বিষের বাঁশী » বিষের বাঁশী

পাতা তৈরিঅক্টোবর ৫, ২০২০; ১৮:৪২
সম্পাদনাঅক্টোবর ৬, ২০২০, ১৯:২০
দৃষ্টিপাত

‘বিষের বাঁশী’ ১৩৩১ সালের ১৬ই শ্রাবণ (আগষ্ট ১৯২৪) গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবি নিজেই হুগলী থেকে প্রকাশ করেছিলেন। নামপৃষ্ঠায় এর মুদ্রণসংখ্যা ২২০০ বলে উল্লিখিত ছিল এবং লেখা ছিল, “গ্রন্থাকার কর্তৃক সর্ব্বস্বত্ব সংরক্ষিত”। গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ৪+৬০, মূল্য এক টাকা ছয় আনা এবং সোল এজেণ্ট ও প্রাপ্তিস্থান—ডি. এম. লাইব্রেরি, ৬১ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রিট, কলিকাতা। প্রকাশের অব্যবহিত পরে ২২ অক্টোবর ১৯২৪ সালে বঙ্গীয় সরকার বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয় ২৭ এপ্রিল ১৯৪৫ সালে।

‘বিষের বাঁশী’র দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় নূর লাইব্রেরি, ১২/১ সারেঙ্গ লেন, তালতলা, কলিকাতা থেকে, ১৩৫২ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত নজরুল রচনাবলীতে আবদুল কাদির এই সংস্করণের পাঠ অনুসরণ করেছিলেন। রচনাবলীর নতুন সংস্করণে বাংলা একাডেমি কাব্যগ্রন্থের প্রথম দুই সংস্করণের পাঠ মিলিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছে।

‘উৎসর্গ’ কবিতাটি মিসেস্ এম. রহমান সাহেবার উদ্দেশে রচিত। মিসেস্ এম. রহমান অর্থাৎ মুসাম্মাৎ মাসুদা খাতুনের জন্ম ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু ২০শে ডিসেম্বর ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি এদেশে নারী অধিকার আন্দোলনের একজন অগ্রনায়িকা ছিলেন। তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, সওগাত, সহচর, সাম্যবাদী, ধূমকেতু, লাঙল, অভিযান প্রভৃতি সাময়িকপত্রে বহু প্রবন্ধ ও ছোট গল্প লেখেন। তাঁর ‘মা ও মেয়ে’ নামক অসমাপ্ত উপন্যাসখানি ১৩২৯ আষাঢ় হতে ধারাবাহিকরূপে মাসিক ‘সহচর’-এ প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর ‘চানাচুর’ পুস্তকের ‘আমাদের দাবী’, ‘পর্দা বনাম প্রবঞ্চনা’, ‘নারী বন্ধন’ প্রভৃতি প্রবন্ধগুলি তৎকালে পাঠকমহলে আলোড়ল সৃষ্টি করেছিল।

প্রথম সংস্করণে উৎসর্গপত্রটি ছিল গ্রন্থের শুরুতে, দ্বিতীয় সংস্করণে তা কৈফিয়ৎ-এর পরে আনা হয়। প্রথম সংস্করণের ‘জাগৃহী’ কবিতার শিরোনাম সংশোধিত হয়ে দ্বিতীয় সংস্করণে হয় ‘জাগৃহি’—বাংলা একাডেমি ‘জাগৃহি’ গ্রহণ করেছে। কৈফিয়ৎ-এ মূলে ডি. এম. লাইব্রেরির ‘গোপাল-দা’-প্রসঙ্গে বাক্যটি চিল, তা দ্বিতীয় সংস্করণে বর্জিত হয়।

‘ফাতেহা-ই-দোয়াজদহম : আবির্ভাব’ ১৩২৭ অগ্রহায়ণে এবং ‘ফাতেহা-ই-দোয়াজদহম : তিরোভাব’ ১৩২৮ অগ্রহায়ণে ‘মোসলেম ভারতে’ বের হয়েছিল।

‘জাগৃহি’ ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ৩০শে শ্রাবণ প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যক ‘ধূমকেতু’তে ‘জাগরণী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

‘তূর্য-নিনাদ’ ১৩২৯ বৈশাখে প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যক মাসিক ‘বসুমতী’তে বের হয়েছিল।

‘বোধন’ ১৩২৭ জ্যৈষ্ঠের ‘মোসলেম ভারতে’ প্রকাশিত হয়েছিল। শিরোনামের নীচে বন্ধনীর মধ্যে লেখা ছিল: “সূর—যেদিন সুনীল জলধি হইতে উঠিলে জননী ভারতবর্ষ।” তার পাদটীকায় লেখা ছিল: “হাফিজের ‘য়ুসোফ গুম্ গশ্‌তা বাজ্ আয়েদ্ ব-কিনান গম্ মখোর’ গজল অবলম্বনে।” কবিতাটির প্রথম (এবং পরবর্তী চারিটি স্তবকের প্রত্যেকটির শেষে পুনরাবৃত্ত) শ্লোকটি ছিল এরূপ—

