Skip to content
এটি একটি উন্মুক্ত গ্রন্থাগার
এখানে বর্তমানে ২৯ জন লেখকের ২২৬টি বই রয়েছে যার পাতার সংখ্যা ৩,২৮৩টি।

আজ শনিবার,

২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, গ্রীষ্মকাল,

৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,

২৬শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি,

এখন বাংলাদেশ মান সময় দুপুর ১:০৩ মিনিট

নির্বাচিত প্রবন্ধ

  • সবিতা ও গায়ত্রী

    আকাশ-দেবতাদিগের কথা বলিয়াছি। তার পর সূর্য্য-দেবতাদিগের কথা বলিতেছিলাম। সূর্য্য-দেবতা, সূর্য্য, ভগ, অর্য্যমা, পূষা, মিত্র, সবিতা, বিষ্ণু। ইহার মধ্যে সূর্য্যের কোন কথা বলিবার প্রয়োজন নাই-চেনা জিনিষ। ভগ, অর্য্যমা, পূষা ও মিত্র সম্বন্ধে কিছু কিছু বলা গিয়াছে। বিষ্ণুর কথা এখন বলিব না-পৌরাণিক তত্ত্বের আলোচনায় তাঁহার সম্বন্ধে অনেক কথা বলিতে হইবে। অতএব এক্ষণে কেবল সবিতাই আমাদের আলোচ্য।

    কিন্তু সবিতাকে লইয়া বড় গোলযোগ। সূর্য্যের নাম সবিতা, ইহা বালকেও জানে। কিন্তু প্রসিদ্ধ গায়ত্রী নামক মন্ত্রে যেখানে সবিতা আছেন (“তৎসবিতু”) সেখানে তিনি স্বয়ং পরব্রহ্ম পরমেশ্বর বলিয়া পরিচিত, অনেকেই সবিতা অর্থে জগৎস্রষ্টাকেই বুঝেন। এ কথা আমাদের বিচার্য্য। পূষা বা মিত্রের মত তাঁহাকে অপ্রচলিতের মধ্যে ফেলিয়া তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করিতে পারি না-কেন না, তিনি আর্য্য ব্রাহ্মণের উপর বড় আধিপত্য বিস্তার করিয়াছেন। যে গায়ত্রীকে ব্রাহ্মণেরা আপনাদের ব্রাহ্মণ্যের ও উপাসনার সার ভাগ মনে করেন, তিনি সেই গায়ত্রীর দেবতা। গায়ত্রী কেবল তাঁরই স্তব। সুতরাং এ কথাটা আগে মীমাংসার প্রয়োজন-তিনি কেবল একটা বৃহৎ জড়পিণ্ড, না সর্ব্বস্রষ্টা, অনন্তচৈতন্য পরমেশ্বর? আমরা নিরপেক্ষ হইয়া এ বিষয়ের মীমাংসার চেষ্টা করিব। আমরা সবিতাকে সূর্য্য-দেবতা মধ্যে গণিয়াছি বটে, কিন্তু সে মতের বিরুদ্ধে কতকগুলি কথা আছে, তাহাও দেখাইতে হইবে।

    “সু” ধাতু হইতে সবিতৃ শব্দ নিষ্পন্ন হইয়াছে। তবেই সবিতা অর্থে প্রসবিতা। কাহার প্রসবিতা? নিরুক্তকার যাস্ক বলেন, “সর্ব্বস্য প্রসবিতা”। সায়নাচার্য্য গায়ত্রীর ব্যাখ্যা কালে “তৎসবিতুঃ” ইতি বাক্যের অর্থ করেন, “জগৎপ্রসবিতুঃ”। যদি তাই হয়, তাহা হইলে সবিতা, পরব্রহ্ম পরমেশ্বর। রঘুনন্দন ভট্টাচার্য্য প্রভৃতিও “তৎসবিতুঃ” শব্দের ব্যাখ্যা পরব্রহ্ম পক্ষে করিয়া থাকেন। বেদের এক স্থানে তাঁহাকে “প্রজাপতি” বলা হইয়াছে। আর এক স্থানে বলা হইয়াছে যে, ইন্দ্র, বরুণ, মিত্র, অর্য্যমা, রুদ্র, কেহই তাঁহার বিরোধী হইতে পারে না। জলবায়ু তাঁহার আজ্ঞাকারী। অন্য দেবতারা তাঁহার অনুযায়ী। বরুণ, মিত্র, ...

আপডেট

  • সমাদ্দারের চাবি

    সমাদ্দারের চাবি প্রথম প্রকাশিত হয় সন্দেশ, শারদীয়া ১৩৮০ সংখ্যায়; গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ‘আরো এক ডজন’ গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত হয়ে এপ্রিল ১৯৭৬-এ আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে। প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ সত্যজিৎ রায়। জানুয়ারি ১৯৯৬-এ ‘ফেলুদা একাদশ’ ...

  • ফেলুচাঁদ

    ফেলুদার গল্প যারা পড়েনি, তারা ঠকেছে! ভাল জিনিস উপভোগ না করতে পারার দুঃখ আর কিছুতে নেই। মূল বাংলা ভাষায় যারা পড়তে পাবে না, তাদের জন্য অন্তত পাঁচটা ভারতীয় ভাষা এবং চারটে বিদেশি ভাষায় ফেলুদা ...

  • খসড়া খাতায় ফেলুদা

    ভারী বিপদে পড়লাম। সন্দেশ’-এর এই বিশেষ সংখ্যায় ফেলুদাকে নিয়ে এতজনে লিখছেন যে, বিষয়ের মিল হয়ে যাবার একটা আশঙ্কা থাকে। এখন এই সমস্যাকে এড়ানো যায় কীভাবে? অগত্যা সব থেকে নিরাপদ রাস্তাটাই বেছে নিলাম—ফিরে গেলাম বাবার ...

  • দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    এক পশলা বৃষ্টি হইয়াছিল রাত্রে। আজহার সকালেই লাঙল কাঁধে মাঠে চলিয়া গিয়াছে। এক মাইল দূরে তার জমি। দুপুরের রৌদ্রে বাড়ি ফিরিয়া খাওয়াদাওয়া করা যায়; কিন্তু আবার মাঠে ফিরিয়া আসা পণ্ডশ্রম। এইজন্যে আমজাদ দুপুরের ভাত ...

  • প্রথম পরিচ্ছেদ

    প্রহর সন্ধ্যা উত্তীর্ণ।

    উঠানের উপরে রান্নাঘর। উপরে কোনো খড়ের ছাউনি নাই। কয়েকটি বাঁশের খুঁটি ও কঞ্চির ছায়ারেখা আগুনের ঝলকে মাঝে মাঝে চোখে পড়ে। আরো একটি রান্নাঘর আছে উঠানের দক্ষিণে। গ্রীষ্মের দিনে কুঁড়েঘরের ভিতর রান্নার ...

Scroll Up