আবদুল্লাহ » ছয়

পাতা তৈরিঅক্টোবর ১৬, ২০২০; ২১:৫৬
সম্পাদনাঅক্টোবর ১৭, ২০২০, ০০:৩২
দৃষ্টিপাত
স্ত্রীর ঘরে গিয়া আবদুল্লাহ্ দেখিল, সালেহা খাটের সম্মুখস্থ চৌকির উপর বসিয়া পান সাজিতেছে। ঘরে একটা বাঁদী ছিল; আবদুল্লাহকে আসিতে দেখিয়া সে বাহির হইয়া গেল। সালেহা তাড়াতাড়ি চৌকি হইতে নামিয়া স্বামীর নিকটবর্তী হইল এবং কদমবুসি করিবার জন্য দেহ নত করিল। আবদুল্লাহ্ ইহার জন্য প্রস্তুতই ছিল, সে তৎক্ষণাৎ স্ত্রীর বাহুদ্বয় ধরিয়া তাহাকে ...

স্ত্রীর ঘরে গিয়া আবদুল্লাহ্ দেখিল, সালেহা খাটের সম্মুখস্থ চৌকির উপর বসিয়া পান সাজিতেছে। ঘরে একটা বাঁদী ছিল; আবদুল্লাহকে আসিতে দেখিয়া সে বাহির হইয়া গেল।

সালেহা তাড়াতাড়ি চৌকি হইতে নামিয়া স্বামীর নিকটবর্তী হইল এবং কদমবুসি করিবার জন্য দেহ নত করিল। আবদুল্লাহ্ ইহার জন্য প্রস্তুতই ছিল, সে তৎক্ষণাৎ স্ত্রীর বাহুদ্বয় ধরিয়া তাহাকে টানিয়া তুলিল এবং কহিল, আঃ, ছিঃ তোমার ও-রোগটা এখনো গেল না দেখছি।

ইতোমধ্যে সালেহা আবদুল্লাহর বাহুবেষ্টনে আবদ্ধ হইয়া গিয়াছে। তাহার স্বামী এইরূপ অভ্যর্থনা চান বটে; কিন্তু সে কদমবুসির পরিবর্তে এরূপ বেহায়াপনার দ্বারা স্বামীর অভ্যর্থনা করা মোটেই পছন্দ করিত না। সে ভাবিত, তাহার স্বামী তাহাকে একটা বৃহৎ কর্তব্যকর্মে বাধা দিয়া কাজ ভালো করেন না।

ছাড়ুন ছাড়ুন, কেউ দেখতে পাবে বলিয়া সালেহা স্বামীর সাগ্রহ বাহুবেষ্টন হইতে আপনাকে মুক্ত করিয়া লইয়া সরিয়া দাঁড়াইল। একটু পরে আবার কহিল, আপনি বড় অন্যায় করেন।

আবদুল্লাহ্ চৌকির উপর বসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কী অন্যায় করি?

চৌকির অপর প্রান্তে উঠিয়া বসিতে বসিতে সালেহা কহিল, এই–এই–সালাম করতে দেন না আর কি! ওতে যে আমার গোনাহ্ হয়।

যদি গোনাহ্ হয়, তবে সে আমারই হবে, কেননা, আমিই করতে দেই না।

আপনার হলে তো আমারও হল–

আবদুল্লাহ্ একটু বিদ্রুপের স্বরে কহিল, বাঃ, বেশ ফতোয়া জারি করতে শিখেছ যে দেখছি!

পানের বাটাটি স্বামীর সম্মুখে বাড়াইয়া দিয়া সালেহা কহিল, ফতোয়া আবার কোথায় হল?

বাটা হইতে দুটি পান তুলিয়া মুখে দিয়া চিবাইতে চিবাইতে আবদুল্লাহ্ কহিল, কেন, এই যে বললে, একজনের গোনাহ্ হলে দুজনের হয়! এ তো নতুন ফতোয়া নতুন মুরীদ হয়ে বুঝি এ সব শিখেছ?

