ধূসর পাণ্ডুলিপি » ধূসর পাণ্ডুলিপি

পাতা তৈরিসেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০; ২২:৫১
সম্পাদনাঅক্টোবর ৭, ২০২০, ০০:৩৮
দৃষ্টিপাত

ধূসর পাণ্ডুলিপি কবি জীবনানন্দ দাশের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ) ভারতে প্রকাশিত হয়। জীবনানন্দ এই বইটি কবি বুদ্ধদেব বসুকে উৎসর্গ করেন। এই কাব্যগ্রন্থে মোট সতেরোটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এরমধ্যে মাঠের গল্প কবিতাটির চারটি অংশকে আলাদা কবিতা বিবেচনা করলে কবিতার সংখ্যা হয় কুড়িটি।

১৩৬৩ সালের আশ্বিন মাসে অশোকানন্দ দাশের সম্পাদনায় সিগনেট প্রেস প্রকাশ করে ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’র দ্বিতীয় সংস্করণ। এতে ১৯৩৬ সালের পূর্বে রচিত জীবনানন্দ দাশের কবিতা সমূহকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। বর্তমান সঙ্কলনে আমরা দ্বিতীয় সংস্করণকে অনুসরণ করেছি।

— সম্পাদক

ভূমিকা

জীবনানন্দ দাশ রচিত ভূমিকা

“আমার প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছিল—১৩৩৪ সালে। কিন্তু সে বইখানা অনেকদিন আমার নিজের চোখের আড়ালেও হারিয়ে গেছে। আমার মনে হয় সে তার প্রাপ্য মূল্যই পেয়েছে।

১৩৩৬ সালে আর একখানা বই বার করবার আকাঙ্ক্ষা হয়েছিল। কিন্তু নিজ মনে কবিতা লিখে এবং কয়েকটি মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত ক’রে সে ইচ্ছাকে আমি শিশুর মত ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলাম। শিশুকে অসময়ে এবং বারবার ঘুম পাড়িয়ে রাখতে জননীন যে রকম কষ্ট হয়, সেইরকম কেমন একটা উদ্বেগ—খুব স্পষ্টও নয়, খুব নিরুত্তেজও নয়—এই ক’বছর ধ’রে বোধ ক’রে এসেছি আমি।

আজ ন’বছর পরে আমার দ্বিতীয় কবিতার বই বার হ’ল। এর নাম “ধূসর পান্ডুলিপি” এর পরিচয় দিচ্ছে। এই বইয়ের সব কবিতাই ১৩৩২ থেকে ১৩৩৬ সালের মধ্যে রচিত হয়েছে। ১৩৩২ সালে লেখা কবিতা, ১৩৩৬ সালে লেখা কবিতা—প্রায় এগারো বছর আগের প্রায় সাত বছর আগের রচনা সব আজ ১৩৪৩ সালে এই বইয়ের ভিতর ধরা দিল। আজ যে-সব মাসিক পত্রিকা আর নেই—প্রগতি, ধুপছায়া, কল্লোল—এই বইয়ের প্রায় সমস্ত কবিতাই সেইসব মাসিকে প্রকাশিত হয়েছিল একদিন।

সেই সময়কার অনেক অপ্রকাশিত কবিতাও আমার কাছে রয়েছে—যদিও ধূসর পাণ্ডুলিপির অনেক কবিতার চেয়েই তাদের দাবি একটুও কম নয়—তবুও সম্প্রতি আমার কাছে তারা ধূসরতর হয়ে বেঁচে রইল।”

আশ্বিন ১৩৪৩ জীবনানন্দ দাশ

দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

ধূসর পাণ্ডুলিপি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৩৪৩ সালের আশ্বিনে। আজ প্রায় কুড়ি বছর পরে তার দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম সিগনেট সংস্করণ হিসেবে। এবারে বইখানির কলেবর আগের চাইতে বর্ধিত হচ্ছে; দুঃখের বিষয়, কবি বেঁচে থাকতে তা হতে পারল না, তাহলে তা নিশ্চয়ই সামঞ্জস্যপূর্ণ সুষ্ঠু সার্থকতার সঙ্গে হতে পারত।

প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় কবি উল্লেখ করেছিলেন যে, এই প্রন্থে গ্রথিত কবিতাগুলির সমকালীন অনেক অপ্রকাশিত কবিতা ‘ধূসরতর’ হয়ে তাঁর কাছে বেঁচে রয়েছে, যদিও গ্রন্থিত অনেক কবিতার চেয়ে তাদের দাবি একটুও কম নয়। সেই সব ‘ধূসরতর’ কবিতা সন্ধান করতে গিয়ে দেখছি, তাদের অনেকগুলি আজ আর বেঁচে নেই; কীটদষ্ট হয়ে উদ্ধারের অতীত হয়েছে। মাত্র দু’খানি খাতা সংগ্রহ করা সম্ভবপর হয়েছে। সেই খাতা দু’টি থেকে মোট পনেরোটি কবিতা এ-সংস্করণে সংযোজিত হল। ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’র সুর ও সাময়িকতা যে-সব কবিতায় মোটামুটি প্রখর, সেই সব কবিতাই অগ্রাধিকার পেল। কোনো-কোনো কবিতাতে অবিশ্যি ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’র পরেকার কাব্যপর্যায়ের চরিত্রগত স্বাতন্ত্র্যের আভাস চোখে পড়তে পারে। হয়তো এ-সব কবিতা বিবর্তনশীল কাব্যপ্রবাহের একটা অন্তর্বর্তীকালীন সন্ধিপর্বের চিহ্নযুক্ত। এই ক্রমিববর্তনশীলতার উপর নির্ভল না-করে কবিতার বিন্যাসসাধনের বিষয়ে মোটামুটি ভাবে রচনার কালক্রম অনুসরণ করা হয়েছে।

এই অপ্রকাশিত কবিতাগুলি সংযোজনের ব্যাপারে ঈষৎ সঙ্কোচ বোধ করতে হচ্ছে; কেননা, প্রকাশ করার পূর্বে প্রত্যেকটি কবিতাকে পরিমার্জিত করার অভ্যাস কবির ছিল, যাতে করে ‘প্রথম লিখবার সময় যেমন ছিল তার চেয়ে বেশি স্পষ্টভাবে—চারদিককার প্রতিবেশচেতনা নিয়ে শুদ্ধ প্রতর্কের আবির্ভাবে, কবিতাটি আরও সত্য হয়ে উঠতে পারে: ‘পুনরায় ভাবপ্রতিভার আশ্রয়ে।’ সে-রকম পরিমার্জনা করা এখন আর সম্ভবপর নয়। তাই, সংযোজিত কবিতাগুচ্ছ যে স্রষ্টার প্রখর অভিভাবকতা লাভের সৌভাগ্য থেকে একেবারেই বঞ্চিত, সহৃদয় পাঠককে এই কথাটি স্মরণে রাখতে অনুরোধ করি।

কলকাতা। আশ্বিন ১৩৬৩ অশোকানন্দ দাশ

উৎসর্গ

বুদ্ধদেব বসুকে

সূচিপত্র

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান