চন্দ্রনাথ » চন্দ্রনাথ

রচনাবলী
পাতা তৈরিজানুয়ারি ১০, ২০১৬; ০০:০০
সম্পাদনাঅক্টোবর ১৭, ২০২০, ২২:১৪
দৃষ্টিপাত
চন্দ্রনাথ ১৩২৯ সালের বৈশাখ থেকে আশ্বিন সংখ্যা পর্য্যস্ত ‘যমুনা’য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ১২ মার্চ ১৯১৬ খ্ৰীঃ পুস্তকাকারে প্রকাশ করেন রায় এম. সি. সরকার বাহাদুর এও সন্স। এর চতুর্দ্দশ সংস্করণে নিম্নলিখিত বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়।
“চন্দ্রনাথ গল্পটি আমার বাল্যরচনা। তখনকার দিনে গল্পে উপন্যাসে কথোপকথনে যে ভাষা ব্যবহার করা হইত এই বইখানিতে সেই ভাষাই ছিল। বৰ্ত্তমান সংস্করণে মাত্র ইহাই পরিবত্তিত করিয়া দিলাম। ইতি, ১৮ই আশ্বিন ১৩৪৪। গ্রন্থকার”
১৮ জুন ১৯২০ খ্রীঃ ‘শরৎচন্দ্রের গ্রন্থাবলী’র তৃতীয় খণ্ডের অন্তর্ভূক্ত হয়ে বসুমতী সাহিত্য-মন্দির কর্তৃক প্রকাশিত।
‘চন্দ্রনাথে’র ছাপা নিয়ে বেশ গোলযোগের স্বষ্টি হয়। ‘চন্দ্রনাথে’র পাণ্ডুলিপি সুরেন্দ্রনাথের কাছ থেকে উপেন্দ্রনাথের হাতে আসবার পর যমুনায় প্রকাশিত হবে বলে বিজ্ঞাপন বেরোয়। অসন্তুষ্ট সুরেন্দ্রনাথ উপেনবাবুর কাছ থেকে পাণ্ডুলিপি ফেরত চেয়ে পাঠান। উপেনবাবুর কাছ থেকে পাণ্ডুলিপি নিয়ে সুরেনবাবু ‘চন্দ্রনাথে’র পাণ্ডুলিপি রেঙ্গুনে শরৎচন্দ্রের নিকট পাঠালে, তিনি সংশোধন করে ফণীন্দ্র পালের কাছে ফেরত দিলেন যমুনায় প্রকাশের জন্য। ১৩ই জানুয়ারী, ১৯১৩ উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়কে লিখেছেন শরৎচন্দ্র : “…যদি চন্দ্রনাথ পাঠান সম্ভব হয় এবং সুরেনের যদি অমত না থাকে, তাহলে যা সাধ্য সংশোধন করে ফণীকে পাঠাব—”। ঐ বছরের ২৬ এপ্রিল তিনি উপেন্দ্রনাথকে লিখেছেন : “শুধু একটা চন্দ্রনাথ লইয়া এত হাঙ্গামা। অথচ, সেটা যে কি রকম ভাবে ফণী পালের কাগজে বার হবে ঠিক বুঝিতে পারিতেছি না।
“তোমরা সব দিক না বুঝিয়া সব দিক না সামলাইয়া হঠাৎ একটা বিজ্ঞাপন দিয়া অনেকটা নিৰ্ব্বোধের কাজ করিয়াছ। এবং তাহারি ফল ভুগিতেছ। দোষ তোমাদেরি—আর বড় কারু নয়। ফণী পালের জন্য তুমি কতকটা যে false position-এ পড়িয়াছ তাহা প্রতি পদে দেখিতে পাইতেছি।
“আমি আরও বিপদে পড়িয়াছি। একে আমার একেবারে ইচ্ছা নয়, ‘চন্দ্রনাথ, যেমন আছে তেমনি ভাবে ছাপা হয়, অথচ সেটা খানিকটা ছাপা হয়েও গেছে। আবার বাকীটাও হাতে পাই নাই। সুরেনের বড় ভয়, পাছে ও জিনিসটা হারিয়ে যায়। ওরা আমার লেখাকে হৃদয় দিয়া ভালবাসে–বোধ করি তাই এদের এত সার্থকতা।”
