আবদুল্লাহ » সাত

পাতা তৈরিঅক্টোবর ১৬, ২০২০; ২১:৫৭
সম্পাদনাঅক্টোবর ১৭, ২০২০, ০০:৩৩
দৃষ্টিপাত
পলাশডাঙ্গার মদন গাজীর বাড়িতে আজ মহা হুলুস্থুল পড়িয়া গিয়াছে। তাহার ভয়ানক বিপদ উপস্থিত। মহাজন দিগম্বর ঘোষ পেয়াদা এবং বহু লোকজন লইয়া আজ তাহার বসতবাড়িতে বাশগাড়ি করিতে আসিয়াছেন। পাড়ার লোকজনে তাহার বাহিরবাড়ি পরিপূর্ণ, সকলেই। বেচারার ঘোর বিপদে সহানুভূতি ও দুঃখ প্রকাশ করিতেছে। কিন্তু এ বিপদ হইতে মদন গাজী কিসে উদ্ধার পাইতে ...

পলাশডাঙ্গার মদন গাজীর বাড়িতে আজ মহা হুলুস্থুল পড়িয়া গিয়াছে। তাহার ভয়ানক বিপদ উপস্থিত। মহাজন দিগম্বর ঘোষ পেয়াদা এবং বহু লোকজন লইয়া আজ তাহার বসতবাড়িতে বাশগাড়ি করিতে আসিয়াছেন। পাড়ার লোকজনে তাহার বাহিরবাড়ি পরিপূর্ণ, সকলেই। বেচারার ঘোর বিপদে সহানুভূতি ও দুঃখ প্রকাশ করিতেছে। কিন্তু এ বিপদ হইতে মদন গাজী কিসে উদ্ধার পাইতে পারে তাহা কেহই স্থির করিতে পারিতেছে না।

মদনের অবস্থা বেশ ভালোই ছিল। তাহার খামার জমিগুলির মত উর্বরা জমি এ অঞ্চলে আর কাহারো ছিল না। গোলাভরা ধান, গোয়াল-ভরা গরু, ছালল এবং উঠান-ভরা মোরগ-মুরগি লইয়া সে বেশ সুখে-স্বচ্ছন্দে দিনপাত করিত। তাহার জমিতে পাটও জন্মিত এবং তাহা হইতে রাশি রাশি কাঁচা টাকা পাইয়া সে কৃষকমহলে খাতির যথেষ্ট জমাইয়া তুলিয়াছিল। কাজেই জ্যেষ্ঠপুত্র সাদেকের বিবাহের সময় পাঁচজন জ্ঞাতি-কুটুম্ব একত্র হইয়া ধরিয়া বসিল, খুব ধুমধাম করা চাই, দু-চারখানা গ্রামের লোক খাওয়াইতে হইবে, বাজি বাজনা, জারি-কবি, এসবের বন্দোবস্ত করিতে হইবে, নহিলে শুধু মদন গাজীর কেন, পলাশডাঙ্গার শেখেদের কাহারো মান থাকিবে না। শেখেরা তো আর এখন আগেকার মতো মিঞা সাহেবদের গোলামি করে না। মদন গাজীর মতো মাথা–তোলা লোকও মিঞা সাহেবদের মধ্যেই-বা কটা আছে? এবার দেখানো চাই শেখেরাও মিঞাদের মতো ধুমধাম করিতে জানে, ইত্যাদি।