সালেহা একটু বিরক্ত হইয়া কহিল, যান, ওসব কথা নিয়ে তামাশা করা ভালো না।

না, তামাশা কচ্ছিনে; কিন্তু আজকাল তোমার নামায আর ওজিফার যে রকম বান ডেকেছে, তাতে হয়তো আমি ভেসেই যাব। এই যে আমি এদ্দিন পরে এসে সন্ধে থেকে বসে আছি…

সালেহা অসহিষ্ণু হইয়া উঠিয়া কহিল, খোদার কাজ করতে আপনি মানা করেন?

আবদুল্লাহ্ কৃত্রিম ভয়ের ভাব দেখাইয়া দাঁতে জিভ কাটিয়া কহিল, তওবা তওবা, তা কেন করব? তবে কিনা সংসারের কাজও তো মানুষের আছে…।

কেন আমি নামায পড়ি বলে কি সংসারের কাজ আটকে থাকে?

নামায পড়লে আটকায় না বটে, কিন্তু অত লম্বা ওজিফা জুড়ে বসলে আটকায় বৈকি! বিশেষ করে আমাদের মতো গরিবের ঘরে, যেখানে বাঁদী গোলামের ভিড় নেই।

কথাটা সালেহার ভালো লাগিল না। সে তাহার পিতার বড়ই অনুগত ছিল, এবং শৈশব হইতে এ সকল ব্যাপারে তাহারই অনুকরণ করিয়া আসিতেছে। তাহার উপর আবার সম্প্রতি পীর সাহেবের নিকট মুরীদ হইয়া দ্বিগুণ উৎসাহে ধর্মের অনুষ্ঠানে আপনাকে নিয়োজিত করিয়াছে। তাহার বিশ্বাস জন্মিয়া গিয়াছে যে, এইরূপ কঠোর অনুষ্ঠানই পরকালে বেহেশত লাভের উপায়, ইহাই সর্বপ্রথম কর্তব্য। সংসারের কাজগুলি সব নিতান্তই বাজে কাজ, যেটুকু না করিলেই চলে না সেইটুকু করিলেই যথেষ্ট। সংসার সম্বন্ধে ইহার অধিক কোনো কর্তব্য আসিতে পারে না। তাই আজ তাহার স্বামী খোদার কাজ অপেক্ষা সংসারের কাজের গুরুত্ব অধিক বলিয়া মত প্রকাশ করিতেছেন মনে করিয়া সালেহা বিরক্ত, ক্ষুণ্ণ এবং রুষ্ট হইয়া উঠিল। সে একটু উষ্ণতার সহিত বলিয়া ফেলিল, হোক, তবু খোদার কাজ আগে, পরে আর সব।

আবদুল্লাহ্ দেখিল, এ আলোচনা ক্রমে অপ্রীতিকর হইয়া উঠিতেছে। তখন সে কথাটা চাপা দিবার জন্য কহিল, সে কথা ঠিক। তা যাক্, তুমি কেমন আছ, তাই বল।

আছি ভালোই, আম্মার তবিয়ত ভালো তো?

ভালো আর কোথায়! আব্বার এন্তেকালের পর থেকে তার শরীর ক্রমে ভেঙে পড়েছে।

সালেহা একটু চুপ করিয়া থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিল, আমি তখন যেতে পারি নি বলে কি তিনি রাগ করেছেন?

আবদুল্লাহ কহিল, না–তিনি তোমার উপর রাগ করবেন কেন? তবে আব্বা মরবার সময় তোমাকে দেখতে পান নি বলে বড় দুঃখ করে গেছেন।

তা কী করব, আমাকে পাঠাবার তখন কোনো সুবিধে হয়ে উঠল না। পরে একটু ভাবিয়া সালেহা আবার কহিল, আপনিও তো এসে আমাকে নিয়ে যেতে পারতেন।

আমি আব্বাকে ফেলে আসি কী করে? তাকে দেখবার শুনবার তো আর লোক ছিল না।

সালেহা চুপ করিয়া রহিল। কিয়ৎক্ষণ পরে আবদুল্লাহ কহিল, আমার বোধহয় আর পড়াশুনা হবে না।

তবে কী করবেন?