দুঃখ কি ভাই! হারানো য়ুসোফ কিনানে আবার আসিবে ফিরে;

দলিত শুষ্ক এ মরুভূ পুনঃ হয়ে গুলিস্তাঁ হাসিবে ধীরে।

‘উদ্বোধন’ গানটি ১৩২৭ বৈশাখে দ্বিতীয় বর্ষের ষষ্ঠ সংখ্যক ‘সওগাতে’ ছাপা হয়েছিল।

‘মরণ-বরণ’ গানটি ১৩২৮ কার্তিকে চতুর্থ বর্ষের তৃতীয় সংখ্যক ‘নারায়ণে’ এবং চতুর্থ বর্ষের চতুর্থ সংখ্যক ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’য় প্রকাশিত হয়েছিল। বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় রচনাস্থান ছাপা আছে: “কান্দিরপাড়, কুমিল্লা।” ‘নারায়ণে’ শিরোনামের নীচে লেখা ছিল ‘মল্লার—তেওরা’। তাতে শেষাংশ ছিল এরূপ:

আজি

ধ্বনিছে দিগ্বধু শঙ্খ দিকে দিকে,

গগনে কা’রা যেন চাহিয়া অনিমিখ

ভারত হোমশিখা জ্বলিল জয়টিকা

পরাতে ও কপালে।

সে কারা মুক্তি-কারা যেখানে ভৈরব-রুদ্র-শিখা জ্বলে।

কোরাস: জয় হে বন্ধন-মৃত্যু শঙ্কাজয়ী।

মুক্তি-কামী জয়।

স্বাধীন-চিত জয়। জয় হে।।

‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’য় পঞ্চম স্তবকের শেষ চরণটি ছিল এরূপ—

‘সে কারা নহে কারা যেখানে ভগবান-রুদ্র-শিখা জ্বলে।।’

‘বন্দনা-গান’ ১৩২৮ অগ্রহায়ণের ‘সাধনা’ পত্রিকায় ‘বিজয়-গান’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। রচনাস্থান: “কান্দিরপাড়, কুমিল্লা।”

‘শিকল-পরার গান’ ১৩৩১ জ্যৈষ্ঠের ‘ভারতী’তে প্রকাশিত হয়েছিল। শিরোনামের নীচে বন্ধনীর মধ্যে লেখা ছিল : ‘খাম্বাজ-দাদ্‌রা’। তাতে কবিকৃত ‘স্বরলিপি’ও ছাপা হয়েছিল।

‘চরকার গান’ ১৩৩১ বৈশাখের ‘ভারতী’তে ছাপা হয়েছিল। বন্ধনীর মধ্যে লেখা ছিল: ‘খাম্বাজ-কীর্তন-দাদ্‌রা’। সে সংখ্যাতেই ‘চরকার গানে’র স্বরলিপিও ছাপা হয়েছিল। ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলনে মহাত্মা গান্ধীর উপস্থিতিতে নজরুল ইসলাম ‘চরকার গান’ গেয়ে ছিলেন।

‘জাতের নামে বজ্জাতি’ গানটি ‘জাত-জালিয়াত’ শিরোনামে ‘বিজলী’তে ছাপা হয়েছিল। পাদটীকায় লেখা ছিল: “মাদারীপুর শান্তি-সেনা চারণ-দলের জন্য লিখিত অপ্রকাশিত নাটক থেকে।” ‘বিজলী’ হতে এটি ১৩৩০ শ্রাবণের ‘উপাসনা’য় উদ্ধৃত হয়েছিল। ১৩৩০ শ্রাবণে ষষ্ঠ বর্ষের দ্বিতীয় সংখ্যক বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকাও গানটি জাত-জালিয়াত শিরোনামে প্রকাশ করেছিল।

‘বিজয়-গান’ ১৩২৮ শ্রাবণের বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। রচনাস্থান : “কান্দিরপাড়, কুমিল্লা।”

‘পাগল পথিক’ ১৩২৮ ভাদ্রের মোসলেম ভারতে গান শিরোনামে বের হয়েছিল। শিরোনামের নীচে বন্ধনীর মধ্যে লেখা ছিল: ‘সুর—মেঘ-ছায়ানট; তাল—দাদ্‌রা’।

‘বিদ্রোহীর বাণী’ ১৩৩১ বৈশাখের ভারতীতে ‘এবার তোরা সত্য বল্’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

‘ঝড়’ [পশ্চিম তরঙ্গ] ১৩৩১ আষাঢ়ে দ্বিতীয় বর্ষের তৃতীয় সংখ্যক কল্লোলে প্রকাশিত হয়েছিল।

সূত্র: বাংলা একাডেমি প্রকাশিত নজরুল রচনাবলী।

সূচিপত্র

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান