web analytics

কথা সাহিত্য > উপন্যাস > অবিশ্বাস্য

অবিশ্বাস্য উপন্যাসটি যে কোন বড় মাপের সৃষ্টিশীল কাজের মত বহুমাত্রিক। ধর্ম ও ধর্মীয় অনুষঙ্গ উপন্যাসটিতে আদ্যন্ত। বুঝতে কিছুমাত্র অসুবিধা হবে না, তুলনামূলক ধর্মতত্বের একজন প্রত্যয়নিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ স্কলারের পক্ষেই এই ধরণের উপন্যাস পরিকল্পনা অনায়াসে সম্ভব। এক অর্থে এই উপন্যাসটির বিষয় নৈতিকতার সংকট ও উত্তরণের চেষ্টা। পাপবোধ ও আত্মগ্লানিকে বিভিন্ন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা এবং জীবন রসরসিকতার প্রেক্ষিতে নায়কের আত্মজিজ্ঞাসাকে সর্বজনীন অন্বেষণে উন্নীত করার প্রয়াস।
একটা লেখা কখন পাঠকের মন ছুঁয়ে যায়? যখন লেখক কোন বিষয়কে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা রাখেন আর সেটা সুচারু শব্দচয়নে আমাদের সামনে তুলে ধরেন। সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখায় এই দুটো ব্যাপারের কোন কমতি নেই। অবশ্য তাঁর নিয়মিত পাঠকদের কাছে এটা কোন নতুন তথ্য নয় হয়তো। আর অনুভূতি? এই ছোট ৮০-৯০ পাতার উপন্যাসটি যতক্ষণ পড়েবেন, এতেই বুদ হয়ে থাকবেন। জগতের অন্য সবকিছুর থেকে ক্ষণিকের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকবেন।
“অবিশ্বাস্য” উপন্যাসের মুলগল্পটি বেশ ছোট। দৈনন্দিন জীবন থেকে একটু বাঁকা পথে চলে যাওয়া একটা কাহিনী, কিন্তু খুব অচেনাও না। মোটামুটি মাঝপথে এসে বুঝে যাওয়া যায় যে ব্যাপারটা কী ঘটেছে। সেখানে পাঠকের জন্য কোন চমক নেই। চমক রয়েছে অন্য কোথাও, যেমন— মূলগল্পের সাথে সাথে ঘটে যাওয়া আনুষঙ্গিক ঘটনাগুলোতে। চমক রয়েছে কিছু নিঃস্বার্থ সম্পর্কের বর্ণনায়। নিঃস্বার্থ মানে কিন্তু আসলেই নিঃস্বার্থ। না বন্ধু, না শত্রু, তবুও দুর্দিনে পাশে কে আছে খোঁজ করলে তাদেরকে পাওয়া যায়, এমন সম্পর্ক। আর সবচেয়ে বড় চমক রয়েছে মানুষের মনে, তাদের চিন্তাভাবনায়, তাদের জীবনবোধের তত্ত্বে।
কাহিনী সংক্ষেপ
ছোট্ট এক মহকুমা শহর মধুগঞ্জে এসিষ্টেণ্ট সুপারিণ্টেণ্ডেণ্ট অব পুলিশ হয়ে আসলেন আইরিশম্যান ডেভিড ও-রেলি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এলাকার বাঙ্গালী আর অন্যান্য সাহেব, মেমদের মন জয় করে নিলেন সদাহাস্য এ তরুণ। কিছুদিন পর বিয়েও করলেন। কিন্তু বিয়ের আগের আর পরের ও-রেলীর মধ্যে এত পার্থক্য কেন?
আর সেই বদলে যাওয়া নিয়েই সৈয়দ মুজতবা আলীর উপন্যাস ‘অবিশ্বাস্য’।
অবিশ্বাস্য উপন্যাসের উপলভ্য সংস্করণ

© ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

এই বইটির স্বত্বাধিকার লেখক বা লেখক নির্ধারিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের, অর্থাৎ বইটি পাবলিক ডোমেইনের আওতাভূক্ত নয়৷ কেননা, যে সকল বইয়ের উৎস দেশ ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে, লেখকের মৃত্যুর ষাট বছর পর স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত অথবা বেনামে বা ছদ্মনামে ও মরণোত্তর প্রকাশিত রচনা বা গ্রন্থসমূহ প্রথম প্রকাশের ষাট বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ, ১ জানুয়ারি, 2019 সাল হতে 1959 সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে। এবং 1959 সালের পরে প্রকাশিত বা মৃত লেখকের বইসমূহ পাবলিক ডোমেইনের আওতাভূক্ত হবে না৷

আইনি সতর্কতা

প্রকাশক এবং স্বত্বাধিকারীর লিখিত অনুমতি ছাড়া এই বইয়ের কোনও অংশেরই কোনওরূপ পুনরুৎপাদন বা প্রতিলিপি করা যাবে না, কোন যান্ত্রিক উপায়ের (গ্রাফিক, ইলেকট্রনিক বা অন্য কোনও মাধ্যম, যেমন ফটোকপি, টেপ বা পুনরুদ্ধারের সুযোগ সম্বলিত তথ্য-সঞ্চয় করে রাখার কোনও পদ্ধতি) মাধ্যমে প্রতিলিপি করা যাবে না বা কোন ডিস্ক, টেপ, পারফোরেটেড মিডিয়া বা কোনও তথ্য সংরক্ষণের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুনরুৎপাদন করা যাবে না। এই শর্ত লঙ্ঘিত হলে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

Leave a Reply

WhatsApp chat