বিভাগ: উপন্যাস
বাংলা
লেখক
ইপাব, মুবি, পিডিএফ, টেক্সট
এযাবৎ আনিসুল হকের তিনটি উপন্যাস আমি পড়েছি—মা, না-মানুষি জমিন ও আমারও একটা প্রেমকাহিনি আছে৷ যতদূর জানি, গ্যব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস হকের একজন প্রিয় লেখক৷ তাই কি তাঁর আমারও একটা প্রেমকাহিনি আছে উপন্যাসে ‘মার্কেসীয় ঢং’-এর আঁচড় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে? উপন্যাসে চরিত্র হিসেবে লেখকের সক্রিয় উপস্থিতি আমাকে মার্কেসের নানা উপন্যাস ও ছোটগল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়৷ শুরুতেই দেখা যায়, লেখক প্লট খুঁজছেন৷ তিনি ‘ভিজিটিং রাইটার’ হিসেবে এক মাসের জন্য গেছেন আমেরিকার ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ সেখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইভা নামের এক মেয়ে নিজের প্রেমকাহিনি শোনায় তাঁকে৷ ইভার প্রেমিকের নাম শুভ৷ সে ইভার বাবার বন্ধুর ছেলে৷ বাল্যকালে তাদের ঘনিষ্ঠতা দেখে দুই পরিবারই পরিণত বয়সে তাদের বিয়ে দেবে বলে ঠিক করে রাখে৷ এভাবেই এগোতে থাকে গল্প৷ দুই. ইভা চারুকলায় পড়েছে৷ শুভ ভারতের আইআইটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছে৷ পরিণত বয়সে ইভা ও শুভ সত্যি সত্যি একে অপরের প্রেমে জড়িয়ে পড়ে৷ ইভার বলা গল্প লেখক আগ্রহভরে শুনতে থাকেন৷ লেখক এ প্রসঙ্গে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসা মানুষেরই কাছে দামি৷’ ইভা জানায়, তাদের প্রেমে দেহ ও মন উভয়েরই মিলন হয়েছে৷ একদিন প্রেমাসক্ত ইভা ও শুভ একে অপরকে দেহ-মন উজাড় করে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে৷ ঘুম থেকে উঠে শুভ বাথরুমে যায়৷ হঠাৎ তার মুঠোফোনে একটি মেসেজ আসে৷ ইভা কোনো রকম উদ্দেশ্য ছাড়া এমনিতেই মেসেজটি দেখে৷ ঘটনাটি এ রকম: শুভ ফেসবুকে একটি মেয়ের সঙ্গে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলে৷ বলতে গেলে ভার্চুয়ালি ওই মেয়ের প্রেমে পড়ে যায় সে৷ এদিকে শুভর ফেসবুক ইনবক্সে ঢুকে কথাগুলো পড়ার পর ইভার নিষ্পাপ ভালোবাসা যায় দুমড়ে-মুচড়ে৷ একপর্যায়ে শুভর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ইভা৷ এ ঘটনার পরপরই সে চলে যায় আমেরিকা, একটা ওয়ার্কশপে যোগ দিতে৷ সেখানে ঠিক শুভর মতো দেখতে সুদীপ নামের এক নেপালি ছেলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়৷ মজার ব্যাপার হলো, ইভা লেখককে একই সঙ্গে দুটি গল্প শোনাচ্ছে৷ একবার সুদীপের কথা বলছে তো আরেকবার শুভর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর বর্ণনা দিচ্ছে৷ যা হোক, ইভা সুদীপের মধ্যে শুভকে খুঁজে বেড়ায়৷ আর সুদীপ ইভাকে বোঝায় যে ইভা মূলত সুদীপকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে শুভকেই ভালোবাসে৷ তবে কি এখন ইভা ফিরে যাবে শুভর কাছে? ফিরে গেলে কি শুভর হারানো ভালোবাসা পাবে সে? তিন. এবার এ উপন্যাসের যে বিষয়গুলো আনিসুল হককে বিশিষ্টতা দিয়েছে, সেসব নিয়ে একটু বলি৷ উপন্যাসের প্রতিটি অধ্যায়ের শুরু লেখকের কোনো না কোনো প্রিয় কবির কবিতার কয়েক পঙ্ক্তি দিয়ে৷ ধারাটি সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যে বিরল৷ ‘ইভার কথা’ শিরোনামে লেখক ইভা নামের মেয়েটির প্রেমকাহিনি শুনছেন৷ আবার ‘আমার কথা’ শিরোনামে গল্প নিয়ে তাঁর নিজের ভাবনা, অনুভূতির কথা জানাচ্ছেন লেখক৷ বাংলা সাহিত্যে গল্প বলার যে ঐতিহ্য রয়েছে, এ উপন্যাসে লেখক মনে হয় সেই ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছেন৷ উত্তরাধুনিক উপন্যাসের একটি অন্যতম উপাদান হাস্যরস কিংবা হিউমার৷ আনিসুল হকের উপন্যাসটিতে তা যথেষ্টই আছে৷ লেখক নিজেই যখন কোনো উপন্যাস বা গল্পের সক্রিয় চরিত্র হয়ে থাকেন, তখন এর আমেজটা ভিন্ন হয় এবং আমি-আপনি সবাই লেখকের নিজ ভুবনের বাসিন্দা হয়ে যাই৷ এ ক্ষেত্রে মার্কেস ও হকের মধ্যে চমৎকার এক সাযুজ্য আছে৷ আমারও একটা প্রেমকাহিনি আছে-তে আনিসুল হক যে গল্প আমাদের শুনিয়েছেন, তা সরলরৈখিক নয়৷ এটি প্রাপ্তমনস্কের একটি সংবেদী গল্প, যার শুরুটা স্পষ্ট, শেষটা ধূসর৷
Read online or Download this book

যে সকল বইয়ের উৎসস্থল বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুসারে, লেখকের মৃত্যুর ষাট বছর পর স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত অথবা বেনামে বা ছদ্মনামে ও মরণোত্তর প্রকাশিত রচনা বা গ্রন্থসমূহ প্রথম প্রকাশের ষাট বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ, ২০১৮ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৫৮ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।

রচনাবলী
আপনার জন্য প্রস্তাবিত বইসমূহ