ভাঙার গান » ভাঙার গান

পাতা তৈরিঅক্টোবর ৬, ২০২০; ২৩:৪৬
সম্পাদনাঅক্টোবর ৭, ২০২০, ০০:০১
দৃষ্টিপাত
‘ভাঙার গান’ ১৩৩১ শ্রাবণ (১৯২৪ সালের আগষ্ট) মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ১১ নবেম্বর ১৯২৪ তারিখে তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার গ্রন্থখানি বাজেয়াফত করেন। ব্রিটিশ সরকার কখনো এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেননি। ভাঙার গানের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ পায় ১৯৪৯ সালে। প্রকাশক সুরেন দত্ত, ন্যাশনাল বুক এজেন্সী লিমিটেড, ১২ বঙ্কিম চ্যাটার্জি ষ্ট্রিট, কলিকাতা— ১২। পৃষ্ঠা ৪+৩৬; মূল্য এক টাকা। দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রবার ষ্ট্যাম্পের লেখা : “সম্পূর্ণ লভ্যাংশ কবির সাহায্যে দেওয়া হইবে।” বাংলা একাডেমির নজরুল রচনাবলীতে দ্বিতীয় সংস্করণের পাঠ ও ক্রম অনুসৃত হয়েছে; আমরাও তাই করেছি।
‘ভাঙার গান’ শীর্ষক গানটি সম্বন্ধে জনাব মুজফ্‌ফর আহমদ লিখেছেন—
“আমার সামনেই দাশ-পরিবারের শ্রীসুকুমাররঞ্জন দাশ ‘বাঙ্গালার কথা’র জন্যে একটি কবিতা চাইতে এসেছিলেন। শ্রীযুক্তা বাসন্তী দেবী তাঁকে কবিতার জন্যে পাঠিয়েছিলেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তখন জেলে। … অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নজরুল তখনই কবিতা লেখা শুরু করে দিল। সুকুমাররঞ্জন আর আমি আস্তে আস্তে কথা বলতে লাগলাম। বেশ কিছুক্ষণ পরে নজরুল আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তার সেই মুহূর্তে রচিত কবিতাটি আমাদের পড়ে শোনাতে লাগল। … নজরুল ‘ভাঙার-গান লিখেছিল ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের কোনো এক তারিখে। ‘ভাঙার গান’ ‘বাঙ্গার কথা’য় ছাপা হয়েছিল।
— কাজী নজরুল ইসলাম : স্মৃতিকথা
‘জাগরণী’ শীর্ষক কোরাস গানটি সম্পর্কে জনাব আফতাব-উল ইসলাম লিখেছেন—
“১৯২১ সনে শ্রীযুত বীরেন সেন (কাজীর এবং আমাদের সকলের ‘রাঙা দা’) তখন কুমিল্লা জাতীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কাজী নজরুল কান্দিরপাড় তাঁরই বাড়ীতে থাকেন। প্রিন্স অব ওয়েল্‌সের ভারত-ভ্রমণ উপলক্ষে কংগ্রেস-ঘোষিত হরতাল-পালনের জন্য (২১শে নভেম্বর) একটি গান লিখে দেওয়ার অনুরোধ নিয়েই প্রথম তাঁর সাথে দেখা করি ‘রাঙা দা’র বাড়ীতে। তিনি তা তো দিলেনই, অধিকন্তু কাঁধে হারমোনিয়াম বেঁধে মিছিলের সঙ্গে তিনি নিজেও গাইলেন:
ভিক্ষা দাও। ভিক্ষা দাও
ফিরে চাও ওগো পুরবাসী,
সন্তান দ্বারে উপবাসী,
দাও মানবতা ভিক্ষা দাও।”
—গুলিস্তাঁ, নজরুল-সংখ্যা
‘মোহান্তের মোহ-অন্তের গান’ সম্বন্ধে ডক্টর সুশীলকুমার গুপ্ত বলেন—
“অসহযোগ আন্দোল আরম্ভ হবার পর তারকেশ্বরের দুর্নীতিপরায়ণ অসচ্চরিত্র ধর্মব্যবসায়ী মোহান্তকে তাড়াবার নিমিত্ত একটি আন্দোলন উপস্থিত হয়। নজরুল এই সময় ‘মোহান্তের মোহ-অন্তের গান’ লিখে এই আন্দোলনকে সমর্থন ও শক্তিশালী করেন।”
—নজরুল চরিত মানস, ১৫৭ পৃষ্ঠা
‘আশু-প্রয়াণ-গীতি’ ১৩৩১ আষাঢ়ে তৃতীয় বর্ষের পঞ্চম সংখ্যক ‘বঙ্গবাণী’তে বের হয়েছিল।
‘দুঃশাসনের রক্তপান’ ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ১০ই কার্তিক শুক্রবার প্রথম বর্ষের সপ্তদশ সংখ্যক ‘ধূমকেতু’তে ‘দুঃশাসনের রক্ত’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।
‘শহীদী ঈদ’ সাপ্তাহিক ‘মোহাম্মদী’তে ছাপা হয়েছিল।
‘ভাঙারগান’ কাব্য গ্রন্থটি অসহযোগ আন্দোলনের প্রাণোন্মাদনাকেই বহন করেছে। এ কাব্যের ভাঙার গান, জাগরণী, মিলন গান, দুঃশাসনের রক্তপান প্রভূতি কবিতায় বিদেশি শাসকদের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য হিন্দু-মুসলিম ঐক্য কামনা করেছেন।
উৎসর্গ
মেদিনীপুরবাসীর উদ্দেশে
সূচিপত্র
গ্রন্থাবলী
মতামত জানান