ভাবছি একটা চাকরির চেষ্টা দেখব।

একজন তো চাকরি করবেন বলে আবার সঙ্গে চটাচটি করে গেছেন…

সে চাকরি করে নিজের উন্নতি করতে চায়, তাতে বাধা দেওয়া তো আমার শ্বশুরের উচিত হয় নি…

আর বাপের অমতে তাকে চটিয়ে, চাকরি করতে যাওয়া বুঝি মেজ ভাইজানের বড় উচিত হয়েছে?

এমন ভালো কাজেও যদি বাপ চটেন, তা হলে লাচার হয়ে অবাধ্য হতেই হয়…

না, তাতে কি কখনো ভালো হয়? হাজার ভালো কাজ হলেও বাপ যদি নারাজ থাকেন, তাতে বরকত হয় না।

স্ত্রীর সহিত তর্কে এইখানে আবদুল্লাহকে পরাস্ত হইতে হইল। অগত্যা সে কহিল, হ্যাঁ, সে কথা ঠিক। আবদুল কাদেরের উচিত ছিল বাপকে বুঝিয়ে বলে তাকে রাজি করে যাওয়া…

তাতেও কিছু হত না। আব্ব মেজ ভাইজানকে বলেছিলেন আবার মাদ্রাসায় পড়তে। তিনি বলেন, যারা শরীফজাদা তাদের উচিত দীন ইসলামের উপর পাকা হয়ে থাকা। ইংরেজি পড়া, কি চাকরি করতে যাওয়া ওসব দুনিয়াদারী কাজে ইমান দোরস্ত থাকে না বলে তিনি মোটেই পছন্দ করেন না।

পছন্দ করেন না, তা তো বুঝলাম। কিন্তু যারা এখন শরীফজাদা আছেন, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে কোনোরকমে না হয় শরাফতি করে যাচ্ছেন। তারপর দুই এক পুরুষ বাদে সম্পত্তিটুকু যখন তিল তিল করে ভাগ হয়ে যাবে, তখন শরাফতি বজায় রাখবেন কী দিয়ে? তখন যে পেটের ভাতই জুটবে না…

কেন জুটবে না? খোদার উপর তওয়াল রাখলে নিশ্চয়ই জুটবে।

ঘরে বসে খালি খোদার উপর তওয়াল রাখলে তো আর অমনি ভাত পেটের ভিতর ঢুকবে না। তার জন্যে চেষ্টা করতে হবে ও যাতে দু পয়সা উপায় হয় তার জন্যে খাটতে হবে। যে দিন-কাল পড়েছে, তাতে ইংরেজি না শিখলে আর সেটি হবার যো নেই…।

কেন কত লোক যে ইংরেজি শেখে নি, খোদা কি তাদের ভাত-কাপড় জুটিয়ে দিচ্ছেন না?

তর্ক আবার অপ্রিয় হইয়া উঠিবার উদ্যোগ করিতেছে দেখিয়া আবদুল্লাহ্ কহিল, যা গে যাক্, ও-সব কথা তোমরা বুঝবেও না, ও-তর্কেও আর কাজ নেই…

না, আমরা বুঝিও নে, বুঝতে চাইও নে; কেবল এইটুকু জানি যে, খোদার উপর তওয়াল রাখলে আর তার কাজ রীতিমতো করে গেলে, কারুর কোনো ভাবনা থাকে না। আব্বা যে বলে থাকেন, ইংরেজি পড়লে খোদার উপর আর লোকের তেমন বিশ্বাস থাকে না, তা দেখছি ঠিক।…