প্রথমটা মদনের এসবে বড় মত ছিল না; কিন্তু পাঁচজনের উৎসাহে সেও নাচিয়া উঠিল। পুত্রের বিবাহে বিস্তর টাকা ব্যয় করিয়া ফেলিল। সুতরাং বেশ রকমের একটা দেনাও তাহাকে ঘাড় পাতিয়া লইতে হইল। আর মদনের মতো সম্পন্ন গৃহস্থকে কেই-বা না বিনা বাক্যব্যয়ে টাকা ধার দিবে। রসুলপুরের দিগম্বর ঘোষ যদিও ভারি কড়া মহাজন–তাহার সুদের হারও যেমন উঁচু আদায়ের বেলাও তেমনি কড়াক্রান্তি পর্যন্ত কোনো দিন রেয়াত করে না। তবু এক্ষেত্রে তিনি পরম আগ্রহের সহিত খামারগুলি রেহেন রাখিয়া কম সুদেই মদনকে টাকা ধার দিয়া তাহাকে মস্ত খাতির করিয়া ফেলিয়াছেন। তাই পাঁচজনে বলিল, ও দেনার জন্য কিছু ভয় নেই মদন। খোদা তোমাকে যেমন দিতে আছেন, তাতে ওই কটা টাকা পরিশোধ কত্তি আর কদ্দিন? মদন আশায় বুক বাঁধিল, পিতাপুত্রে দ্বিগুণ উৎসাহে আবার ক্ষেতের কাজে লাগিয়া গেল।

মদনের খামার জমিগুলির ওপর অনেকেরই লোভ ছিল; কিন্তু এ যাবৎকাল কেহই তাহাতে হাত দিবার সুযোগ পান নাই। এবারে যখন সে হতভাগ্য ঘোষ মহাশয়ের কবলে পতিত হইল, তখন তিনি মনে মনে বেশ একটুখানি প্রীতি অনুভব করিলেন, তাহার পর দুই তিন বৎসর ধরিয়া যখন ক্রমাগত অজন্মা হইতে লাগিল, এবং মদনের দেয় সুদ কিস্তির পর কিস্তি বাকি পড়িয়া চক্রবৃদ্ধিহারে ক্রমাগত বাড়িয়া চলিল, তখন ঘোষ মহাশয় ভাবিলেন, আর যায় কোথায়!

ফলে ঘটিল তাহাই। টাকা আর পরিশোধ হইল না। তিন বৎসরের অজন্মার পর চতুর্থ বৎসরে যখন সুপ্রচুর ফসল জন্মিবার সম্ভাবনা দেখা গেল, তখন মদনের আশা হইল যে, খোদায় করিলে এবার মহাজনের টাকা পরিশোধ করিতে পারিবে। কিন্তু ওদিকে ঘোষ। মহাশয়ের সজাগ দৃষ্টি ফসলের প্রাচুর্যের দিকে পতিত হইয়া তাহাকে একটু ব্যস্ত করিয়া তুলিল–পাছে মদন ঋণ পরিশোধ করিবার সুযোগ পাইয়া বসে, এই ভয়ে তিনি তামাদির অজুহাতে তাড়াতাড়ি নালিশ করিয়া দিলেন। মদন প্রচুর ফসলের সম্ভাবনার কথা বলিয়া সময় প্রার্থনা করিল, কিন্তু সে সময়ে তাহার হাতে নগদ টাকা ছিল না, সহসা কাহারো নিকট ধারও পাওয়া গেল না। কাজেই তদ্বিরের অভাবে বিশেষত ওপক্ষের মুক্তহস্ত তদ্বিরের মুখে সে তাহার ক্ষীণ প্রার্থনা গ্রাহ্য করাইতে পারিল না। মদনের খামার জমিগুলি নিলাম হইয়া গেল, এবং ঘোষ মহাশয় সেগুলি খরিদ করিয়া ফেলিলেন। আর একটু বিশেষ রকম তদ্বিরের ফলে সমস্ত খামার জমিগুলি নিলাম হইয়াও কতক টাকা বাকি রহিয়া গেল। মদন সেই টাকার দরুন আবার বসতবাটী রেহেন দিয়া নূতন খত লিখিয়া দিল এবং সে যাত্রা নিষ্কৃতি পাইল।

কিন্তু খামারগুলি হারাইয়া এক্ষণে তাহার পক্ষে সেই নূতন খতের টাকা পরিশোধ করা আরো অসম্ভব হইয়া পড়িল। এখন তাহার পেট চালানোই দায়; পরিবারের লোক তো কম নয়, –দুবেলা তাহাদের সকলের পেট ভরিয়া আহার জোটে না, পরিবারের পরনে কাপড় এক প্রকার নাই বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। ঘরের জিনিসপত্র একে একে সব গিয়াছে। তবু মদন জোয়ান ছেলেটিকে সঙ্গে লইয়া পাড়ায় জন-মজুরি করিয়া কোনোক্রমে পরিবারগুলিকে অনশন হইতে বাঁচাইয়া রাখিয়াছে–কিন্তু এ যাবৎ একটি পয়সা সুদ দিয়া উঠিতে পারে নাই। ক্রমে অর্ধাশনক্লেশ এবং তাহার ওপর দারুণ ভাবনায় তাহার শরীর একেবারে ভাঙিয়া পড়িয়াছে।

এদিকে কিছুদিন হইতে মদনের বসতবাটীখানির ওপর ঘোষ মহাশয়ের পুত্র শ্রীমান জনার্দন ঘোষের লোলুপ দৃষ্টি পড়িয়া আছে। বাড়িখানি বেশ উচ্চভূমির উপর নির্মিত, এবং তাহার সহিত কয়েক বিঘা বাগানের উপযুক্ত জমিও আছে। স্থানটিও বেশ নির্জন–চারিদিকে যদিও মুসলমান কৃষক বস্তি তথাপি অন্তত যখন সেখানে কোনো ভদ্রলোকের বসতি নাই, তখন স্থানটি একটি সুন্দর বাগানবাড়ির জন্য উপযুক্তরূপ নির্জন বলিয়াই মনে করা যাইতে পারে। পিতার তীক্ষ্ণ দৃষ্টির উপর ঘরে বসিয়া যদৃচ্ছা আমোদ-প্রমোদ করা চলে না; তাই একটি বাগানবাড়ি নির্মাণ করিবার জন্য এইরূপই একটি নির্জন প্রশস্ত স্থানের অভাব জনার্দন বাবু অনেক দিন হইতে বোধ করিয়া আসিতেছেন। এক্ষণে পলাশডাঙ্গা এবং রসুলপুরের মধ্যে একটা নদীর ব্যবধান থাকায়, এই গ্রামটিই বাগানবাড়ি নির্মাণের উপযুক্ত বলিয়া তিনি স্থির করিয়াছেন। মদনের বাড়িখানিও ঠিক নদীর উপরেই; সুতরাং গোপন বিহারের জন্য এরূপ নিরাপদ স্থান আর কোথায় পাওয়া যাইবে? সুতরাং মদনের নামে নালিশ করিয়া উহার। বাড়িখানির দখল লইবার জন্য তিনি কিছুকাল যাবৎ পিতাকে বারবার তাগাদা করিতেছেন। আর ঘোশ মহাশয়ই-বা কতকাল খতখানি ফেলিয়া রাখিবেন? সুতরাং আবার নালিশ হইল। ঘোষ মহাশয় দস্তুরমাফিক ডিক্রি পাইলেন।

এক্ষণে সেই ডিক্রির বাবদে ঘোষ মহাশয় বহু লোকজনসহ মদনের ভিটাবাড়িতে বাঁশগাড়ি করিতে আসিয়াছেন।

মদন আসিয়া ঘোষ মহাশয়ের পায়ের উপর আছাড় খাইয়া পড়িল এবং কহিতে লাগিল, দোহাই বাবু, আমারে এক্কেবারে পথে দাঁড়া করাবেন না বাবু, আপনার পায়ে পড়ি বাবু…

ঘোষ মহাশয় পা টানিয়া কহিলেন, তা আমি কী করব বাপু; তুই টাকাটা এদ্দিন ফেলে রাখলি, যদি কিছু কিছু করে দিয়ে আসৃতিস, তোরও গায়ে লাগত না, আমারও খত তামাদি হত না। খত ফেলে রেখে তো আর আমি টাকাটা খোওয়াতে পারিনে।

মদন কাদিতে কঁদিতে কহিল, বললে বিশ্বাস করবেন না বাবু, আমি দুবেলা দুমুঠো ভাতই জোটাতে পারিনে, পরিবারের পরনে কাপড় দিতে পারিনে, কতে আপনার টাকা দেব…

দিগম্বর ঘোষ ক্রুদ্ধ হইয়া কহিলেন, হা, ওসব মায়াকান্না রেখে দে! কেন, তোর জোয়ান ব্যাটা রয়েছে, দুই বাপ-পোয়ে তো জন খেটে পয়সা রোজগার করিস–আবার বলে কিনা (মুখ ভ্যাংচাইয়া) দুমুঠো ভাত জোটাতে পারিনে পরিবারের কাপড় দিতে পারিনে!…

মদন কহিল, হায়, হায়, বাবু দ্যাহেন তো বুড়ো হয়ে গিছি, তাতে আজ বছরখানেতে হাঁপানি ব্যারামে এক্কালে কাবু হয়ে পড়িছি–কাজ কত্তি আর পারি নে। একলা ওই ছাওয়ালডা খাটে খাটে আর কত রোজগার কত্তি পারে বাবু? খানেআলা তো এট্টা দুডো না, কেমন করে যে সবগুলোর জান্টা বেঁচে আছে, তা আল্লাই জানে…

নে নে, এখন ওসব প্যান্প্যানানি রাখ। আমার টাকা তো আদায় করতে হবে…।

একান্ত প্রাণের দায়ে মরিয়া হইয়া মদন কহিল, তবে আর কয়ডা দিন রেহাই দেন। কত্তা, আমি এবার না খায়ে, না দায়ে আপনার টাকা কিছু কিছু করে দেব…

ঘোষ মহাশয় অবজ্ঞাভরে কহিলেন, হাঃ, তুই এতদিন বড় দিতে পাল্লি, এখন আবার দিবি! শুধু কথায় কি আর চিড়ে ভিজে রে, মদন!

তবে আমার কী উপায় হবে বাবু–কনে গে দাঁড়াব সব কাচ্চা বাচ্চা নে!

তা আমি কী জানি! তোর যেখানে খুশি সেইখানে যা–এখন এ বাড়ি আমার, আমি দখল করেছি।

এই কথায় মদন আর স্থির থাকিতে পারিল না। উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিয়া উঠিয়া কহিল, ওগো আপনারা পাঁচজন আছেন, এট্টুখানি দয়া করে ওনারে দুটো কথা কয়ে আমারে বাঁচান। গো, আমারে বাঁচান, এ বাপদাদার ভিটেটুকখানি গেলি আমি কম্নে গে দাঁড়াব–হায় রে আল্লা! আমি কম্নে গে দাঁড়াব!

বিরক্ত হইয়া জনার্দন বাবু পেয়াদাকে ডাকিয়া কহিলেন, –নেও, তোমরা বাঁশটা গেড়ে ফেল! এই ব্যাটারা, চুপ করে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? বাজা, ঢোল বাজা!

দমাদম ঢোলে ঘা পড়িতে লাগিল। মদনের মনে হইল, যেন সে ঘা তাহার বুকের ভিতরই পড়িতেছে। সে আবার ডুকরিয়া কাঁদিয়া উঠিল। এদিকে ঘোষ মহাশয় তাহার লোকজন লইয়া তাহার গৃহে প্রবেশ করিতে যাইতেছেন দেখিয়া সে দরজার সম্মুখে আড় হইয়া কহিল, আমার গলায় পা দে দমড়া বার করে ফেলে দেন কত্তা। আমার জানে আর এ সয় না গো, আমার জানে আর সয় না! হায় রে আল্লাহু, আমি কাচ্চা-বাচ্চা বউ ঝি নিয়ে কমে গে দাঁড়াব–ওগো আপনারা দয়া করে আমার হয়ে বাবুকে দুটো কথা কগে! আমার ঝি-বউরে পথে বার করবেন না গো বাবু, এট্টু দয়া করেন বাবু! আমি যে তাগোরে কারো বাড়ি ধান ভানতিও যাতি দেই নি। তাগোর মান-ইজ্জত মারবেন না, হা হা হা!…

পাড়ার একজন মোড়ল এ দৃশ্য আর দেখিতে না পারিয়া দিগম্বর ঘোষের দিকে একটু অগ্রসর হইয়া কহিল, কত্তা বুড়ো মানুষ ডুকরে কাঁদতি লেগেছে, এট্টু দয়া করেন–ওগোরে পথে বের করবেন না…

জনার্দন বাবু রুখিয়া উঠিয়া কহিলেন, ও ব্যাটার কান্নাতেই আমাদের খতের টাকা পরিশোধ হবে নাকি?

মোড়ল মিনতি করিয়া কহিল, না বাবু, আমি সে কথা কই নি। এক্ষণি ওগোরে বাড়ি হতি তাড়াবেন না তাই কই। কিছুদিন সোমায় দিলি ও আপনার এট্টা মাথা গোঁজবার জাগা করে নিতে পারবে…

পাছে বাগানবাড়ির পত্তন করিতে বিলম্ব হইয়া পড়ে, এ ভয়ে জনার্দন বাবু অধীর হইয়া বলিয়া উঠিলেন, না না, ওসব হবে টবে না বাপু। আমরা আজই দখল নেব।

মোড়ল কহিল, তা নেন, কত্তা; কিন্তু ওগোরে দিন কতেক থাতি দেন…

এদিকে মদন দরজার সম্মুখে আড় হইয়া পড়িয়াই আছে। দিগম্বর ঘোষ অতিষ্ঠ হইয়া উঠিয়া কহিলেন, ওঠ, নইলে তোকে ডিঙ্গিয়ে আমরা বাড়ির ভিতর ঢুকব…

এই কথায় আরো একজন প্রতিবেশী দয়াপরবশ হইয়া কহিল, ঘোষ মশাই, দখল তো আপনার হলই, তা এখন বাড়ির মদ্দি গে ওগোরে বেইজ্জত করে আর আপনাগোর লাভ কী হবে? এট্টু থামেন, আমরা মদন গাজীর পরিবারগোরে সরায়ে নে যাই। আপনারা যদি দোরডা এট্টু ছাড়েন, তয় আমরা বাড়ি খালি করি।

পেয়াদা তখন বলিয়া উঠিল, আরে, তোমরা সেই ফাঁকে জিনিসপত্তরগুলোও সরাও আর কি?

মদন উঠিয়া বসিয়া বলিয়া উঠিল, হায় হায় প্যাদাজী, জিনিসপত্তর কি কিছু আছে! কিছু নেই রে আল্লা কিছু নেই! বউডোর এট্টা বদনা ছিল, তাও আজ কদ্দিন হল বেচে খাইচি– ছাওয়ালডার জ্বর হল, কদ্দিন কাজে যাতি পাল্লে না, কচি বউডোরে কাঁদায়ে নিজিরগোর প্যাট্টা ভল্লাম–। বলিতে বলিতে বৃদ্ধের শ্বেত শ্মশ্রুজি বাহিয়া দরবিগলিতধারে অশ্রু গড়াইয়া পড়িতে লাগিল।

এমন সময় বাড়ির ভিতর হইতে স্ত্রীলোকদিগের যুগপৎ ক্রন্দন এবং চিৎকার শোনা গেল। ব্যাপার কী জানিবার জন্য ব্যস্ত হইয়া মদন তাড়াতাড়ি উঠিয়া বাড়ির ভিতর যাইতেছিল, এমন সময় তাহার বৃদ্ধা স্ত্রী দরজার কাছে আসিয়া উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করিতে করিতে কহিল, ওগো আল্লা গো, কী হবে গো আমার সাদেক গাঙ্গে ঝাঁপ দেছে গো, –ওরে আমার সোনার যাদু রে– ভিটেমাটি সব গেলে সেই দুঙ্কে আমার যাদু পানিতে ডুব দেছে রে আল্লা! হা হা হা হা…

এদিকে স্ত্রীর মুখে এই কথা শুনিতে শুনিতে হতভাগ্য মদন দড়াম করিয়া আছাড় খাইয়া পড়িল। বাড়ির ভিতরে-বাহিরে একটা শোরগোল পড়িয়া গেল–এক দিক হইতে স্ত্রীলোকেরা অন্য দিক হইতে প্রতিবেশীরা ছুটিয়া দরজার কাছে আসিয়া দেখিল, বৃদ্ধ মদন চৌকাঠের উপর মূৰ্ছিত হইয়া পড়িয়া আছে।

গ্রন্থাবলী
মতামত জানান