মে মাসে (১৯১৩) উপেনবাবুকে অপর একটি পত্রে লিখেছেন : “আমি ত ‘চন্দ্রনাথ’কে একেবাবে নূতন ছাচে ঢালবার চেষ্টায় আছি, অবশ্য গল্প (plot) ঠিক তাই থাকবে।”
যমুনা সম্পাদক ফণীন্দ্রনাথ পালকে ২ ফেব্রুয়ারী (১৯১৩) শরৎচন্দ্র লেখেন, ‘চন্দ্রনাথ’ নিয়ে কি একটা বোধ করি হাঙ্গামা আছে তাই বলি ওতে আর কাজ নেই। * * * চন্দ্রনাথ আর চাইবেন না। যদি দরকার হয় আমি আবার লিখে দেব। সে লেখা ভাল বই মন্দ হবে না”। অপর একটি পত্রে ফণীন্দ্রনাথকে লেখেন : “চন্দ্রনাথ লইয়া ভারী গোলমাল হইতেছে । না জানিয়া হাতে না পাইয়া এইসব বিজ্ঞাপন প্রভৃতি দেওয়া ছেলেমানুষির একশেষ। তাহারা সমস্ত বই ‘চন্দ্রনাথ’ দিবে না; এজন্য মিথ্যা চেষ্টা করিবেন না। তবে, নকল করিয়া একটু একটু করিয়া পাঠাইবে। অনেক ভুলভ্রান্তি আছে, সেগুলি সংশোধন করিতে যদি পাই ত ছাপা হতে পারে, অন্যথা নিশ্চয় নয়। * * * যদি চন্দ্রনাথ বৈশাখেই শুরু হইয়াই গিয়া থাকে (অবশ্য সে অবস্থায় আর উপায় নাই) তাহা হইলেও আমাকে বাকীটা পরিবর্ত্তন পরিবর্জ্জন ইত্যাদি করিতেই হইবে। বৈশাখে যতটুকু বাহির হইয়াছে দেখিতে পাইলে আমি বাকীটা হাতে না পাইলেও খানিকটা খানিকটা করিয়া লিখিয়া দিব।
“সেদিন গিরীনের পত্র পাই—তাঁহাদের সহিত উপীনের ‘চন্দ্রনাথ’ লইয়া কিছু বকাবকির মত হইয়া গিয়াছে। তারা যদিও আপনার প্রতি বিরূপ নন, তত্ৰাচ এই ঘটনাতে এবং “কাশীনাথের” ‘সাহিত্যে’ প্রকাশ হওয়া ব্যাপারে তারা ‘চন্দ্রনাথ’ দিতে সম্মত নন। তাঁরা আমার লেখাকে বড় ভালবাসেন। হারিয়ে যায় এই ভয় তাদের। এবং পাছে আর কোন কাগজওয়ালা ওটা হাতে পায় এই জন্য সুরেন নকল করিয়া একটু একটু করিয়া পাঠাইবার মতলব করিয়াছে। ‘চন্দ্রনাথ’ যদি বৈশাখে ছাপা হইয়া গিয়া থাকে আমাকে চিঠি লিখিয়া কিংবা তার দিয়া জানান “Yes or No”. আমি তারপরে সুরেনকে আর একবার অনুরোধ করিয়া দেখিব। এই বলিয়া অনুরোধ করিব যে আর উপায় নাই দিতেই হইবে। * * * শুধু চন্দ্রনাথ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হইয়া রহিলাম। ওটা কেমন গল্প, কি রকম লেখার প্রণালী না জেনে প্রকাশ করা উচিত নয় বলে ভয় হচ্ছে। ‘চন্দ্রনাথ’ ছাপাবেন না, কারণ যদি ছাপানই মনে হয় ত একটু নূতন করে দিতে হবে।” (২৮ মার্চ ১৯১৩ খ্ৰীঃ)।
গ্রন্থাবলী
মতামত জানান