শেষটা তাহার নিজের উপরই প্রযুক্ত হইল বুঝিয়া আবদুল্লাহ্ একটু বিরক্তির স্বরে কহিল, খোদার উপর অবিশ্বাস দেখলে কোন্‌খানে? সংসারে উন্নতির চেষ্টা না করে কেবল হাত-পা কোলে করে বসে থাকলেই যদি খোদার উপর বিশ্বাস আছে বলে ধরতে চাও, তবে আমি স্বীকার করি, আমার তেমন বিশ্বাস নেই।

স্বামীর মুখে এত বড় নাস্তিকতার কথা শুনিয়া সালেহা একেবারে শিহরিয়া উঠিল। সে। দাঁতে জিভ কাটিয়া কহিল, এ্যাঁ, বলেন কী! তওবা করুন, তওবা করুন, অমন কথা মুখ দিয়ে বার করবেন না! ওতে কত বড় গোনাহ্ হয়, তা কি আপনি জানেন না? ও-কথা যে শোনে সেও জাহান্নামে যায়।…

এমন সময় মসজিদে এশার নামাযের আযান আরম্ভ হওয়ায় আবদুল্লাহ্ চুপ করিয়া রহিল। আযান শেষে মুনাজাত করিয়া কহিল, জাহান্নামে যাবার ভয় থাকে তো তোমার আর ওসব শুনে কাজ নেই।

এই বলিয়া আবদুল্লাহ্ একটা বালিশ টানিয়া লইয়া শুইয়া পড়িল।

সালেহা কহিল, এখন শুলেন যে? নামায পড়তে যাবেন না?

না, আর মসজিদে যাব না, ঘরেই পড়ব এখন; একটু গড়াগড়ি দিয়ে নিই। বড় হয়রান হয়ে এসেছি।

তবে আমি যাই, নামাযটা পড়ে নিয়ে খানার যোগাড় করি গিয়ে–

তা হলে দেখছি খাওয়াদাওয়ার এখনো ঢের দেরি আছে–ততক্ষণে আমি নামায পড়ে বেশ একটা ঘুম দিয়ে নিতে পারব। তুমি এক বদনা ওযুর পানি পাঠিয়ে দিও—

এই বলিয়া আবদুল্লাহ্ চৌকির উপর পড়িয়া পড়িয়া একটা বিকট হাই তুলিয়া সাড়ম্বরে আলস্য ত্যাগ করিল।

সালেহা একটা বাঁদীকে ডাকিয়া পানি দিতে বলিয়া চলিয়া গেল।

হালিমা ও সালেহার চেষ্টায় সেদিন একটু সকাল সকাল খানার বন্দোবস্ত হইল। তখন। রাত্রি দ্বিপ্রহর পার হইয়া গিয়াছে।

একটা বাঁদী আসিয়া আবদুল্লাহকে ডাকিয়া তাহার শ্বশুরের ঘরে লইয়া গেল। দস্তরখান সেইখানেই বিছানো হইয়াছিল। আবদুল্লাহ্ ঘরে প্রবেশ করিতেই শ্বশুর কহিলেন, এস বাবা, এস, ভালো আছ তো?

আবদুল্লাহ্ শ্বশুরের কদমবুসি করিয়া কহিল, জি হাঁ, ভালোই আছি। হুজুরের তবিয়ত কেমন?

শ্বশুর একটু কাতর স্বরে কহিলেন, আর বাবা তবিয়ত! এবার নিতান্তই খোদার মরজিতে আর হুজুরের (অর্থাৎ পীর সাহেবের) দোয়াতে বেঁচে উঠেছি, নইলে বাচবার আশা ছিল না। এখনো চলতে পারি নে, হাত-পা কাপে।

আবদুল্লাহ্ কহিল, তা এই দুর্বল শরীরে রাত্রে একটু সকাল সকাল খেয়ে নিলে বোধ করি ভালো হয়…

