web analytics

কথা সাহিত্য > উপন্যাস > শবনম

সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত কাবুলের একটি কলেজে ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ ভাষার শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপনা করেন। কাবুলবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস দেশে বিদেশে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় বৈশাখ ১৩৫৬ বঙ্গাব্দে। সে বইতে উল্লেখিত ঘটনাবলীর উপর ভিত্তি করেই তিনি পরবর্তীতে রচনা করেছিলেন আত্মজৈবনিক উপন্যাস শবনম।
পাত্র— মজনূন; পাত্রী— শবনম।
হঠাৎ করেই পরিচয়।
প্রথম দর্শনেই দুর্নিবার আকর্ষণ, নায়কের নিদ্রা হারাম।
দ্বিতীয় দর্শনে বাকরুদ্ধ হলেন নায়ক।
তৃতীয় দর্শনে জানতে পারলেন এ প্রেম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার চিরন্তন নিয়ম মেনে চলেছে; অর্থাৎ শবনমও মজনূনে মজেছেন। শবনম জানিয়ে গেলেন, “আমি তোমাকে ভালবাসি।”
কিছুকাল দূরে থাকার বিরহ। অতঃপর পুনরায় দর্শন, পরিণয়। কিন্তু বিয়ের পরবর্তী দিনেই আবার বিরহে কাতর মজনূন। কারণ, নব-পরিণীতা শবনম অপহৃত। তার সম্পর্কে এতটুকুই জানা যায় কেবল, দুর্বৃত্ত জাফরকে খুন করে পালাতে সক্ষম হয়েছিল সে। কিন্তু কোথায় আছে, কেমন আছে সে— তা অজানাই থেকে যায়। অপেক্ষায় দিন কাটে মজনূনের।
সংক্ষেপে এই হল “শবনম”-এর গল্প।
উপন্যাস-ই? মুহম্মদ এনামুল হক উত্তর দিয়েছেন এভাবে—‘ঘটনাপ্রবাহসঞ্জাত চরিত্রসৃষ্টিই উপন্যাসের মূল উপাদান এবং তাহাই ইহাতে অনুপস্থিত।’
তবে নাটক? না, নাটকের কোন বৈশিষ্ট্যও এতে নেই।
তবে শবনম কি সাহিত্যের চির অভিজাত শাখা কাব্য? হ্যাঁ, ভাবমধুর ও রসঘন কাব্যের সমাহার যদি কাব্য হয়, তবে শবনম হয়তো তাই-ই।
শিক্ষকতা পেশার ভিত নিয়েই আলী সাহেব গিয়েছিলেন আফগানিস্তানে। আর প্রভাবশালী স্থানীয় সর্দার আওরঙ্গজেব খানের একমাত্র দুহিতা শবনম। ইংরেজদের মতো সাদামাটাভাবে বলতে গেলে যার ছিল চারটে বি-ই। ‘বিউটি, ব্রেন, বার্থ, ব্যাঙ্ক’।
দুঁদে আঁকিয়ে শবনম কথায় কথায় আওড়াতো কবিতা। তার প্রতি মুহূর্তে উদ্ধৃত পংক্তিমালা শুনেও মজনূন লেখকের মতোই আমিও শুধাইনি কখনো– ‘তুমি বাস্তবে বাস করো না কাব্যলোকে?’
শবনমের কাহিনী এমনই টসটসে কোবতে জারক রসে মাখানো যে, তা থেকে গল্পের বুনোট ছেঁকে সারসংক্ষেপ তুলে আনা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার!
শবনম নয় আমার মতো সাধারণ ধনজনের বিত্ত। যাকে গ্রন্থালোচনা শ্রেণীতে সারিবদ্ধ করে ছোট্ট পরিসরে পরিচিত করা যাবে অপরিচিত পাঠকের কাছে। ‘কামের চশমা পড়িয়া মোহকে যারা প্রেম বলে, এই প্রেম সেই প্রেম নহে।’
সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে ক্ষুদ্রতর নিয়ে যা– সেই ইনফিনিটি এই শবনম।
Read online or Download this book

© ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

এই বইটির স্বত্বাধিকার লেখক বা লেখক নির্ধারিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের, অর্থাৎ বইটি পাবলিক ডোমেইনের আওতাভূক্ত নয়৷ কেননা, যে সকল বইয়ের উৎস দেশ ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে, লেখকের মৃত্যুর ষাট বছর পর স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত অথবা বেনামে বা ছদ্মনামে ও মরণোত্তর প্রকাশিত রচনা বা গ্রন্থসমূহ প্রথম প্রকাশের ষাট বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ, ১ জানুয়ারি, 2019 সাল হতে 1959 সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে। এবং 1959 সালের পরে প্রকাশিত বা মৃত লেখকের বইসমূহ পাবলিক ডোমেইনের আওতাভূক্ত হবে না৷

আইনি সতর্কতা

প্রকাশক এবং স্বত্বাধিকারীর লিখিত অনুমতি ছাড়া এই বইয়ের কোনও অংশেরই কোনওরূপ পুনরুৎপাদন বা প্রতিলিপি করা যাবে না, কোন যান্ত্রিক উপায়ের (গ্রাফিক, ইলেকট্রনিক বা অন্য কোনও মাধ্যম, যেমন ফটোকপি, টেপ বা পুনরুদ্ধারের সুযোগ সম্বলিত তথ্য-সঞ্চয় করে রাখার কোনও পদ্ধতি) মাধ্যমে প্রতিলিপি করা যাবে না বা কোন ডিস্ক, টেপ, পারফোরেটেড মিডিয়া বা কোনও তথ্য সংরক্ষণের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুনরুৎপাদন করা যাবে না। এই শর্ত লঙ্ঘিত হলে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

Leave a Reply

WhatsApp chat