web analytics

জীবনী > বাঙালির মুকুট

সে ছিল এক দুষ্টূ ছেলে। চট্টগ্রামে বক্সিরহাট রোডে একধারে সোনাপট্টি। মনিকারদের অঞ্চল। সে থাকত সে রাস্তার ধারে এক দোতালা বাড়িতে। বাবা ছিলেন স্বর্ণব্যবসায়ী। এমনিতে ছেলেদের বকতেন না। কিন্তু পড়াশোনা না করলে অন্যরকম। তার পায়ের শব্দ সেই ছেলেটির চেনা ছিল। ছেলেরা পড়ছে কি না তিনি দেখতে আসতেন। বাবা আসার আগে আলমারি বন্ধ করতেন। তার ক্যাচক্যাচ শব্দ হত। আর তারপরই বাবার পায়ের শব্দ। সেই ছেলেটি আর তার দাদা তখন তড়িঘড়ি সব কাজ ফেলে হুমড়ি খেয়ে বইয়ের পাতার উপর পড়ত। সবসময় তা যে পড়ার বই হত, তা নয়। কারন বাবা উকি দিয়ে দেখতেন না তার ছেলেটি কি বই পড়ছে। দুষ্টূ ছেলের মাথায় বুদ্ধি গিজগিজ করত। কিন্তু পড়ার খুব নেশা ছিল। পড়ার বই নয়, বাইরের বই। ছেলের অবিরত পড়ার খোরাক জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। বই কেনা, ধার করা ছেড়ে সে বই চুরি পর্যন্ত করত। তাতেও তার তৃপ্তি নেই। তখন তার মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল। সে শুকতারা পড়তে ভালোবাসতো। তাতে নিয়মিত একটি প্রতিযোগীতা থাকতো। জিতলে বিনা পয়সার গ্রাহক হওয়া যেত। পত্রিকায় বিজয়ীদের নাম ছাপা হত। তাদের একজনের নাম বেছে সেদিনের সেই ছেলেটি পত্রিকায় লিখলো, ‘আমি অমুক বিজয়ী। আমার ঠিকানা বদল হয়েছে। এখন থেকে বক্সিরহাটে পত্রিকা পাঠালে বাধিত হব’। শুকতারা যখন আর কেনা সম্ভব হচ্ছিল না তখন এভাবেই সে দুষ্টূমি করে পত্রিকা জোগাড় করতো। তার যে উদ্ভাবনী ক্ষমতা, তা ছেলেবেলার দুষ্টূমিতেও ফুটে উঠেছিল।
Read online or Download this book

© বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুসারে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

এই বইটির স্বত্বাধিকার লেখক বা লেখক নির্ধারিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের, অর্থাৎ বইটি পাবলিক ডোমেইনের আওতাভূক্ত নয়৷ কেননা, যে সকল বইয়ের উৎস দেশ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুসারে, লেখকের মৃত্যুর ষাট বছর পর স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত অথবা বেনামে বা ছদ্মনামে ও মরণোত্তর প্রকাশিত রচনা বা গ্রন্থসমূহ প্রথম প্রকাশের ষাট বছর পর পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়৷ অর্থাৎ, ১ জানুয়ারি, 2019 সাল হতে 1959 সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে। এবং 1959 সালের পরে প্রকাশিত বা মৃত লেখকের বইসমূহ পাবলিক ডোমেইনের আওতাভূক্ত হবে না৷

আইনি সতর্কতা

প্রকাশক এবং স্বত্বাধিকারীর লিখিত অনুমতি ছাড়া এই বইয়ের কোনও অংশেরই কোনওরূপ পুনরুৎপাদন বা প্রতিলিপি করা যাবে না, কোন যান্ত্রিক উপায়ের (গ্রাফিক, ইলেকট্রনিক বা অন্য কোনও মাধ্যম, যেমন ফটোকপি, টেপ বা পুনরুদ্ধারের সুযোগ সম্বলিত তথ্য-সঞ্চয় করে রাখার কোনও পদ্ধতি) মাধ্যমে প্রতিলিপি করা যাবে না বা কোন ডিস্ক, টেপ, পারফোরেটেড মিডিয়া বা কোনও তথ্য সংরক্ষণের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুনরুৎপাদন করা যাবে না। এই শর্ত লঙ্ঘিত হলে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

Leave a Reply

WhatsApp chat