফড়িং উড়িতেছে চারিদিকে। চন্দ্র আনমনে চলে। নির্বিকার, নিঃশঙ্ক। শিসের জোয়ার আসে আবার।

আমার মাথাটা আঁকড়ে ধরিস, বাবা! পড়বার ভয় করো না।

ইহার পর কল্পিত একটা বাঁশি দুই হাতে ধরিয়া চন্দ্র শিস দিতে লাগিল। আমজাদের ভয় লাগে। টাল সামলানো দায় তার পক্ষে।

দম ভরিয়া শিস দেয় চন্দ্র। বোধহয় গান মনে ছিল না, তাই মেঠো সঙ্গীতের রেশ ওঠে না কোথাও।

আমজাদ নিচের দিকে চাহিয়া দেখে, বুনোঘাসের সীমানা আর শেষ হয় না। তার প্রতি চন্দ্ৰকাকার অনুকম্পার কারণ এখন বুঝিতে পারে।

আমজাদ তাদের জমির দিকে চাহিয়া দেখিল, আব্বা আর চোখে পড়ে না। কতগুলি তালগাছের আড়াল হইয়া গিয়াছে সব। ক্ষীয়মাণ সূর্যরশ্মি চিকচিক করিতেছে তালের পাতায়।

চন্দ্রের শিস এইমাত্র থামে।

চাচা, কাঁধে চড়ে কষ্ট হচ্ছে না তো?

না।

সংক্ষিপ্ত জবাব আমজাদের।

চন্দ্র আবার কল্পিত বাঁশি ঠোঁটে রাখিয়া আঙুল নাচাইতে নাচাইতে হঠাৎ থামিল।

ঠিক চাচা, কাঁধে ভালোই লাগে। দুনিয়ার রংই ফিরে যায়। জমিদার সেজে বসে থাকো, চাচা।

আমজাদ চন্দ্ৰকাকার হেঁয়ালি বুঝিতে পারে না। উঁচু-নিচু মাটির উপর পা ফেলিতেছে কোটাল। তাই তার ঝাঁকড়া চুল আরো কষিয়া ধরে আমজাদ।

ঐ যে আমার কুঁড়ে দেখা যায়।

চকিতে চোখ ফিরাইল আমজাদ। দুই ছোট নদীর মোহনা। নদী নয়, একটু বড় খাল। আরো কয়েকটা কুঁড়ে পাশাপাশি। সম্মুখে বড় বালির চাতাল। উঁচু ঢিবির উপর ঘরগুলি। সম্মুখে যোজন-যোজন অভিসারযাত্রী প্রান্তর। ওয়েসিসের মতো চোখে পড়ে মাটির সন্তানদের আবাসভূমি।

আমজাদের কৌতূহল বাড়ে। চাতালের উপর কতগুলি ছেলেমেয়ে হল্লা করিতেছে, কয়েকজন দাঁড়াইয়া রহিয়াছে ঢিবির উপরে। চন্দ্ৰকাকা শিস দিতে আরম্ভ করিয়াছে। ছেলেদের ভেতর কলরব আরো বাড়িয়া যায়।

শাদা চত্বরের নিকট আসিয়া চন্দ্র জোরগলায় ডাক দিল, এলোকেশী—এলোকেশী!!

ছেলেদের মাঝখানে চন্দ্র কোটাল। ঝটকা স্তব্ধতা আসে একবার। চন্দ্র হাঁকে, এলোকেশী!

ভিড়ের ভেতর হইতে একটা ছেলে বলিল : চন্দ্ৰকাকা আজ আবার মাতাল হয়ে এসেছে।

ঢিবির উপর হইতে একটি মাঝবয়সী মেয়ে বাহির হইল। চাষীগেরস্থ ঘরের মেয়ে। ঈষৎ স্থূল-তনু। রোগ-শোক-দীর্ণ মুখ। পরনে ময়লা ন-হাতি কাপড়।

চন্দ্র এইবার সঙ্গীত পরিবেশন করে। ক্রীড়ারত শিশুদের মধ্যে স্তব্ধতা আরো বাড়িয়া যায়। কয়েকজন মুচকি হাসে।

এলোকেশী চন্দ্রের স্ত্রী। নিচে নামিয়া আসিল।

কাঁধে কার ছেলে গো?

আমার। যাও যাও শিগগির। মুড়ি-টুড়ি আছে?

আমজাদের পা ও ঘাড়ের পেছনে হাত দিয়া ছোট শিশু দোলানোর মতো চন্দ্র এক ভঙ্গি করিল। একটি শিস, সুইৎ শব্দে থামার সঙ্গে সঙ্গে মাটির উপর বসিয়া পড়িল আমজাদ। ভিড় জমে চারপাশে। নদীর ওপারের ছেলেরা এইখানে খেলা জমায় প্রতিদিন। জোয়ারে হাঁটুজল হয় না, তাই পারাপারের কোনো অসুবিধা নাই।

খোকা, এসো আমার কাছে।

এলোকেশী দুই হাত বাড়াইল।

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান