চিত্তনামা » চিত্তনামা

পাতা তৈরিঅক্টোবর ৯, ২০২০; ১৯:২৮
সম্পাদনাঅক্টোবর ৯, ২০২০, ১৯:২৮
দৃষ্টিপাত
চিত্তনামা কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানের সঙ্কলন। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় শ্রাবণ ১৩৩২, আগষ্ট ১৯২৫ সালে।
১৩৩২ সালের দোসরা আষাঢ় দার্জিলিঙে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ পরলোকগমন করেন। ১৩৩২ শ্রাবণে ‘চিত্তনামা’ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থখানি সম্পর্কে ১৩৩২ অগ্রহায়ণের ‘প্রবাসী’ বলেন—
‘৪০ পাতা বইয়ের দাম এক টাকা … বইয়ের কবিতাগুলি পড়িয়া ভাল লাগিল। লেখকের দেশবন্ধুর প্রতি ভক্তি প্রতি ছত্রে প্রকাশ পাইয়াছে। বইখানির বাঁধান, ছাপা, কাগজ—সবই খুব ভাল।
‘অর্ঘ্য’ সম্পর্কে শ্রীপ্রাণতোষ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন—
“দেশবন্ধুর মৃত্যু সংবাদ শুনে কবি কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে ‘অর্ঘ্য’ গানটি লেখেন ১৩৩২ সালের ৩রা আষাঢ়। দেশবন্ধুর শবাধারে রচনাটি মালার সঙ্গে অর্ঘ্য-স্বরূপ জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।”
— কাজী নজরুল, ৩৭ পৃষ্ঠা
‘অকালসন্ধ্যা’ ১৩৩২ শ্রাবণের ‘বঙ্গবাণী’তে প্রকাশিত হয়েছিল। শিরোনামের নিচে বন্ধনীর মধ্যে লেখা ছিল— ‘জয় জয়ন্তী কীর্ত্তন—একতালা। পাদটীকায় লেখা ছিল— ‘স্বর্গীয় দেশবন্ধুর শোকযাত্রার গান’।
‘সান্ত্বনা’ ১৩৩২ আষাঢ়ের পঞ্চম বর্ষের ৩১ সংখ্যক ‘বিজলী’তে বের হয়েছিল।
‘ইন্দ্রপতন’ ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ১২ই আষাঢ় তারিখের ‘আত্মশক্তি’তে প্রকাশিত হয়। এ সম্পর্কে চৌধুরী শামসুর রহমান লিখেছেন—
ইন্দ্রপতন সাপ্তাহিক ‘আত্মশক্তি’ পত্রিকায়ই ছাপা হয়েছিল। … কবি তাঁর এ কবিতায় মহান নেতার গুণকীর্তন করতে গিয়ে তাঁকে নবীদের সাথে তুলনা করে উচ্ছ্বাসের আতিশ্যে বলে ফেলেছিলেন: ‘হে মানব-আম্বিয়া।’ তাছাড়া, কবিতাটিতে এমন আরও কতকগুলি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ইসলামী ভাবধারার অনুকূল নয়। এ সব ত্রুটির প্রতি কবির দৃষ্টি আকর্ষণ করে খোলা চিঠির আকারে লেখা আমার প্রবন্ধ মফঃস্বলের কাগজ ‘বগুড়ার কথা’য় দীর্ঘ দুপৃষ্ঠা স্থান নিয়ে প্রকাশিত হয়। আমার এ প্রবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার পর মুসলমান সমাজে তৎকালে বেশ সাড়া পড়ে গিয়েছিল।… পরে যখন কবিতাটি তাঁর ‘চিত্তনামা’ বইয়ে প্রকাশিত হয়, কবি নজরুল তখন আপত্তিকর লাইনগুলি সংশোধন করে এবং কোনা কোনো লাইন বাদ দিয়েই তা ছেপেছিলেন।”
— পঁচিশ বছর, ৪২—৪৪ পৃষ্ঠা
কবিতাটি গ্রন্থবদ্ধ হওয়ার কালে “হে মানব-আম্বিয়া” পদটি পরিবর্তিত হয়ে “হে মানব নবী-হিয়া” রূপে এবং তাহার চারিটি পংক্তি পরিবর্জিত হয়। যত দূর মনে পড়ে, পরিত্যক্ত পংক্তিগুলি ছিল এরূপ—
জন্মিলে তুমি মোহাম্মদের আগে, হে পুরুষবর!
কোরানে ঘোষিত তোমার মহিমা, হতে পয়গাম্বর।
যে জ্যোতি পারেনি সহিতে স্বয়ং মুসা-ও কোহ-ই-তুরে,
সেই জ্যোতি তুমি রেখেছিলে তব নয়ন-মণিতে পুরে।
‘রাজভিখারী’ ১৩৩২ শ্রাবণের ‘কল্লোলে’ প্রকাশিত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ছায়ানট ও চিত্তনামা কাব্যে প্রকাশকাল মুদ্রিত হয়নি। বেঙ্গল লাইব্রেরির তালিকায় ছায়ানটের প্রকাশকাল ২২ সেপ্টেম্বর ১৯২৫ এবং চিত্তনামার প্রকাশকাল ৪ নবেম্বর ১৯২৫ বলে উল্লেখিত আছে। এসব তারিখ গ্রন্থপ্রকাশের প্রকৃত তারিখ নাও হতে পারে। তবে বাংলা একাডেমি এই কালক্রম অনুসরণ করে নজরুল রচনাবলীর জন্মশতবার্ষিকী সংস্করণে চিত্তনামার আগে ছায়ানটের স্থান দিয়েছে।
উৎসর্গ
মাতা বাসন্তী দেবীর
শ্রীশ্রীচরণারবিন্দে
নজরুল ইসলাম
গ্রন্থাবলী
মতামত জানান