আর বাবা, ওটা অভ্যেস হয়ে গেছে–তা ছাড়া নামাযটা না পড়ে কেমন করে খাই। খেলে যে আর শুয়ে পারি নে…

এমন সময় বাঁদীরা বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলিকে নিদ্রা হইতে উঠাইয়া টানিতে টানিতে আনিয়া দস্তরখানে একে একে বসাইয়া দিয়া গেল। বেচারারা বসিয়া বসিয়া ঢুলিতে লাগিল। কর্তার বাঁদী-পুত্র খোদা নেওয়াজ দস্তরখানের উপর বাসন-পেয়ালা প্রভৃতি সাজাইতে সাজাইতে একটা বাঁদীকে ডাকিয়া কহিল, ওরে ফুলি, বড় মিঞা সাহেবকে ডেকে নিয়ে আয়।

আবদুল কুদ্দুস প্রথম বয়সে একটি বাঁদীকে নিকাহ্ করিয়াছিলেন, তাহারই গর্ভে খোদা নেওয়াজের জন্ম হয়। খোদা নেওয়াজই তাঁহার জ্যেষ্ঠ পুত্র; কিন্তু সে বাঁদী-গর্ভজাত বলিয়া বিবি-গর্ভজাত কনিষ্ঠ ভ্রাতাদিগকে বড় মিঞা সাহেব, মেজ মিঞা সাহেব ইত্যাদি বলিয়া ডাকিতে হয়। সংসারে যে তাহাকে ঠিক চাকরের মতো থাকিতে হয়, এরূপ বলা যায় না; কেবল মসজিদ এবং দস্তরখানে খাদেমি এবং অন্দরের ও সদরের ফুট-ফরমাইশ খাটা ভিন্ন তাহার আর বড় একটা কাজ ছিল না। অবশ্য তাহার আহারাদি যে চাকর-মহলেই হইত, তাহা বলাই বাহুল্য।

বড় মিঞা সাহেব তাহার বহির্বাটীস্থ মহল হইতে অন্দরে আনীত হইলে খান আরম্ভ হইল। কর্তা আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করিয়া কহিতে লাগিলেন, তোমার ওয়ালেদ মরহুমের সঙ্গে আমার একবার শেষ দেখাটা হল না, সেজন্যে আমার জানে বড় সমা লেগেছে। বড় ভালো লোক ছিলেন তিনি, এমন দীনদার পরহেজগার লোক আজকালকার জমানায় বড় একটা দেখতে পাওয়া যায় না। কী করব, বাবা, সবই কিসমত? তা তোমার আম্মা ভালো আছেন তো?

জি না, তেমন ভালো আর কোথায়! আব্বার এন্তেকালের পর থেকে তারও তবিয়ত খারাব হয়ে পড়েছে।

তা তো পড়বেই বাবা, তাঁর ধড়ে কি আর জান আছে! এর চেয়ে সদমা আর দুনিয়াতে নেই। ওঁয়ার শরীরটার দিকে একটু নজর রেখো বাবা, আর এ সময় তুমি কাছে কাছেই থেকো, ওয়াকে একলা ফেলে কোথাও গিয়ে বেশি দিন থেকো না, এ-সময়ে তুমি কাছে থাকলে ওঁর মনটা একটু ভালো থাকবে।…

এইরূপ বহুবিধ উপদেশের মধ্য দিয়া খানা শেষ হইল, আবদুল্লাহ একবার মনে করিয়াছিল, তাহার পড়াশুনার কথাটা এই সময়ে পাড়িয়া দেখিবে, কিন্তু আবার ভাবিল, না, এখন ও-সব কথা পাড়িয়া কাজ নাই। কাল দিনের বেলা সুবিধামতো নিরিবিলি পাইলে তখন। বলা যাইবে। বিশেষত এতগুলি লোকের সামনে তাহার মুখ ফুটিল না; তাহার আত্মসম্মান। অন্তরের মধ্য হইতে তাহাকে বাধা দিতে লাগিল।

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান