Skip to content
এডুলিচার পাঠশালায় স্বাগতম!
এটি একটি উন্মুক্ত গ্রন্থাগার

আজ শনিবার,
৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২রা সফর, ১৪৪২ হিজরি, শরৎকাল,
এখন বাংলাদেশ মান সময় রাত ৮:৪৩ মিনিট

এডুলিচার পাঠশালায় ৩৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রাককথন

বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ-কর্মী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বঙ্কিমচন্দ্রের জন্ম ১৮৩৮ সালের ২৬ শে জুন, অধুনা চব্বিশ পরগণা জেলার অন্তর্গত নৈহাটির কাঁঠালপাড়া গ্রামে। বাবা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন মেদিনীপুরের কলেক্টর। নিয়মমাফিক পড়াশোনা শুরু বাবার কর্মস্থল মেদিনীপুর জেলার এক ইংরেজি স্কুলে। পরে কাঁঠালপাড়ায় ফিরে হুগলি কলেজে। ১৮৫৬ সালে বঙ্কিমচন্দ্র আইন পড়বার জন্য প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন এবং ১৮৫৭তে সেখান থেকে প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স পরীক্ষা পাশ করেন। ১৮৫৮ সালে সদ্য প্রতিষ্ঠিত কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বি.এ.পরীক্ষায় বঙ্কিমচন্দ্র দ্বিতীয় বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। আইন পড়া শেষ হওয়ার আগেই যশোরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কলেক্টরের চাকরি পান।
বঙ্কিমী সাহিত্যের বিশেষত্ব এককথায় তার রসায়নে। বৌদ্ধিক রসের সঙ্গে সাহিত্য রসের এমন মিশেল পরবর্তী বাংলা সাহিত্যেও বিরল। না বললেও বোঝা যায়; সমসাময়িক জাতীয়তাবাদের ঝোড়ো হাওয়ায় বাংলা-বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নির্মাণকল্পে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর সাহিত্য-রচনার সমস্ত শক্তি ঢেলে দিলেও, তাঁর মননসঞ্জাত রসই বাংলা সাহিত্যকে প্রথম আধুনিকতার আলো দেখিয়েছিল। এককথায় বলতে গেলে, একদিকে উপন্যাসের কাব্য অন্যদিকে প্রবন্ধ তথা গদ্যের বিজ্ঞান, তার সঙ্গে কিছু গান, কবিতা ও ভারতবর্ষ – সব মিলিয়েই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
নতুন বিশ্বে নতুন প্রথায় নতুন রুচির পরিসরে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া একটা নাগরিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। শুধু তাই নয়, প্রাচীন সাহিত্য পাঠের মধ্যে দিয়ে মানুষেরও সুযোগ ঘটে কালানুক্রমিক রুচিবোধ ও সংস্কৃতির সম্পর্ক যাচাই করে দেখার। সেই সঙ্গে সমাজ, সংস্কৃতি, মানবিক বোধ, রাজনীতি, সাহিত্য, সমস্ত কিছু নিয়ে মহান চিন্তাবিদ, রচয়িতাদের বক্তব্য সম্পর্কে মানুষের বর্তমান সংস্কারের আদান-প্রদান ঘটাও জরুরি। আর সব কিছু বাদ রাখলেও কালজয়ী, কলোত্তীর্ণ সাহিত্যের স্বাদ যুগে যুগে রসিক পাঠকের কাছে তো সব সময়ই আদরের।

নির্বাচিত রচনা

  • দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
    উদ্যোগ মাণিকলালেরই বেশী। তাহার একটা নমুনা সে একদিন নির্মলকুমারীকে দেখাইল। নির্মল সবিস্ময়ে দেখিল, তাহার কাটা আঙ্গুলের স্থানে আবার নূতন আঙ্গুল হইয়াছে। সে মাণিকলালকে জিজ্ঞাসা করিল, “এ আবার কি?”
    মাণিকলাল বলিল, “গড়াইয়াছি৷”
    নির্মল। কিসে?
    মাণিক। হাতীর দাঁতে। কলকব্জা বেমালুম লাগাইয়াছি, তাহার উপর ছাগলের পাতলা চামড়া মুড়িয়া আমার গায়ের মত রঙ করিয়াছি। ইচ্ছানুসারে খোলা হয়, পরা যায়।
    নির্মল। এর দরকার?
    মাণিক। দিল্লীতে জানিতে পারিবে। দিল্লীতে ছদ্মবেশের দরকার হইতে পারে। আঙ্গুলকাটার ছদ্মবেশ চলে না। কিন্তু দুই রকম হইলে খুব চলে।
    নির্মল হাসিল। তার পর মাণিকলাল একটি পিঞ্জরমধ্যে একটা পোষা পায়রা লইল। এই পারাবতটি অতিশয় সুশিক্ষিত। দৌত্যকার্য্যে সুনিপুণ। যাঁহারা আধুনিক ইউরোপীয় যুদ্ধে ‘Carrier-pigeon’ গুলির গুণ অবগত আছেন, তাঁহারা ইহা বুঝিতে পারিবেন। পূর্বে ভারতবর্ষে এই জাতীয় শিক্ষিত পারাবতের ব্যবহার চলিত ছিল। পারাবতের গুণ মাণিকলাল সবিশেষ নির্মলকুমারীকে বুঝাইয়া দিলেন।
    রীতি ছিল যে, দিল্লীর বাদশাহের নিকট দূত পাঠাইতে হইলে, কিছু উপঢৌকন সঙ্গে পাঠাইতে হয়। ইংলণ্ড, পর্ত্তুগাল প্রভৃতির রাজারাও তাহা পাঠাইতেন। রাজসিংহও কিছু দ্রব্যসামগ্রী মাণিকলালের সঙ্গে পাঠাইলেন। তবে, অপ্রণয়ের দৌত্য, বেশী সামগ্রী পাঠাইলেন না।
    অন্যান্য দ্রব্যের মধ্যে শ্বেতপ্রস্তরনির্মিত, মণিরত্নখচিত কারুকার্যযুক্ত কতকগুলি সামগ্রী পাঠাইলেন। মাণিকলাল তাহা পৃথক বাহনে বোঝাই করিয়া লইলেন।
    অবধারিত দিবসে রাণার আজ্ঞালিপি ও পত্র লইয়া, নির্মল কুমারী সমভিব্যাহারে, দাস-দাসী, লোকজন, হাতী-ঘোড়া, উট-বলদ, শকট, এক্কা, দোলা, রেশালা প্রভৃতি সঙ্গে লইয়া বড় ঘটার সহিত ...
Scroll Up