অগ্নিবীণা » শাত্-ইল-আরব

পাতা তৈরিজানুয়ারি ২, ২০১৮; ০০:১১
সম্পাদনানভেম্বর ২৪, ২০২০, ১৫:৪৮
দৃষ্টিপাত
শাতিল-আরব! শাতিল আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর। শহিদের লোহু, দিলিরের খুন ঢেলেছে যেখানে আরব-বীর।  যুঝেছে এখানে তুর্ক-সেনানী,  য়ুনানি মিসরি আরবি কেনানি ;– লুটেছে এখানে মুক্ত আজাদ বেদুইনদের চাঙ্গা-শির! নাঙ্গা-শির – শমশের হাতে, আঁশু-আঁখে হেথা মূর্তি দেখেছি বীর-নারীর! শাতিল-আরব! শাতিল-আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।  ‘কূত-আমারা র রক্তে ভরিয়া  দজলা ...
শাতিল-আরব1! শাতিল আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।
শহিদের লোহু2, দিলিরের খুন ঢেলেছে যেখানে আরব-বীর।
 যুঝেছে এখানে তুর্ক-সেনানী,
 য়ুনানি3 মিসরি4 আরবি কেনানি5 ;–
লুটেছে এখানে মুক্ত আজাদ বেদুইনদের চাঙ্গা-শির!
নাঙ্গা-শির –
শমশের হাতে, আঁশু-আঁখে হেথা মূর্তি দেখেছি বীর-নারীর!
শাতিল-আরব! শাতিল-আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।
 ‘কূত-আমারা6 র রক্তে ভরিয়া
 দজলা7 এনেছে লোহুর দরিয়া;
উগারি সে খুন তোমাতে দজলা নাচে ভৈরব ‘মস্তানি’র।
     ত্রস্তা-নীর
গর্জে রক্ত-গঙ্গা ফোরাত8, – ‘শাস্তি দিয়েছি গোস্তাখীর9 !’
দজলা-ফরাত-বাহিনী শাতিল! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।
 বহায়ে তোমার লোহিত বন্যা
 ইরাক-আজমে10 করেছ ধন্যা –
বীরপ্রসূ দেশ হল বরেণ্যা মরিয়া মরণ মর্দমির11 !
     মর্দ বীর
সাহারায় এরা ধুঁকে মরে তবু পরে না শিকল পদ্ধতির।
শাতিল-আরব! শাতিল-আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।
 দুশমন-লোহু ঈর্ষায় নীল
 তব তরঙ্গে করে ঝিল-মিল
বাঁকে বাঁকে রোষে মোচড় খেয়েছে পিয়ে নীল খুন পিণ্ডারির12 !
         জিন্দা বীর
‘জুলফিকার13 আর ‘হায়দরি’ হাঁক হেথা আজও হজরত আলীর –
শাতিল-আরব! শাতিল-আরব!! জিন্দা রেখেছে তোমার তীর।
 ললাটে তোমার ভাস্বর টিকা
 বস্‌রা14 -গুলের বহ্নিতে লিখা;
এ যে বসোরার খুন-খারাবি গো রক্ত-গোলাব-মঞ্জরীর
         খঞ্জরির!
খঞ্জরে ঝরে খর্জুর-সম হেথা লাখো দেশ-ভক্ত-শির!
শাতিল-আরব! শাতিল-আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর।
 ইরাক-বাহিনী! এ যে গো কাহিনি,
 কে জানিত কবে বঙ্গ-বাহিনী
তোমারও দুঃখে ‘জননী আমার’! বলিয়া ফেলিবে তপ্ত নীর
        রক্ত-ক্ষীর –
পরাধীনা ! একই ব্যথায় ব্যথিত ঢালিল দু-ফোঁটা ভক্ত-বীর!
শহিদের দেশ! বিদায়! বিদায়!! এ অভাগা আজ নোয়ায় শির।

টীকা

  1. শাতিল-আরব : আরব দেশের এক নদীর নাম।
  2. লোহু : রক্ত, শোণিত।
  3. য়ুনানি : য়ুনান দেশের অধিবাসী।
  4. মিসরি : মিসরের অধিবাসী।
  5. কেনানি : কেনানের অধিবাসী।
  6. কূত-আমারা : কুতল-আমারা নামক স্থান, যেখানে জেনারেল টাউনসেন্ড বন্দি হন।
  7. দজলা : টাইগ্রিস নদী।
  8. ফোরাত : ইউফ্রেটিস নদী।
  9. গোস্তাখীর : বেয়াদবি, ঔদ্ধত্য।
  10. ইরাক-আজমে : মেসোপটেমিয়া।
  11. মর্দমির : পৌরুষ।
  12. পিণ্ডারি : মারাঠা দস্যু।
  13. জুলফিকার : বিশ্বনবীর বিশ্বজয়ী তরবারি।
  14. বস্‌রা : ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী, গোলাপ ও খেজুরের জন্য প্রসিদ্ধ।
গ্রন্থাবলী
মতামত জানান